বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার সোমবারের বরিশাল জনসভায় ১০ লাখ
জনসমাগম আশা করছে বিএনপি। এনিয়ে বঙ্গবন্ধু উদ্যানে (বেলস পার্ক) চলছে জোর
প্রস্তুতি। দলের চেয়ারপারসনের এই জনসভা স্মরণকালের সেরা জনসভা হবে বলেও
জোর দাবি বরিশাল বিএনপি’র। আঠারো দলীয় জোটের এই জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে খালেদা জিয়া বক্তব্য রাখবেন।
শনিবার ভোরে বাংলানিউজকে পেয়ে মাঠের যাবতীয় কাজের দায়িত্বে থাকা দলীয় নেতা-কর্মীরা আগ্রহের সঙ্গে জানাতে থাকেন নিজেদের প্রত্যাশা ও প্রস্তুতির কথা।
এই জনসভার প্রধান সমন্বয়ক বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান। তিনি বরিশাল এসে পৌঁছবেন যেকোনো সময়, জানালেন আয়োজকরা।
জনসভার আহ্বায়কের দায়িত্বে আছেন মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান শাহীন। তিনি বলেন, “আমরা দশলাখ মানুষ পাবো এই জনসভায়। স্মরণকালের সেরা জনসভা হবে এটি।”
শাহীন বলেন, “আমাদের সব প্রস্তুতি সম্পন্নই বলতে পারেন। এখন শুধু সবকিছু জুড়ে দিয়ে মালা গাঁথা।” আপাতত কোনো জটিলতাও তার চোখে পড়ছে না বলে জানান এই নেতা।
কোনো রকম বাধার শমুখে পড়ছেন কিনা জানতে চাইলে শাহীন বলেন, প্রশ্ন্ই আসে না। এখানে বরাবরই বিএনপির শক্ত অবস্থান। আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজনও কোনোরকম বাধা এ পর্যন্ত দেয়নি।
এসময় উপস্থিত শাহীনের এক সহযোগী যোগ করেন, “সিটি কর্পোরেশনে কোনো সমস্যা নেই। আর বাইরে যেটুকু টুকটাক সমস্যা তা নিয়ে এখন বিচলিত হয়ে মাথা ঘামানোর কিছু দেখছি না আমরা।”
“পুলিশ কমিশনারের লোকজন এসে সভাস্থল দেখে গেছেন। আমাদের নেত্রীর নিরাপত্তার বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে গেছেন। সেগুলো আমরা মেনে চলছি। সুতরাং কোনো ঝামেলার কোনোই কারণ নেই,” বললেন শাহীন।
দশলাখ জনসমাবেশের বিষয়ে কতটা নিশ্চিত জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ভোলা, ঝালকাঠি, বরগুনাসহ বৃহত্তর বরিশালের মানুষ সোমবার এই বেলস পার্কে উপচে পড়বে।”
মাঠে প্রস্তুতির কাজ ১৫ তারিখ থেকে শুরু হয়েছে বলে জানান উপস্থিত কর্মীরা। শাহীন বলেন, আবহাওয়া চমৎকার। খুব ঠান্ডা বা গরম না থাকায় জনসভায় অংশগ্রহণ বাড়বে বলে মনে করছেন তারা।
শাহীন বলেন, দু’টি মঞ্চ হবে- একটি খালেদা জিয়ার জন্য, আরেকটি কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের জন্য। জাসাসের অনুষ্ঠান হবে এখানে। সিএসএফ এসে নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে গেছেন বলেও জানান তিনি।
‘বঙ্গবন্ধু উদ্যানে খালেদা জিয়ার জনসভা...’- প্রশ্নটি শেষ করতে দিলেন না শাহীন, প্রতিবাদ করে বললেন, এটি বেলস পার্ক। এই নামেই সবাই চেনে।
শাহীন বলেন, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের তত্ত্বাবধানে তিন বছর আগে চেয়ারপারসনের জনসভা অত্যন্ত সফল হয়েছিল। এবারও হবে।
উল্লেখ্য, এই জনসভাটি ১৪ নভেম্বর হওয়ার কথা ছিল। অনিবার্য কারণ দেখিয়ে তারিখ পরিবর্তন করে প্রথমে ১৮ নভেম্বর জনসভা করার ঘোষণা দেয় বিএনপি। এরপর আবারও তারিখ পরিবর্তন করে ১৯ নভেম্বর সোমবার নির্ধারণ করা হয়েছে।

0 মন্তব্য:
Post a Comment
আপনার মতামত দিন