র্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে সংলাপে অংশ না নেওয়ার কথা জানিয়ে দিয়েছে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি।
বৃহস্পতিবার দলটির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বিএনপির চিঠি কমিশন কার্যালয়ে পৌঁছে দেন।
এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “বৈঠকে কেন বসতে পারছি না তা জানিয়ে বিএনপি মহাসচিবের চিঠি সিইসি ও সচিবকে দেয়া হয়েছে।”
সহ দপ্তর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনিও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপির চিঠিতে বলা হয়েছে, “ছলে বলে কৌশলে যে কোনোভাবে ক্ষমতা আঁকড়ে ধরার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ একটি দলীয় সরকারের সীমাহীন ক্ষমতা ও প্রভাবের মুখে নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক স্বাধীনতা যে কতো অর্থহীন তা পূর্বেকার কমিশন কিছুটা হলেও উপলব্ধি করেছিল এবং পূর্বেকার কমিশনের কেউ কেউ এখনো তা প্রকাশ করে যাচ্ছেন। বর্তমান নির্বাচন কমিশন এই বাস্তবতা মেনে নিয়ে তাদের দায়িত্ব পালনে সচেষ্টা হলে তারা জনগণের সমর্থন লাভে সক্ষম হবে।”
“জাতীয় সংসদের সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্পর্কিত উপরোল্লিখিত সমস্যা ও বিষয়সমূহ জনগণের ইচ্ছা অনুযায়ী সমাধান করার চেষ্টা না করে শুধুমাত্র ভোটার তালিকা প্রস্তুতকরণ বা নির্বাচনী এলাকা নির্ধারণের মতো আনুষ্ঠানিক আলোচনার মাধ্যমে নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব হবে না।”
রোববার বিকাল ৩টায় সংসদীয় আসনের সীমানা পুননির্ধারণ বিষয়ে বিএনপির সঙ্গে সংলাপের সময় দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। এর দুই দিন আগে নিজেদের অবস্থান জানাল প্রধান বিরোধী দল।
অবশ্য আগে থেকেই তারা বলে আসছিল, বর্তমান কমিশনের সঙ্গে কোনো আলোচনায় তারা রাজি নয়। কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন ৫ সদস্যের বর্তমান কমিশনের নিয়োগ প্রক্রিয়াও নিয়েও তাদের প্রশ্ন রয়েছে।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের শরিক ইসলামী ঐক্যজোট, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ও ন্যাশনাল পিপলস úার্টি গত সোমবার থেকে শুরু হওয়া এ সংলাপে অংশ নেয়নি। এছাড়া ঐক্যবদ্ধ নাগরিক আন্দোলনও সংলাপে যায়নি।
গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ইসির সংলাপে এলেও নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিগত নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কোনো সংলাপে যায়নি বিরোধী দল।
জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল দাবি সিপিবির
বৃহস্পতিবার ইসির সংলাপে অংশ নিয়ে জামায়াতে ইসলামীসহ ‘স্বাধীনতা বিরোধী সব সাম্ú্রদায়িক দলের’ নিবন্ধন বাতিল করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি।
কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, “ওই দলের উদ্দেশ্য (জামায়াত) সংবিধানের মূল চেতনা ও সারমর্মের পরিপন্থী, যা রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বিধির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাই জমায়াতের নিবন্ধন বাতিল করা বিশেষভাবে জরুরি।”
সংলাপে দলটির পক্ষ থেকে নির্বাচনী ব্যবস্থার আমূল সংস্কারও দাবি করা হয়।
‘এলাকাভিত্তিক একক প্রতিনিধিত্ব’ বাদ দিয়ে ‘জাতীয়ভিত্তিক সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থা চালু, নির্বাচনী ব্যয় ৫ লাখ টাকা থেকে কমিয়ে ৩ লাখ টাকা এবং জামানত ৫ হাজার টাকা করার সুপারিশ করে কমিউনিস্ট পার্টি।
সীমানা পুনর্নির্ধারণে জনসংখ্যা, যাতায়ত ব্যবস্থা ও অতীত নির্বাচনী অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর পরামর্শ দেয় সিপিবি।
অন্যদের মধ্যে দলের সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর আহমদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য আহসান হাবিব লাবলু, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মাহবুব আলম, এ এন এরশাদ ও রুহিন হোসেন প্রিন্স সংলাপে অংশ নেন।
পিডিপি ও কল্যাণ পার্টি
বিদ্যমান সংসদীয় সীমানা অনুযায়ীই আগামী নির্বাচন করার জন্য নির্বাচন কমিশনকে প্রস্তাব দিয়েছেন কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম।
তিনি বলেন, কল্যাণ পার্টি তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা ছাড়া নির্বাচনে যাবে না। আর নির্বাচনের সময় আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সেনা মোতায়েন করতে হবে।
নবম সংসদ নির্বাচনে কল্যাণ পার্টির ৩৯ জন প্রার্থী অংশ নিলেও সবার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। সবাই মিলে মোট ২১ হাজার ৬০৯টি ভোট পেয়েছিলেন তারা, যা ওই সব আসনের মোট ভোটের দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ।
গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় যাত্রা শুরু করা আরেক দল পিডিপির চেয়ারম্যান ফেরদৌস আহমদ কোরেশী নির্বাচন কমিশনের সংলাপে নির্বাচন পদ্ধতির সংস্কারের পক্ষে কথা বলেন।
একাধিক দিনে ভোট নেওয়া এবং জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার না করার সুপারিশ করেন তিনি।
‘কখনো বলিনি সেনা মোতায়েন হবে না’ কল্যাণ পার্টির সঙ্গে সংলাপের সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ বলেন, “আমি কোনো সময় বলিনি নির্বাচনে সেনা মোতায়েন করা হবে না। খবরের কাগজে আমার বক্তব্য সঠিকভাবে রিফ্লেক্টেড হয় না।” আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় নির্বাচনে পুলিশ, বিজিবি, র্যাব ও সেনাবাহিনী ধাপে ধাপে মোতায়েন করা হয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। “প্রতিটি নির্বাচনে স্থানীয় পর্যায়ের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি দেখে তাদের মোতায়েন করা হয়। প্রয়োজনে আমরা সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেব। প্রয়োজন না হলে যে পর্যন্ত প্রয়োজন হবে তাতে সীমিত রাখব।”
‘কখনো বলিনি সেনা মোতায়েন হবে না’ কল্যাণ পার্টির সঙ্গে সংলাপের সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ বলেন, “আমি কোনো সময় বলিনি নির্বাচনে সেনা মোতায়েন করা হবে না। খবরের কাগজে আমার বক্তব্য সঠিকভাবে রিফ্লেক্টেড হয় না।” আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় নির্বাচনে পুলিশ, বিজিবি, র্যাব ও সেনাবাহিনী ধাপে ধাপে মোতায়েন করা হয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। “প্রতিটি নির্বাচনে স্থানীয় পর্যায়ের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি দেখে তাদের মোতায়েন করা হয়। প্রয়োজনে আমরা সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেব। প্রয়োজন না হলে যে পর্যন্ত প্রয়োজন হবে তাতে সীমিত রাখব।”


0 মন্তব্য:
Post a Comment
আপনার মতামত দিন