কক্সবাজারের রামু, উখিয়া ও টেকনাফের বিধ্বস্ত বৌদ্ধ মন্দির পরিদর্শন করেছেন
ঢাকার নাগরিক প্রতিনিধি দল। আজ রোববার সন্ধ্যায় কক্সবাজার প্রেসক্লাবে
সংবাদ সন্মেলন করে নাগরিক প্রতিনিধি দলের প্রধান আবুল মকসুদ বলেছেন, ২৯
সেপ্টেম্বরে রাতে পূর্বপরিকল্পিতভাবে রামুর বৌদ্ধ মন্দিরে হামলা চালানো
হয়েছে। গত দুইদিন এখানে এসে যা দেখলাম, সংবাদপত্রে যা প্রকাশিত হয়েছে, তার
চেয়েও অনেক ভয়াবহ। বিভত্স ও নারকীয় দৃশ্য। ৪২ বছরের সাংবাদিকতা জীবন আর ৭১
এর মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে এর কোন মিল নেই। আবুল মকসুদ বলেন, রামু, উখিয়া, টেকনাফ ও পটিয়ায় বৌদ্ধদের উপাসনালয়, বসতবাড়ি ও বৌদ্ধমুর্তি ভাঙচুরের ঘটনায় বিরূপ প্রভাব পড়েছে জাতীয় জীবনে, সরকার ও জনগণের ওপর। আশপাশের রাষ্ট্রগুলো বৌদ্ধ ধর্ম অধ্যুষিত বিধায় এক্ষেত্রে বাংলাদেশকে নানা অপমান সহ্য করতে হচ্ছে।
আবুল মকসুদ আরও বলেন, এই হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ হচ্ছে হিংসার বহিঃপ্রকাশ। আমরা হিংসার মৃত্যু চাই বলে সূদুর ঢাকা থেকে এখানে ছুটে এসেছি। ক্ষতিগ্রস্ত সংখ্যালঘুদের সহমর্মিতা দেখাতে। আমরা অতিদ্রুত ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন চাই। চাই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি। সংখ্যালঘুদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে রাষ্ট্র ব্যবস্থা নেবে-এটাই আশা করছি।
সৈয়দ আবুল মকসুদ আরও বলেন, সরকারি ও বিরোধী দল বৌদ্ধ মন্দিরের হামলা ঘটনা নিয়ে রাজনীতি করছে। একে অপরের দোষারোপ করছে। এতে আসল অপরাধীরা পার পেয়ে যাবে। সরকার ও বিরোধী দলের কাছে আমাদের অনুরোধ এই ঘটনা নিয়ে যেন রাজনীতি না করা হয়। যদি হয়-তাহলে আমরা বরদাশদ করব না। এই ঘটনাকে মানবিক দৃষ্টিতে দেখতে হবে। কলঙ্ক হিসাবে দেখতে হবে। যে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে-তাতে যেন নুনের ছিটা না দেওয়া হয়।
গণ ঐক্যের আহ্বায়ক পংকজ ভট্টাচার্য বৌদ্ধ মন্দিরে হামলার ঘটনাটি সুপ্রিমকোর্টের বর্ষীয়ান বিচারকের নেতৃত্বে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানান। তিনি মন্দির পোড়ানো মামলায় নিরীহ লোকজনকে গ্রেপ্তার করে হয়রানি না করার জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, অন্যথায় আরও হিংসার সৃষ্টি হতে পারে। সরকার কী করছে-তা নিয়ে তাঁরা মনিটরিং করবেন বলে জানান।
পরিদর্শন দলে ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি তারিক আলী, প্রকৌশলী সরদার আমিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক রোবায়েত ফেরদৌস, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রাজীব মীর, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির প্রতিনিধি দীপায়ন খীসা, মানবাধিকারকর্মী নাইলা বারী, আদিবাসী অধিকার আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক নীলুফার বানু, ইয়াসমিন পিউ প্রমুখ।

0 মন্তব্য:
Post a Comment
আপনার মতামত দিন