আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে ডাকার নেই ২৫ বছরের শাহীনুরের। ‘ও
আল্লারে..আল্লারে....’ আর্তনাদে কাঁপছে হাজারীবাগের বৌবাজার বস্তির
ধ্বংসাবশেষ আর এর চারপাশ।প্রকৃতির কি নিয়ম মানুষ পুড়ে যায়, মাংস পোড়ে, কিন্তু লাশের চুল পোড়ে না। শাহীনুরের আর্তনাদ, ‘আমার মায়ের শরীরের তেলে বাথরুম ভাসতাছে..রে..আমি এখন কই যামু...মা.. মা...’
প্রাণে বাঁচতে বস্তির মাঝখানের এ ২ তলা বাড়ির সকলেই দৌড়ে যায় বাথরুমে।
সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে এ বাথরুম থেকেই উদ্ধার করা হয় ৬টি লাশ। এর মধ্যেই রয়েছে শাহীনুরের ৬০ বছরের বৃদ্ধা মা আকলিমা, শিশু ছেলে আব্দুল্লাহ এবং ৩৫ বছর বয়সী স্বামী বাবু।
বাবু ভ্যানে করে তেল বিক্রি করতেন দোকানে দোকানে।
আর্তনাদে বুক না ফাটলে হয়তো শোক বের হবে না আকলিমার ভেতর থেকে। কিন্তু আর্তনাদের চিৎকার এ শোককে প্রশমিত করতে পারে না।
মানুষের বাসায় কাজ করে শাহীনুর। কিন্তু গত রাতে বাসায় না ফেরাতেই বেঁচে গেছেন তিনি। কিন্তু এ বাচাকে শাহীনুর বলেন, ‘খোদা আমারেও লইয়া যাও....’।
৬টি লাশের চিত্র বীভৎস। মাথার সাদা খুলি। পুড়ে বের হয়ে এসেছে। কিন্তু চুল পোড়েনি। ঝলসে আছে চামড়া....কোথাও কোথাও হাড় বের হয়ে এসেছে....।
৫৫/৬০ বছর বয়সী কুতুবউদ্দিন ২২ বছরের মেয়ে রত্না ও ৩ বছরের নাতনি জুলিয়াকে হারিয়ে এখন নির্বাক। শোকে চোখের পানিও যেন আটকে গেছে কুতুবউদ্দিনের।
রেহানা খাতুনের মা হারানোর কান্না থামাতে পারছে না আশপাশের কেউ।
বাথরুমে পড়ে আছে মাথার চুল। বস্তার ভেতর ঢোকানো হচ্ছে পোড়া লাশ।
বৌ বাজার বস্তির ৩ বিঘা এলাকা এখন শোকের দেশ। নিজের ঘর যেখানে ছিল, সেখানেই হয়তো কিছু খুঁজছেন, পুড়ে না যাওয়া যদি কিছু থাকে; যুদ অক্ষত কিছু থাকে। চালের পটে আগুন লাগলেও হয়তো ভেতরের কিছু চাল এখনো ভালো আছে। তাই বের করে নিচ্ছে বস্তিবাসী।

0 মন্তব্য:
Post a Comment
আপনার মতামত দিন