আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরের মনোসন্তোষপুরে অবস্থিত তাজরিন গার্মেন্টসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহতদের মধ্যে ৫৮টি মৃতদেহ এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। সোমবার সকালে এ লাশগুলোর ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে।
সিআইডির ফরেনসিক বিভাগ লাশগুলোর ডিএনএ পরীক্ষা করবে বলে জানা গেছে। লাশ দাফনের দায়িত্বে থাকা আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের সহকারী পরিচালক আবদুর হালিম রোববার সন্ধ্যায় এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় লাশগুলো দু’টি পিকআপযোগে আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে আনা হয়।
আবদুর হালিম বলেন, ‘‘আশুলিয়া থানা পুলিশ রোববার বেলা তিনটায় শনাক্ত না হওয়া ৫৮টি লাশ আমাদের কাছে হস্তান্তর করে। লাশগুলো আমরা নিয়ে এসেছি। কোনো লাশের আত্মীয় এসে যদি শনাক্ত করতে পারেন তবে তা হস্তান্তর করা হবে।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘যে লাশগুলো শনাক্ত করা সম্ভব হবে না সেগুলোর নমুনা সংগ্রহের জন্য সোমবার ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে। পরীক্ষার পর লাশগুলো জুরাইনের কবরস্থানে দাফন করা হবে।’’
তিনি বলেন, ‘‘রোববার সকালে চারটি লাশের দু’টি শনাক্ত করে স্বজনরা নিয়ে গেছে।’’
সকালে পাওয়া দু’টিসহ মোট ৬০টি লাশ এখন ঢামেক মর্গে আছে। এতগুলো লাশ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে মর্গ কর্তৃপক্ষ। মর্গের লাশ রাখার ফ্রিজগুলো (মরচুয়ারি কুলার) দীর্ঘদিন ধরেই নষ্ট বলে জানা গেছে। তার ওপর মর্গের সবোর্চ্চ ধারণ ক্ষমতা ১০ থেকে ১২টি লাশ। এ ব্যাপারে মর্গ কর্তৃপক্ষও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
৫৮টি লাশ মর্গে স্থানান্তরের সময় উপস্থিত ছিলেন সিআইডির ক্রাইম টিমের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মর্তুজা কবীর।
এদিকে নিখোঁজ আত্নীয় স্বজনের খোঁজে ঢামেক মর্গে স্বজনহারা মানুষের ভীড় ক্রমেই বাড়ছে। লাশগুলো এতোই বিকৃত হয়ে গেছে যে এগুলো শনাক্তেরও কোনো উপায় নেই তাদের কাছে।


0 মন্তব্য:
Post a Comment
আপনার মতামত দিন