কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার কোটবাজারে বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহারে সহিংসতার শুরু
হয়েছিল আওয়ামী লীগ নেতাদের নেতৃত্বে হওয়া মিছিল থেকে। প্রত্যক্ষদর্শীরা
নিশ্চিতভাবেই এমন অভিযোগ তুলেছেন। ওই মিছিলে নেতৃত্ব দেন উখিয়া উপজেলা
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হামিদুল হক চৌধুরী ও উখিয়ার সাবেক উপজেলা
চেয়ারম্যান মাহমুদুল হক চৌধুরী।রামুতে সহিংসতার পরদিন ৩০ সেপ্টেম্বর বিকালে কোটবাজার স্টেশনে মিছিলটি বের করা হয়। পরে ওই মিছিলটিই কোটবাজার-ভালুকিয়া সড়কের বৌদ্ধ বিহারগুলোতে হামলা চালানো হয়।
আওয়ামী লীগ নেতাদের মিছিল থেকে বৌদ্ধ বিহারে হামলা হলেও উখিয়া থানায় মামলা হয়েছে বিএনপি নেতাদের আসামি করে। উখিয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সরওয়ার জাহান চৌধুরী ও সাংগঠনিক সম্পাদক সুলতান মাহমুদ চৌধুরীকে প্রধান আসামি করে মামলাটি করেন উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ আবুল হাশেম। এই মামলায় ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত পরিচয় তিন হাজার এলাকাবাসীকে আসামি করা হয়েছে।
রামু উপজেলার বড়ুয়া পাড়ার উত্তম বড়ুয়া নামের এক যুবক ফেসবুকে পবিত্র কোরআন অবমাননাকর ছবি ট্যাগ করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় এই সহিংসতার সৃষ্টি হয়। এই সহিংসতায় শুধু রামু উপজেলাতেই ১২টি বৌদ্ধ বিহার ও ২৮টি বসতবাড়ি ও দোকানে আগুন দেয়া হয়। এছাড়া উপজেলার বাইরে ছয়টি বৌদ্ধ বিহার ও শতাধিক ঘরবাড়ি ভাঙচুর করা হয়।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলার চারটি উপজেলায় ১৪টি মামলা ও বুধবার সকাল পর্যন্ত ২০৫ জনকে আটক করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
উখিয়া ও কোটবাজারের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছেন, ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে রামু ও আশপাশের বৌদ্ধ বসতিতে সহিংসতার পর ৩০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় উখিয়া উপজেলার প্রধান স্টেশন কোটবাজারে একটি প্রতিবাদ মিছিল বের করা হয়। ওই মিছিলের অগ্রভাগে ছিলেন উখিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হামিদুল হক চৌধুরী এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মাহমুদুল হক চৌধুরী। মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের অধীকাংশই আওয়ামী লীগ ও এর ভ্রাতাপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মী।
সংশ্লিষ্টরা জানান, সন্ধ্যার পরপর বের হওয়া মিছিলটি এক পর্যায়ে কোটবাজার-ভালুকিয়া সড়কে অবস্থিত ‘পূর্ব রত্নাপালং সূদর্শন বিহারে’ হামলা চালায়। ওই সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে মিছিল ও হামলাকারীদের সংঘর্ষ হয়। এতে আহত হন ২০ জন।
উখিয়া থানা সূত্র জানায়, এই ঘটনায় উখিয়া থানায় বিএনপি নেতাদের প্রধান আসামি করে তিন হাজার মানুষের বিরুদ্ধে দুইটি মামলা করা হয়েছে।
উখিয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সরওয়ার জাহান চৌধুরী জানান, মিছিল বের করেছিল আওয়ামী লীগ, অথচ মামলার আসামি হয়েছে বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। বিরোধী দলকে ফাঁসানোর জন্য একটি ধর্মীয় সেন্টিমেন্টকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, “সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগ নেতাদের নেতৃত্বে হওয়া মিছিল থেকে বিক্ষুদ্ধ জনতা বৌদ্ধ মন্দিরে হামলা ও ভাঙচুর করে। অথচ মন্দির ভাঙচুর মামলায় আওয়ামী লীগ বা এর ভ্রাতাপ্রতিম সংগঠনের কোনো নেতাকর্মীকে আসামি না করে পুলিশ বিএনপি নেতাদের ফাঁসিয়ে দিচ্ছে।
তিনি মনে করেন,“ রামুতে মন্দির ভাঙচুরের ঘটনার পরপরই যদি উখিয়া থানা প্রশাসন সতর্কতা অবলম্বন করে নিরাপত্তা জোরদার করতো তবে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটতো না।
এ ব্যাপারে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অপ্পেলা রাজু নাহা বলেন, “বিএনপির অভিযোগ নিয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই।”
উল্লেখ্য আওয়ামী লীগ নেতাদের নেতৃত্বে হওয়া মিছিল থেকেই বৌদ্ধ বিহারের হামলার ঘটনা নিয়ে স্থানীয় পত্রিকায় খবর ও ছবি প্রকাশ হয়েছে।

0 মন্তব্য:
Post a Comment
আপনার মতামত দিন