প্রয়োজনে ব্রিটেনের সাথে বন্দিবিনিময় চুক্তি করে চৌধুরী মঈনুদ্দিনকে দেশে আনা হবে বলে জানিয়েছেন ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ।
শনিবার হোটেল রেডিসনে ইউএনডিপির সহযোগিতায় আইন মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘জাস্টিস সেক্টর ফ্যাসিলিটি’ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেন, চৌধুরী মঈনুদ্দিনের বিরুদ্ধে আদালতে বিচারকাজ শুরু হয়েছে। আদালত নোটিশ দেয়ার পর যদি সে হাজির না হয় তাহলে তার অনুপস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় খরচে তার পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ দিয়ে বিচার কার্যক্রম চলবে। বিচার শেষে যদি সে দোষী সাব্যস্ত হয় তাহলে আমরা ব্রিটেনের সাথে প্রয়োজনে বন্দিবিনিময় চুক্তি করে তাকে দেশে আনার ব্যবস্থা করব।
তিনি বলেন, আমরা আশা করবো ব্রিটেন এ ধরনের আসামিদের পালিয়ে থাকতে কোনো সাহায্য করবে না।
দেশে চলমান মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার নিরপেক্ষভাবে করা হচ্ছে দাবি করে আইনমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর মধ্যে যত আদালতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হয়েছে বা হচ্ছে, তার মধ্যে আমাদের দেশের বিচারকাজ সম্পূর্ণ আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনালে আসামিপক্ষ বেশি সময় পাচ্ছেন। সাফাই সাক্ষীরা সাক্ষ্য দেয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এমনকি প্রসিকিউশনে সাক্ষীদের অধিক সময় ধরে জেরা করার সুযোগ দেয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদনকে বিভ্রান্তিকর উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, তাদের এ প্রতিবেদন তথ্যভিত্তিক নয়, এটা তাদের মনগড়া বক্তব্য।
তিনি বলেন, আমার মনে হয় তারা জামায়াতের টাকা খেয়ে এসব করেছে। জামায়াতের মীর কাশেম আলী ও অন্যদের নিয়োগ করা লবিস্টরা এসব মন্তব্য করে প্রচারণা চালাচ্ছেন।
বাংলাদেশ বার কাউন্সিল আইন সংশোধনের বিষয়ে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের দাবি অযৌক্তিক উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, এনরোলমেন্ট কমিটিতে বিচারকের সংখ্যা বাড়িয়ে এনরোলমেন্ট কমিটির পরিধি বাড়ানো হয়েছে। এতে করে যোগ্য আইনজীবীদের অন্তর্ভুক্ত করা যাবে।
ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেন, মামলার রায় দ্রুত করার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিচারপ্রার্থী ব্যক্তিরা যাতে অল্প সময় বিচার পান, বিশেষ করে নারীদের বিচার পেতে যাতে কোনো অসুবিধা না হয় সে বিষয়ে খেয়াল রাখা হয়েছে। দরিদ্রদের জন্য রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী নিয়োগের সুযোগ করে দেয়া হচ্ছে।
ফৌজদারী আইন সংশোধন হলে কারাগারে আটকসংখ্যা অনেকাংশে হ্রাস পাবে বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, জাতীয় সংসদের আগামী অধিবেশনে ফৌজদারি কার্যবিধি সংশোধনী আইন বিল উত্থাপিত হবে।
তিনি বলেন, এ আইন পাস হলে দ্রুততম সময়ে মামলা নিষ্পত্তি হবে এবং দীর্ঘ দিন যারা বিনা বিচারে কারাবাস করছেন, তাদের সংখ্যা কমে আসবে।
এছাড়া তিনি বলেন, দেওয়ানি মামলা দ্রুততম সময়ে নিষ্পত্তি করতে ইতোমধ্যে দেওয়ানি কার্যবিধি পরিবর্তন করে আইনকে সুস্পষ্ট ও যুগোপযোগী করা হয়েছে। এতে সমন জারিসহ মামলার প্রতিটি স্তরে সময় নির্ধারণ করে দেওয়ায় মামলা জট কমে আসছে বলে মনে করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন ইউএনডিপি বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মি. স্টেফান প্রিজনার, আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব এএসএসএম জহিরুল হক, স্বরাষ্ট্র সচিব মোস্তাক আহমেদ প্রমুখ।
অনষ্ঠানে জাস্টিস সেক্টর ফ্যাসিলিটি প্রকল্পের তিনটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়।


0 মন্তব্য:
Post a Comment
আপনার মতামত দিন