তাজরিন গার্মেন্টসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত পোশাক শ্রমিকদের মৃতদেহের পরিচয় জানা সম্ভব হচ্ছে না।
উদ্ধারকৃত মৃতদেহের অধিকাংশই বিকৃত হয়ে গেছে। কোনো কোনোটির হাড়গোড় ছাড়া কিছুই আর অবশিষ্ট নেই। ফলে উদ্ধারের ক্ষেত্রে একটি প্যাকেটে ঠিক কয়টি মৃতদেহ ঢুকানো হচ্ছে তা নিশ্চিত হতে পারছেন না খোদ উদ্ধারকর্মীরাই।
আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর রোববার সকালে পর্যবেক্ষণ ও অনুসন্ধানে এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া গেছে। উদ্ধারকর্মীরাও যথাযথভাবে লাশের পরিচয় শনাক্ত করতে না পারার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
উদ্ধারের দায়িত্বে নিয়োজিত বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্টের সহকারী পরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, ‘‘তৃতীয় তলা থেকে প্রাথমিক পর্যায়ে ৭৯ লাশ পাওয়া গেছে। তবে এসব লাশের কোনটিই শনাক্ত করা যাবে বলে মনে হচ্ছে না।’’
তিনি বলেন, ‘‘ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অনেক মৃতদেহের বিভিন্ন অংশ ছিন্নভিন্ন অবস্থায় থাকায় বাধ্য হয়েই একেকটি লাশবাহী প্যাকেটে একাধিক অংশ তুলে দেওয়া হচ্ছে। অনেক পুড়ে যাওয়া মৃতদেহের হাড়গোড় ছাড়া কিছুই অবশিষ্ট নেই। তাই একটি প্যাকেটে কয়টি দেহাবশেষ যাচ্ছে তা বলা যাচ্ছে না। এর ফলে নিহত পোশাক শ্রমিকের প্রকৃত সংখ্যা নিরূপণ করাও দুরূহ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।’’
অপরদিকে জানা গেছে, কবলিত ভবনটির তৃতীয় তলাতেই মৃতের সংখ্যা সবচে’ বেশি হবে। অগ্নিকাণ্ডে বেঁচে যাওয়া শ্রমিকরা এ দাবি করেছেন।
তারা বলছেন, আগুন লাগার পরে উপরের বিভিন্ন তলা থেকে শ্রমিকরা প্রাণভয়ে দ্রুত নামার চেষ্টা করে তিন তলায় এসে আর বের হতে পারেনি। প্রচণ্ড ধোঁয়ায় সেখানেই আটকে যায় তারা। মৃত্যুকে আলিঙ্গন করা ছাড়া তাদের আর কিছুই করার ছিলো না তখন।
বেঁচে যাওয়া শ্রমিকদের ধারণা, উদ্ধারকারী দল ৬৯টি মৃতদেহ ওই ফ্লোর থেকে শনাক্ত করলেও বাস্তবে এর সংখ্যা অনেক বেশি হবে।


0 মন্তব্য:
Post a Comment
আপনার মতামত দিন