সরকার জামায়াত-শিবিরের কর্মসূচিতে বাধা দেয়ার পাশাপাশি সংঘর্ষের ঘটনায় বিএনপির নেতা-কর্মীদের মামলায় জড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি।
বৃহস্পতিবার সকালে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে দলের সহসভাপতি ও মহানগর আহবায়ক সাদেক হোসেন খোকা বলেন, “জামায়াত একটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল। সরকার তাদের বৈধ রাজনৈতিক অধিকার সভা-সমাবেশ ও মিছিলে বাধা দিচ্ছে। পুলিশকে জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিচ্ছে।”
জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনার জের ধরে পুলিশ বিএনপির নেতা-কর্মীসহ সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছে অভিযোগ করে খোকা বলেন, “জামায়াত-শিবিরের ঘটনার সঙ্গে বিএনপির নেতা-কর্মীদের জড়িয়ে মিথ্যা মামলা দায়ের করে সরকার আগুন নিয়ে খেলা শুরু করেছে। আমরা স্পষ্টভাষায় বলতে চাই, এ রকম নির্যাতন বন্ধ করুন। নইলে পরিণতি ভালো হবে না।”
যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তার শীর্ষ নেতাদের মুক্তি দাবিতে গত ৫ নভেম্বর মতিঝিলে জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। তারপর থেকে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন স্থানে জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে পুলিশের সংঘাত চলছে।
এসব ঘটনায় সারা দেশে এ পর্যন্ত দুই হাজারেরও বেশি জামায়াত-শিবির কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন।
নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনে কলাবাগানের সাবেক কাউন্সিলর মহানগর যুগ্ম আহবায়ক আবদুল লতিফসহ ১২ জনকে গ্রেপ্তারের নিন্দা জানান খোকা।
“তারা দলের থানা কার্যালয়ে ২৮ নভেম্বরের জনসভা প্রস্তুতির কাজ করছিলেন। পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে এখন জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনার সঙ্গে জড়িত করেছে।”
পুলিশের ওপর জামায়াত-শিবির কর্মীদের হামলার প্রসঙ্গে খোকা বলেন, “যতক্ষন জামায়াত-শিবির বৈধ রাজনৈতিক দল হিসেবে আছে, ততক্ষন পর্যন্ত তাকে আইনগতভাবে সভা-সমাবেশ করতে দিতে হবে। তখন যদি তারা পুলিশের ওপর হামলা চালায়, সেক্ষেত্রে আমরা জামায়াত-শিবিরের পক্ষে থাকবো না।”
২৮ নভেম্বর নয়া পল্টনে ১৮ দলীয় জোটের জনসভা সফল করার জন্য বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানান তিনি।
দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করে বলেন, “জনসভায় লোক সমাগম ঠেকাতে সরকার ঢাকার প্রবেশপথসহ বিভিন্নস্থানে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। দলীয় নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”
তিনি দাবি করেন, বুধবারের জনসভা উপলক্ষে সারদেশে ৭০-এর বেশি নেতা-কর্মী গ্রেপ্তার এবং বিভিন্ন স্থানে হামলায় দুই শতাধিক আহত হয়েছে।
“জনসভা শেষে মোহাম্মদপুরে নিজের বাসায় যাওয়ার সময়ে মোহাম্মদপুরে যুব দলের সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের ওপর সরকারি দলের সন্ত্রাসীর হামলা চালায় এবং তারা গাড়ি ভাংচুর করে।”
রিজভী অবিলম্বে নেতা-কর্মীদের মুক্তি দাবি ও তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে অন্যান্যের মধ্যে মহানগর সদস্য সচিব আবদুস সালাম, কেন্দ্রীয় নেতা আবদুল লতিফ জনি, আসাদুল করীম শাহিন, হাবিবুল ইসলাম হাবিব, এ বি এম মোশাররফ হোসেন, অঙ্গসংগঠন স্বেচ্ছাসেবক দলের হাবিব উন নবী খান সোহেল, যুব দলের সাইফুল আলম নিরব, মহিলা দলের শিরিন সুলতানা, ছাত্র দলের আবদুল কাদের ভুঁইয়া প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।


0 মন্তব্য:
Post a Comment
আপনার মতামত দিন