প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘লোডশেডিং যেন চালু থাকে সে নির্দেশ
দিয়েছি। সব সময় বিদ্যুত চালু থাকলে জনগণ তো লোডশেডিংয়ের কথা ভুলে যাবে।
লোডশেডিংয়ের কথা যেন ভুলে না যায়, তার জন্যই এমন নির্দেশনা দিয়েছি।’ গতকাল রোববার বিকেলে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের স্থায়ী আবাসিক মিশনে আয়োজিত মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। স্থানীয় বাংলা পত্রিকার সাংবাদিকদের জন্য এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি এ কে আবদুল মোমেন অনুষ্ঠানটি সঞ্চালন করেন।
সম্প্রতি বিশিষ্ট আইনজীবী রফিক-উল হক বলেছেন, দেশের প্রয়োজনে তিনি যেকোনো দায়িত্ব নিতে রাজি আছেন। প্রধান বিরোধী দল বিএনপির এ ব্যাপারে সম্মতির আভাস পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে সাংবাদিকেরা জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের গ্রামাঞ্চলে একটি কথা চালু আছে। বাজারে লোকজনের মধ্যে হঠাত্ একজন বলে উঠল, মুই কার খালু রে...।’
শেখ হাসিনা প্রশ্ন করে বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অভিজ্ঞতা কি সবাই ভুলে গেছেন? তারা মামলা, নির্যাতন করেছে; ব্যবসায়ী-রাজনীতিবিদদের হয়রানি করেছে।’ তিনি বলেন, ‘গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় আমি জীবনবাজি রেখে দেশে ফিরে গিয়ে কারাবরণ না করলে আপনারা গণতন্ত্র ফিরে পেতেন না।’
সুশীল সমাজের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘যে “সুশীল বাবু”রা এখন টক শোতে কথা বলেন, তাঁদেরও কেউ কেউ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ছিলেন। “সুশীল বাবু”রা তো নির্বাচন করতে পারেননি। পদত্যাগ করে পালিয়েছিলেন। “সুশীল বাবু”রা উপদেষ্টা হয়ে নির্বাচন করতে ব্যর্থ হয়েছেন। তাঁদের কথা এখন আমাদের শুনতে হবে?’ তিনি প্রশ্ন করে বলেন, ‘ব্যর্থ মানুষদের কাছ থেকে নসিহত শুনতে হবে আমাদের?’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০০১ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছিল আরও বিচিত্র। লতিফুর রহমান তাঁর উপদেষ্টাদের শপথ করানোর আগেই নিয়ম লঙ্ঘন করে ১৩ জন সচিবকে চাকরিচ্যুত করেছিলেন। সে সময় মন্ত্রিপরিষদের সচিব ছিলেন আকবর আলি খান। এখন আকবর আলি খানই তো সবচেয়ে বেশি কথা বলেন। অথচ সে সময় নিয়ম লঙ্ঘন করে সচিবদের চাকরিচ্যুতি ও বদলি নিয়ে তো তিনি কথা বলেননি।’
বিএনপির বর্তমান মহাসচিবের নাম উল্লেখ না করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় কিংস পার্টির সঙ্গে তিনি সংশ্লিষ্ট ছিলেন। সে সময় ‘মায়ে খেদানো বাপে তাড়ানো’ লোকদের নিয়ে কিংস পার্টি করার চেষ্টা হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়ার নাম উল্লেখ না করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘উনি কখন যে কী বলেন, তার তো কোনো তাল নেই। তিনি যে কী চান, তা তো তিনি নিজেও জানেন না।’
সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির হত্যাকারীদের বিচার সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, হাইকোর্টের রায়ের ফলে নতুন করে তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তে তথ্য দিয়ে সহযোগিতার করার জন্য তিনি সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান। তদন্ত ও বিচার বিলম্বের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমার পিতা-মাতা-ভাই ও স্বজনের বিচারের জন্য কত দিন অপেক্ষা করতে হয়েছে আপনারা জানেন।’ তিনি বলেন, ‘সব হত্যারই বিচার হবে। আপনারা এ ব্যাপারে নিশ্চিত থাকতে পারেন।’
রামু, টেকনাফ, উখিয়া, পটিয়ায় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এসব এলাকায় অতীতেও জঙ্গিদের আস্থানা ছিল। পুরো বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। পেছন থেকে কে বা কারা ইন্ধন দিয়েছে—সব খুঁজে বের করা হবে। বিশেষ গোষ্ঠী পরিকল্পিভাবে এ ঘটনা ঘটাতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তদন্ত করে ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আগামী সাধারণ নির্বাচন সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৫ ফেব্রুয়ারির মতো ভোটারবিহীন কোনো নির্বাচন দেশে হবে না। আগামী নির্বাচনে জনগণ অংশ নেবে, বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও জনগণ ওই নির্বাচনে অংশ নেবে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নেতিবাচক দিক তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বে সংসদীয় গণতন্ত্রে যে পদ্ধতিতে নির্বাচন হয়, বাংলাদেশেও সেভাবেই হবে।

0 মন্তব্য:
Post a Comment
আপনার মতামত দিন