ছাত্রলীগকে বর্তমান সরকারের সবচেয়ে বড় কলঙ্ক বলে অভিহিত করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ।
মওদুদ বলেন, “বর্তমান সরকারের অনেকগুলো কলঙ্ক আছে, এর মধ্যে সবচেয়ে বড় কলঙ্ক হলো ছাত্রলীগ। সরকারের চার বছরে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রলীগ-ছাত্রলীগ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে চারশ’টি। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে ২৩টি। আর এসবের জন্য দায়ী ছাত্রলীগ। সরকার তাদের নিয়ন্ত্রণ না করে বরং মদদ দিচ্ছে। কারণ এ সরকারের আইনের শাসন নেই। তারা আইনের শাসনে বিশ্বাস করে না।”
রোববার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে মুক্ত চিন্তা ফোরাম আয়োজিত ‘শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস’ শীর্ষক একক বক্তৃতা অনুষ্ঠানে মওদুদ এসব কথা বলেন।
বর্তমান সরকারের সময়ে দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রলীগের বিভিন্ন সংঘর্ষের ঘটনা উল্লেখ করে মওদুদ আহমদ বলেন, “বর্তমানে দেশের কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা নিরাপদ নয়। ছাত্রলীগের কাছে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীরা জিম্মি। উদাহরণ হিসেবে রাজশাহী, কুমিল্লা, ঢাকা ও কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে কথা বলা যায়। এসব ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীরা।”
তিনি আরো বলেন, “স্বাধীনতার পরে থেকেই আমরা এই ঘটনা দেখছি। এটা একটু কম বা বেশি হয়। বর্তমানেও দেশের সব স্বায়ত্বশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়েও এ ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। আর তা সমাধানে সরকারকে হস্তক্ষেপ করতে হচ্ছে। এটা দুঃখজনক। এ সমস্যা সমাধানে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এটা কোনো দলের নয়, এটা জাতীয় সমস্যা।”
বর্তমান সরকরের সময়ে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংঘটিত সংঘর্ষের ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়ে মওদুদ আহমদ বলেন, “দেশের কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেন এ ধরনে ঘটনা না ঘটে এর জন্যে আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত কমিটি দাবি করছি। কিন্তু আমরা সবাই জানি সরকার তা করতে পারবে না। কারণ বর্তমান সরকারই আইনের শাসনকে ভয় পায়।”
আবাবো সরকারকে ব্যর্থ বলে আখ্যায়িত করে সরকারের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে মওদুদ বলেন, “যারা নিজেদের ছেলেদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না তারা দেশকে কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করবে। আর এ জন্যে নির্দিষ্ট মন্ত্রীর নয়, সরকারের পদত্যাগ দাবি করছি।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মুক্তচিন্তা ফোরামের আহ্বায়ক আশিষ কুমার সেন।


0 মন্তব্য:
Post a Comment
আপনার মতামত দিন