নয়া পল্টনে ১৮ দলীয় জোটের জনসভাস্থলে পৌঁছেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। এই সমাবেশ থেকেই আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করার কথা রয়েছে তার।
খালেদা জিয়া বিকাল ৩টা ১০ মিনিটে মঞ্চে পৌঁছালে নেতাকর্মীরা করতালি দিয়ে তাকে বরণ করে নেন। হালকা ঘিয়ে রঙের সুতির শাড়ি পরিহিত খালেদা জিয়া হাত নেড়ে অভিবাদনের জবাব দেন।
এর আগে খালেদা জিয়া সাদা পাজেরোতে করে সমাবেশস্থলে পৌঁছালে ভিড় ঠেলে তাকে মঞ্চে আনতে নেতাকর্মীদের বেগ পেতে হয়।
দুপুর ২টায় জনসভার কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা থাকলেও দেড়টায় মহানগর ১৮ দলীয় জোটের মহানগর প্রধান সাদেক হোসেন খোকার সভাপতিত্বে কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে কার্যক্রম শুরু হয়। শুরুতে বিএনপির অঙ্গসংগঠন ও জোটের মহানগর নেতারা বক্তৃতা দেন।
এর আগেই নয়া পল্টনে জনসভাস্থল কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।
পূর্বে ফকিরেরপুল মোড় ও পশ্চিমে কাকরাইলের নাইটিঙ্গেল মোড় পর্যন্ত পুরো সড়কে বিএনপি, শ্রমিক দল, যুব দল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল, ছাত্র দল, কৃষক দল, মৎস্যজীবী দল, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, এগ্রিকালচারিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, জাসাস ও জামায়াতে ইসলামীসহ ১৮ দলীয় জোটের নেতা-কর্মীরা অবস্থান নেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ কেন্দ্রীয় ও ১৮ দলীয় জোট নেতারা খালেদা জিয়ার সঙ্গে জনসভা মঞ্চে উপস্থিত রয়েছেন।
নয়া পল্টন সড়কের এক পাশে ৬০ ফুট দীর্ঘ ও ৩০ ফুট চওড়া এই মঞ্চের ব্যানারে জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান প্রতিকৃতির পাশে নির্দলীয় সরকারের দাবি ও সরকারের ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করা রয়েছে।
নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনসহ ১৩ দফা দাবিতে ১৮ দলীয় জোটের মহানগর কমিটি এই জনসভার আয়োজন করে।
নেতা-কর্মীরা সকাল ৯টা থেকেই খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে জনসভাস্থলে আসতে শুরু করেন। বিকাল ৩টার মধ্যে পুলিশের বেঁধে দেয়া সীমানা অতিক্রম করে মানুষের ঢল পূর্ব দিকে আরামবাগ এবং পশ্চিম দিকে কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউট পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছায়।
ঢাকা মহানগর পুলিশের বেঁধে দেয়া নির্ধারিত সীমানা ফকিরেরপুল ক্রসিং থেকে বিজয়নগরের নাইটেঙ্গল মোড় পর্যন্ত সড়কের লাইটপোস্টগুলোতে আড়াইশ’ মাইক লাগানো হয়েছে।
খালেদা জিয়ার বক্তব্য দেখার জন্য ফকিরেরপুল ও নাইটেঙ্গল মোড়ে কয়েকটি বড় পর্দার টিভি স্থাপন করা হয়েছে।
মঞ্চের চেয়ারে খালেদা জিয়ার দুই পাশে জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমীর মকবুল আহমেদ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মজিবুর রহমান, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত লে. কর্নেল অলি আহমেদ, খেলাফত মজলিশের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ ইসহাক, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব আবদুল লতিফ নেজামী, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সভাপতি শফিউল আলম প্রধান , ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) চেয়ারম্যান শেখ শওকত হোসেন নিলু, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এনডিপি) সভাপতি খন্দকার গোলাম মূর্তজা,বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশ ন্যাপের সভাপতি জেবেল রহমান গণি, মুসলিম লীগের সভাপতি এ এইচ এম কামরুজ্জামান খাঁন, ইসলামিক পার্টির সভাপতি আবদুল মবিন, ন্যাপ ভাসানীর সভাপতি শেখ আনোয়ারুল হক, জমিয়াতে উলামা ইসলামীর মহাসচিব মুফতি মোহাম্মদ ওয়াক্কাস, ডেমোক্রেটিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন মনি রয়েছেন।
এছাড়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, মাহবুবুর রহমান, তরিকুল ইসলাম, এম কে আনোয়ার, জমির উদ্দিন সরকার, আ স ম হান্নান শাহ, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান উপস্থিত রয়েছেন সভামঞ্চে।
সমাবেশের নিরাপত্তায় মঞ্চের চারপাশে দুই স্তরের পুলিশ বেষ্টনির পাশাপাশি পুরো নয়া পল্টন সড়কের বিভিন্ন স্থানে পুলিশ ও র্যাব মোতায়েন করা হয়েছে। বিভিন্ন উুঁচু ভবনের ছাদে বসানো হয়েছে পুলিশি পাহারা।
মঞ্চের চারপাশে আধা কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বসানো হয়েছে ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরাও।
আগের মতো খালেদা জিয়ার এই সভাও ইন্টারনেটে দেখা যাবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির সহ দপ্তর সম্পাদক আবদুল লতিফ জনি।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি জানান, জনসভার পুরো কার্যক্রম ইন্টারনেটে সরাসরি দেখানো হচ্ছে।


0 মন্তব্য:
Post a Comment
আপনার মতামত দিন