জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পক্ষে সাফাই সাক্ষীর সাক্ষ্যগহণ সম্পন্ন করার বিষয়ে সোমবার চূড়ান্ত আদেশ দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
রোববার ১৬ তম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়েছে। এর আগে দেয়া আদেশ অনুযায়ী রোববার মামলায় পাঁচজন সাফাই সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ট্রাইব্যুনালে ধার্য থাকলেও আসামিপক্ষ মাত্র একজনকে হাজির করে।
রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হকের নেতৃত্বে সাঈদীর পক্ষে ১৩তম সাক্ষী মাসুদ বিন সাঈদী ও ১৫তম সাক্ষী আব্দুস সালাম হাওলাদারকে জেরা করে প্রসিকিউশন।
এ ছাড়া সাঈদীর পক্ষে ১৬তম সাফাই সাক্ষী আব্দুল হালিম ফকির (৫৫) রোববার ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দিয়েছেন। পিরোজপুরের টেংড়াখালী গ্রামের হালিম ফকির জবানবন্দি দেয়ার পর তাকে জেরা করেন প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলী।
জবানবন্দিতে তিনি বলেন, “১৯৭১ সালে আমাদের টেংরাখালী গ্রামে কোনো রাজাকার সদস্য, পিস কমিটির সদস্য অথবা পাক বাহিনীর কাউকে প্রবেশ করতে দেখিনি। সে সময় আমাদের এলাকায় কোনো বাড়িঘর লুট হয়নি। এমনকি কোনো লোক নিহতও হয়নি।”
তিনি বলেন, “মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় দেলাওয়ার হোসেন সাঈদী তার এলাকায় ছিলেন না।” একাত্তর সালে সাঈদীর দ্বারা সে এলাকায় কোনো স্বাধীনতাবিরোধী, মানবতাবিরোধী কাজ কর্ম হয়নি বলে দাবি করে তিনি তার জবানবন্দি শেষ করেন।
এর আগে সাঈদীর পক্ষে আরো ১৫জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। তারা হলেন, শামসুল আলম তালুকদার, আব্দুর রাজ্জাক আকন্দ. নুরুল হক হাওলাদার, আবুল হোসেন, খসরুল আলম, রওশন আলী, জামাল উদ্দিন ফকির, কুবাত আলী, হেমায়েত উদ্দিন, গোলাম মোস্তফা, আনোয়ার হোসেন, হাফিজুল হক, এমরান হোসাইন ও আব্দুস সালাম হাওলাদার।
আসামিপক্ষ গত ১৪ আগস্ট ট্রাইব্যুনাল-১ এ ৪৮ জন সাফাই সাক্ষীর সাক্ষ্য দেয়ার অনুমতির আবেদন করলে সাক্ষীর সংখ্যা ২০ জন নির্ধারণ করে দেন ট্রাইব্যুনাল।
গত বছরের ১৪ জুলাই সাঈদীর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয়া হয়। ১৯ নভেম্বর থেকে তার বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের পক্ষে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।
সাঈদীকে ২০১০ সালের ২৯ জুন এক মামলায় গ্রেফতার করা হয়। পরে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আটক দেখানো হয়।


0 মন্তব্য:
Post a Comment
আপনার মতামত দিন