সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনের পদ্মাসেতু দুর্নীতির অভিযোগের
রেশ কাটতে না কাটতে এবার অভিযোগ উঠেছে তার ব্যবসায়িক অংশীদার খোরশেদ আলমের
বিরুদ্ধে। খুলনার ১৫০ মেগাওয়াট পিকিং পাওয়ার প্লান্ট নির্মাণে সর্বনিম্ন
দরদাতাকে উপেক্ষা করে তিনি এক বিদেশি কোম্পানিকে কাজ দিয়ে ২২৫ কোটি টাকা
অপচয় করেছেন।
তবে এ বিষয়ে বাংলানিউজের কাছে নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক খোরশেদ আলমের দাবি, ‘আপাতদৃষ্টিতে বেশি দরে দেওয়া মনে হলেও এতে রাষ্ট্রের কোনো অপচয় হয়নি।’
তিনি বলেন, “আইসোলেক্স কোরাসানের চেয়ে অন্য একটি প্রতিষ্ঠান ২২৫ কোটি টাকা কম দর প্রস্তাব দিয়েছিল, এ কথা ঠিক। তবে আইসোলেক্স কোরাসানের প্ল্যান্ট এফিসিয়েন্সি ৩৭ শতাংশ। আর কম দর জমা দেওয়া কোম্পানিটির প্লান্ট এফিসিয়েন্সি ৩৩ শতাংশ। এ হিসেবে বরং বলা যায়, বিদ্যুৎকেন্দ্রটির ইকোনমিক লাইফ (আর্থিক আয়ুষ্কাল) মূল্যায়নে সরকারের ৪০০ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে।”
অভিযোগ রয়েছে, আইসোলেক্স কোরাসান নামের যে কোম্পানিকে কাজ দেওয়া হয়েছে তার বেশিরভাগ কাগজই ভুয়া। দরপত্র মূল্যায়ন পরামর্শক প্রতিষ্ঠানও কোম্পানিটিকে প্রাথমিক তালিকা থেকে বাতিলই করেছিল।
অযোগ্য এই কোম্পানিকে কাজ দেওয়ার জন্য সাবেক মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছিলেন বলে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) একটি সূত্র জানিয়েছে। আর আবুল হোসেনের মনোনীত কোম্পানিকে কাজ দেওয়ার জন্য দরপত্র মূল্যায়ন পরামর্শক প্রতিষ্ঠানকেও পরিবর্তন করা হয়।
এদিকে আবুল হোসেনের হস্তক্ষেপ করার কারণ খুঁজতে গিয়ে জানা গেছে চমকপ্রদ তথ্য। কাজ পাওয়া কোম্পানিটির স্থানীয় কমিশন এজেন্ট হচ্ছেন আবুল হোসেনেরই মালিকানাধীন কোম্পানি সাঁকো ইন্টারন্যাশনাল। সাঁকো ইন্টারন্যাশনালের প্রভাব খাটিয়ে খুলনার ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজ বাগিয়ে নিয়েছে আইসোলেক্স কোরাসান।
২০০৮ সালে নর্থওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি খুলনায় ১৫০ মেগাওয়াটের একটি দ্বৈত-জ্বালানি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপানের দরপত্র আহবান করে। দরপত্রে সাতটি বিদেশি কোম্পানি অংশ নেয়। এর মধ্যে চারটি কোম্পানি আবশ্যিক শর্ত (মাস্ট কনডিশন) পূরণ করতে সক্ষম হওয়ায় দরপত্র মূল্যায়ন পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এগুলোকে প্রাথমিক কৃতকার্য হিসেবে ঘোষণা করে।
আইসোলেক্স কোরাসান আবশ্যিক শর্ত পালন না করায় দরপত্র মূল্যায়ন পরামর্শক প্রতিষ্ঠান তাকে প্রাথমিক তালিকা থেকে বাদ দেয়। সেই সঙ্গে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান আইসোলেক্স কোরাসানের কাগজপত্রকে জাল বলে অভিহিত করে।
দরপত্র মূল্যায়ন শেষে যে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয় তাতে চারটি কোম্পানি শর্ত পালনে সক্ষম হয়। এ চার কোম্পানি হলো- চায়না ইপিসিপি, সিএনএমআইইসি, চায়না ন্যাশনাল ইলেকট্রিক ইকুইপমেন্ট করপোরেশন ও স্যাংডং ইলেকট্রিক পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং কানসালটিং ইনস্টিটিউট।
এর মধ্যে সর্বনিম্ন দরদাতা ছিল সিনো জাইড্রো চায়না। তবে এ চার কোম্পানির কোনোটিই কাজ পায়নি।
‘নর্থওয়েন্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি খুলনায় ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণের জন্য মালেশিয়ার কোম্পানি ‘মিন কনসাল্ট এসডিএন বিএইচডি’ ও বাংলাদেশের ‘মর্ডান ইঞ্জিনিয়ার্স প্ল্যানার্স কনসালট্যান্টস এর সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়। উভয় প্রতিষ্ঠান ২০০৮ সালের জুলাই মাসে কাজ শুরু করে।
এ পরামর্শক প্রতিষ্ঠান দু’টি নিয়োগ করা হয়েছিল ৩০ মাসের জন্য। কোম্পানি দু’টি দরপত্র মূল্যায়ন করে জমা দেয় নর্থওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি কাছে। এই মূল্যায়নে চারটি কোম্পানি আবশ্যকীয় শর্ত পূরণের কারণে প্রথম চারে জায়গা পায়।
খুলনা ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য মালয়েশিয়ার ‘মিন কনসাল্ট এসডিএন বিএইচডি’ ও বাংলাদেশের ‘মর্ডান ইঞ্জিনিয়ার্স প্ল্যানার্স কনসালট্যান্ট’কে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিয়োগ দেয় নর্থওয়েস্ট পাওয়ার কোম্পানি। আবশ্যিক শর্ত পূরণ না করার কারণে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান দু’টি দরপত্রে অংশ নেওয়া চারটি বাদে অন্য তিনটি কোম্পানিকে অযোগ্য ঘোষণা করে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আইসোলেক্স কোরাসান প্রথম স্তরের যোগ্যতার আবশ্যিক ৩০ শর্তের ২২টিতেই অযোগ্য। ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য দরপত্রে যোগ্যতা চাওয়া হয়েছিলো ২শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের ৩ বছরের অভিজ্ঞতা। আইসোলেক্স কোরাসান ৩ বছরের যে অভিজ্ঞতার সনদ দিয়েছে সেটি জাল বলে অভিযোগ উঠেছে।
বাস্তবে তাদের এ ধরনের বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কোনোই অভিজ্ঞতা নেই। শুধু অভিজ্ঞতার সনদপত্রই জাল নয়, সিল-সইও জাল। আইসোলেক্স কোরাসান স্পেনের প্রতিনিধি হিসেবে এসকে ভট্টাচার্য আমমোক্তার নামা জমা দিলেও বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজ পেয়েছে আইসোলেক্স কোরাসান ভারত।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটা নজিরবিহীন। কারণ কাজ দেওয়া হয়েছে আইসোলেক্স কোরাসান স্পেনকে, ভারতকে নয়।
দরপত্রে শর্ত হিসেবে কোম্পানিকে বাংলাদেশে নিযুক্ত নিজ দেশের রাষ্ট্রদূত কর্তৃক গ্যারান্টি নিতে হবে। অথচ আইসোলেক্স কোরাসানের বেলায় এসব আবশ্যকীয় শর্ত পূরণের প্রয়োজন পড়েনি।
দরপত্রের শর্ত অনুসারে বিদ্যুতের টারবাইন ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ প্রস্তুতকারী কোম্পানির পক্ষ থেকে গ্যারান্টি সনদ বাধ্যতামূলক করা হয়েছিলো। অর্থাৎ সরবরাহের নিশ্চয়তা প্রদান সাপেক্ষে টারবাইনে কোনো সমস্যা দেখা দিলে টারবাইন ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ প্রস্তুতকারক কোম্পানি সমস্যা নিরসনে বাধ্য থাকবে।
কিন্তু আইসোলেক্স কোরসানের বেলায় তা হয়নি। বিদ্যুৎকেন্দ্রের টারবাইন ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ কেনার বিষয়ে চুক্তি করেছে ফ্রান্সের অ্যালোসথাম এর সঙ্গে। অ্যালোসথামের সঙ্গে আইসোলেক্সের চুক্তিতে বলা হয়েছে, অ্যালোসথাম কোনো ধরনের গ্যারান্টি দিচ্ছে না।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) এর এক কর্মকর্তা নাম না প্রকাশ করার শর্তে বাংলানিউজকে বলেন, “তারা বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের যেসব অভিজ্ঞতার সনদ দরপত্রের সঙ্গে জমা দিয়েছে তার সবই নকল, স্থানীয়ভাবে বানানো। বাস্তবে তাদের এরকম কোনো অভিজ্ঞতাই নেই।”
ওই কর্মকর্তা আরো জানান যে, চার কোম্পানি প্রাথমিক যোগ্যতা যাচাইয়ে এগিয়ে ছিলো। কোম্পানিগুলো বিশ্বখ্যাত সিমেন্সের গ্যাস টারবাইন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো। এই চার কোম্পানির কাগজপত্রও সঠিক ছিলো।
কিন্তু বাধ সাধে পিডিবির উচ্চ পর্যায়ের কিছু কর্মকর্তা। তাদের নির্দেশে আবারো দরপত্র মূল্যায়ন করার জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠান দু’টিকে বলা হয়।
এ অবস্থায় কনসালট্যান্ট ফার্ম দু’টি রাজি না হওয়ায় তাদের বেতন ভাতা বন্ধ করে দেয় নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি। পাওনা বকেয়ার মধ্যে রয়েছে দেশীয় পরামর্শক প্রকৌশলী জাফরুল্লার ১৪ মাসের বেতন।
দ্বিতীয়বার মূল্যায়নের জন্য বাংলাদেশের ‘মর্ডান ইঞ্জিনিয়ার্স প্ল্যানার্স কনসালট্যান্টকে বাদ দেওয়া হয়। আর সেই মূল্যায়নে কাজ পায় আইসোলেক্স কোরাসান।
সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী আবুল হোসেনের কোম্পানি সাঁকো ইন্টারন্যাশনাল ওই কোম্পানির (আইসোলেক্স কোরাসান) দেশীয় এজেন্ট কিনা তা তার জানা নেই বলে জানান নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক।
তিনি বলেন,“ সাঁকো ইন্টারন্যাশনাল যদি আইসোলেক্সের দেশীয় এজেন্ট হতো তাহলে মাঠে তাদের দেখা যেত। তিনি কোনোদিনই সাঁকো ইন্টারন্যাশনালের লোকদের প্রকল্প এলাকায় দেখেননি।”
উল্লেখ্য, খুলনা জেলার গোয়ালপাড়ায় নির্মাণ হতে যাওয়া গ্যাস ও ডিজেল ভিত্তিক এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র আগামী বছরের মে মাসে উৎপাদনে আসার কথা। এরই মধ্যে এর ৬০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন নর্থ -ওয়েস্টের এমডি।
গত সোমবার সরেজমিন পরিদর্শন ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। জানান, প্যাডে জেনারেটর তোলা হয়েছে, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই প্যাডে টারবাইন তোলা হবে।
এ বিষয়ে অনেক চেষ্টা করেও সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী আবুল হোসেনের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
তবে এ বিষয়ে বাংলানিউজের কাছে নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক খোরশেদ আলমের দাবি, ‘আপাতদৃষ্টিতে বেশি দরে দেওয়া মনে হলেও এতে রাষ্ট্রের কোনো অপচয় হয়নি।’
তিনি বলেন, “আইসোলেক্স কোরাসানের চেয়ে অন্য একটি প্রতিষ্ঠান ২২৫ কোটি টাকা কম দর প্রস্তাব দিয়েছিল, এ কথা ঠিক। তবে আইসোলেক্স কোরাসানের প্ল্যান্ট এফিসিয়েন্সি ৩৭ শতাংশ। আর কম দর জমা দেওয়া কোম্পানিটির প্লান্ট এফিসিয়েন্সি ৩৩ শতাংশ। এ হিসেবে বরং বলা যায়, বিদ্যুৎকেন্দ্রটির ইকোনমিক লাইফ (আর্থিক আয়ুষ্কাল) মূল্যায়নে সরকারের ৪০০ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে।”
অভিযোগ রয়েছে, আইসোলেক্স কোরাসান নামের যে কোম্পানিকে কাজ দেওয়া হয়েছে তার বেশিরভাগ কাগজই ভুয়া। দরপত্র মূল্যায়ন পরামর্শক প্রতিষ্ঠানও কোম্পানিটিকে প্রাথমিক তালিকা থেকে বাতিলই করেছিল।
অযোগ্য এই কোম্পানিকে কাজ দেওয়ার জন্য সাবেক মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছিলেন বলে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) একটি সূত্র জানিয়েছে। আর আবুল হোসেনের মনোনীত কোম্পানিকে কাজ দেওয়ার জন্য দরপত্র মূল্যায়ন পরামর্শক প্রতিষ্ঠানকেও পরিবর্তন করা হয়।
এদিকে আবুল হোসেনের হস্তক্ষেপ করার কারণ খুঁজতে গিয়ে জানা গেছে চমকপ্রদ তথ্য। কাজ পাওয়া কোম্পানিটির স্থানীয় কমিশন এজেন্ট হচ্ছেন আবুল হোসেনেরই মালিকানাধীন কোম্পানি সাঁকো ইন্টারন্যাশনাল। সাঁকো ইন্টারন্যাশনালের প্রভাব খাটিয়ে খুলনার ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজ বাগিয়ে নিয়েছে আইসোলেক্স কোরাসান।
২০০৮ সালে নর্থওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি খুলনায় ১৫০ মেগাওয়াটের একটি দ্বৈত-জ্বালানি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপানের দরপত্র আহবান করে। দরপত্রে সাতটি বিদেশি কোম্পানি অংশ নেয়। এর মধ্যে চারটি কোম্পানি আবশ্যিক শর্ত (মাস্ট কনডিশন) পূরণ করতে সক্ষম হওয়ায় দরপত্র মূল্যায়ন পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এগুলোকে প্রাথমিক কৃতকার্য হিসেবে ঘোষণা করে।
আইসোলেক্স কোরাসান আবশ্যিক শর্ত পালন না করায় দরপত্র মূল্যায়ন পরামর্শক প্রতিষ্ঠান তাকে প্রাথমিক তালিকা থেকে বাদ দেয়। সেই সঙ্গে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান আইসোলেক্স কোরাসানের কাগজপত্রকে জাল বলে অভিহিত করে।
দরপত্র মূল্যায়ন শেষে যে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয় তাতে চারটি কোম্পানি শর্ত পালনে সক্ষম হয়। এ চার কোম্পানি হলো- চায়না ইপিসিপি, সিএনএমআইইসি, চায়না ন্যাশনাল ইলেকট্রিক ইকুইপমেন্ট করপোরেশন ও স্যাংডং ইলেকট্রিক পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং কানসালটিং ইনস্টিটিউট।
এর মধ্যে সর্বনিম্ন দরদাতা ছিল সিনো জাইড্রো চায়না। তবে এ চার কোম্পানির কোনোটিই কাজ পায়নি।
‘নর্থওয়েন্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি খুলনায় ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণের জন্য মালেশিয়ার কোম্পানি ‘মিন কনসাল্ট এসডিএন বিএইচডি’ ও বাংলাদেশের ‘মর্ডান ইঞ্জিনিয়ার্স প্ল্যানার্স কনসালট্যান্টস এর সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়। উভয় প্রতিষ্ঠান ২০০৮ সালের জুলাই মাসে কাজ শুরু করে।
এ পরামর্শক প্রতিষ্ঠান দু’টি নিয়োগ করা হয়েছিল ৩০ মাসের জন্য। কোম্পানি দু’টি দরপত্র মূল্যায়ন করে জমা দেয় নর্থওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি কাছে। এই মূল্যায়নে চারটি কোম্পানি আবশ্যকীয় শর্ত পূরণের কারণে প্রথম চারে জায়গা পায়।
খুলনা ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য মালয়েশিয়ার ‘মিন কনসাল্ট এসডিএন বিএইচডি’ ও বাংলাদেশের ‘মর্ডান ইঞ্জিনিয়ার্স প্ল্যানার্স কনসালট্যান্ট’কে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিয়োগ দেয় নর্থওয়েস্ট পাওয়ার কোম্পানি। আবশ্যিক শর্ত পূরণ না করার কারণে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান দু’টি দরপত্রে অংশ নেওয়া চারটি বাদে অন্য তিনটি কোম্পানিকে অযোগ্য ঘোষণা করে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আইসোলেক্স কোরাসান প্রথম স্তরের যোগ্যতার আবশ্যিক ৩০ শর্তের ২২টিতেই অযোগ্য। ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য দরপত্রে যোগ্যতা চাওয়া হয়েছিলো ২শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের ৩ বছরের অভিজ্ঞতা। আইসোলেক্স কোরাসান ৩ বছরের যে অভিজ্ঞতার সনদ দিয়েছে সেটি জাল বলে অভিযোগ উঠেছে।
বাস্তবে তাদের এ ধরনের বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কোনোই অভিজ্ঞতা নেই। শুধু অভিজ্ঞতার সনদপত্রই জাল নয়, সিল-সইও জাল। আইসোলেক্স কোরাসান স্পেনের প্রতিনিধি হিসেবে এসকে ভট্টাচার্য আমমোক্তার নামা জমা দিলেও বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজ পেয়েছে আইসোলেক্স কোরাসান ভারত।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটা নজিরবিহীন। কারণ কাজ দেওয়া হয়েছে আইসোলেক্স কোরাসান স্পেনকে, ভারতকে নয়।
দরপত্রে শর্ত হিসেবে কোম্পানিকে বাংলাদেশে নিযুক্ত নিজ দেশের রাষ্ট্রদূত কর্তৃক গ্যারান্টি নিতে হবে। অথচ আইসোলেক্স কোরাসানের বেলায় এসব আবশ্যকীয় শর্ত পূরণের প্রয়োজন পড়েনি।
দরপত্রের শর্ত অনুসারে বিদ্যুতের টারবাইন ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ প্রস্তুতকারী কোম্পানির পক্ষ থেকে গ্যারান্টি সনদ বাধ্যতামূলক করা হয়েছিলো। অর্থাৎ সরবরাহের নিশ্চয়তা প্রদান সাপেক্ষে টারবাইনে কোনো সমস্যা দেখা দিলে টারবাইন ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ প্রস্তুতকারক কোম্পানি সমস্যা নিরসনে বাধ্য থাকবে।
কিন্তু আইসোলেক্স কোরসানের বেলায় তা হয়নি। বিদ্যুৎকেন্দ্রের টারবাইন ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ কেনার বিষয়ে চুক্তি করেছে ফ্রান্সের অ্যালোসথাম এর সঙ্গে। অ্যালোসথামের সঙ্গে আইসোলেক্সের চুক্তিতে বলা হয়েছে, অ্যালোসথাম কোনো ধরনের গ্যারান্টি দিচ্ছে না।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) এর এক কর্মকর্তা নাম না প্রকাশ করার শর্তে বাংলানিউজকে বলেন, “তারা বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের যেসব অভিজ্ঞতার সনদ দরপত্রের সঙ্গে জমা দিয়েছে তার সবই নকল, স্থানীয়ভাবে বানানো। বাস্তবে তাদের এরকম কোনো অভিজ্ঞতাই নেই।”
ওই কর্মকর্তা আরো জানান যে, চার কোম্পানি প্রাথমিক যোগ্যতা যাচাইয়ে এগিয়ে ছিলো। কোম্পানিগুলো বিশ্বখ্যাত সিমেন্সের গ্যাস টারবাইন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো। এই চার কোম্পানির কাগজপত্রও সঠিক ছিলো।
কিন্তু বাধ সাধে পিডিবির উচ্চ পর্যায়ের কিছু কর্মকর্তা। তাদের নির্দেশে আবারো দরপত্র মূল্যায়ন করার জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠান দু’টিকে বলা হয়।
এ অবস্থায় কনসালট্যান্ট ফার্ম দু’টি রাজি না হওয়ায় তাদের বেতন ভাতা বন্ধ করে দেয় নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি। পাওনা বকেয়ার মধ্যে রয়েছে দেশীয় পরামর্শক প্রকৌশলী জাফরুল্লার ১৪ মাসের বেতন।
দ্বিতীয়বার মূল্যায়নের জন্য বাংলাদেশের ‘মর্ডান ইঞ্জিনিয়ার্স প্ল্যানার্স কনসালট্যান্টকে বাদ দেওয়া হয়। আর সেই মূল্যায়নে কাজ পায় আইসোলেক্স কোরাসান।
সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী আবুল হোসেনের কোম্পানি সাঁকো ইন্টারন্যাশনাল ওই কোম্পানির (আইসোলেক্স কোরাসান) দেশীয় এজেন্ট কিনা তা তার জানা নেই বলে জানান নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক।
তিনি বলেন,“ সাঁকো ইন্টারন্যাশনাল যদি আইসোলেক্সের দেশীয় এজেন্ট হতো তাহলে মাঠে তাদের দেখা যেত। তিনি কোনোদিনই সাঁকো ইন্টারন্যাশনালের লোকদের প্রকল্প এলাকায় দেখেননি।”
উল্লেখ্য, খুলনা জেলার গোয়ালপাড়ায় নির্মাণ হতে যাওয়া গ্যাস ও ডিজেল ভিত্তিক এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র আগামী বছরের মে মাসে উৎপাদনে আসার কথা। এরই মধ্যে এর ৬০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন নর্থ -ওয়েস্টের এমডি।
গত সোমবার সরেজমিন পরিদর্শন ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। জানান, প্যাডে জেনারেটর তোলা হয়েছে, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই প্যাডে টারবাইন তোলা হবে।
এ বিষয়ে অনেক চেষ্টা করেও সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী আবুল হোসেনের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

0 মন্তব্য:
Post a Comment
আপনার মতামত দিন