আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে পোশাক কারখানায় অগ্নিকাণ্ড এবং চট্টগ্রামে ফ্লাইওভার ভেঙে প্রাণহানির ঘটনায় জাতীয় শোক পালন করা হচ্ছে মঙ্গলবার।
সকাল থেকে দেশের সব সরকারি-আধা সরকারি কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে। বন্ধ রাখা হয়েছে দেশের সব পোশাক কারখানা। সব কারখানায় কারখানায় উড়ছে কালো পতাকা।
এছাড়া সারা দেশের সব ধর্মের উপসনালয়ে বিশেষ মুনাজাত ও প্রার্থনার ব্যবস্থা করা হয়েছে নিহতদের আত্মার শঅন্তির জন্য।
সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে জাতীয় শোক পালনের এই সিদ্ধান্ত হয়।
বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইয়া সাংবাদিকদের বলেন, আশুলিয়া ও চট্টগ্রামের ঘটনায় মন্ত্রিসভায় শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয় এবং নিহতদের আত্মার মাগফেরাত ও আহতদের সুস্থতা কামনা করা হয়।
“মন্ত্রিসভা একইসঙ্গে আহত ও নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। নিহতদের প্রতি সম্মান জানাতে আগামীকাল সারাদেশে শোক পালনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।”
জাতীয় শোক দিবসে দেশের সব পোশাক কারখানায় ছুটি দেয়া হলেও অন্যান্য অফিস আদালত খোলা রয়েছে।
পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেছেন, “আজ প্রত্যেকটি পোশাক কারখানা বন্ধ থাকবে। একইসঙ্গে কারখানাগুলো যার যার মতো করে নিহত শ্রমিকদের আত্মর মাগফেরাত এবং আহত শ্রমিতদের সুস্থতা কামনা করবে।”
মঙ্গলবারের এই ছুটি শ্রমিকরা বেতনসহ ভোগ করবেন। বুধবার থেকে স্বাভাবিক কাজ চলবে সব কারখানায়।
“এখন আমাদের মূল কাজ আহত শ্রমিকদের জন্য উন্নতমানের চিকিৎসা নিশ্চিত করা। এজন্য বিজিএমইএর পক্ষ থেকে ছয় জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সার্বক্ষণিক নিয়োজিত রয়েছেন। এছাড়া যার যে প্রয়োজন তাকে সেই বিষয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।”
শোক দিবস উপলক্ষে বিজিএমইএর কারওয়ান বাজার কার্যালয় ও বিকেএমইএর নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়ে দোয়া মাহফিল ও কাঙ্গালি ভোজের আয়োজন করা হয়েছে। জোহরের নামাজের পর দোয়া মাহফিলও হবে।
নিট পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিকেএমইএর সহ-সভাপতি এম এ হাতেম বলেন, “বিকেএমইএর সদস্য সব কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একইসঙ্গে নারায়ণগঞ্জ অফিসে দোয়া মাহফিল ও কাঙ্গালিভোজের আয়োজন করা হয়েছে।”
শনিবার আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে তুবা গ্রুপের তৈরি পোশাক কারখানা তাজরিন ফ্যাশনসে স্মরণকালের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১১০ জন নিহত হন। একই দিনে চট্টগ্রামের বহদ্দারহাটে নির্মাণাধীন ফ্লাইওভার থেকে তিনটি কংক্রিটের গার্ডার ভেঙে পড়ে। এ ঘটনায় সোমবার পর্যন্ত ১৩ জনের লাশ উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকর্মীরা।
এই দুটি দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল; ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের ত্রাণ তহবিল এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের তহবিল থেকে সহায়তা করা হবে বলে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন।
অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঘটনায় সোমবার জাতীয় সংসদে শোক প্রস্তাবের ওপর অনির্ধারিত আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, আশুলিয়ায় তাজরিন ফ্যাশনসে আগুন পরিকল্পিতভাবে লাগানো হয়েছিল।
রামুতে সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস, পুলিশের ওপর সাম্প্রতিক হামলা এবং পোশাক কারখানায় আগুনের ঘটনা একসূত্রে গাঁথা বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় একটি রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠনের জন্য মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ও বেলার প্রধান নির্বাহীর কাছে নাম চেয়েছে হাই কোর্ট। পাশাপাশি প্রাণহানির জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেয়া হবে না- তা জানাতে বলেছে আদালত।
এদিকে বহদ্দারহাটে নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারের গার্ডার ভেঙে প্রাণহানির ঘটনায় প্রকল্প পরিচালকসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
প্রকল্প পরিচালক চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) নির্বাহী প্রকৌশলী হাবিবুর রহমানসহ তিন প্রকৌশলীকে ইতোমধ্যে বরখাস্ত করা হয়েছে।


0 মন্তব্য:
Post a Comment
আপনার মতামত দিন