
শনিবার পবিত্র ঈদ-উল-আজহা বা কোরবানির ঈদ। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য আর ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ঈদের প্রস্তুতি সেরেছেন মুসলিমরা।
পবিত্র কোরআনের আয়াত ‘ইন্না সালাতি ওয়া নুসুকি ওয়া মাহইয়ায়া ওয়া মামাতিলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন’ অর্থাৎ ‘আমার সব নামাজ ও কোরবানি এবং আমার জীবন ও মৃত্যু সব কিছুই মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের জন্য’-এই বাণী মুখে ও মনে রেখে ত্যাগের মহিমায় উজ্জীবিত হয়ে দিনটি পালন করা হবে সারা বিশ্বে।
বিশ্বব্যাপী মুসলমান সম্প্রদায়ের প্রধান দুটি ধর্মীয় উৎসবের একটি হলো এই ঈদ-উল আজহা। সারা বিশ্বের মুসলমানরা ঈদ-উল আজহায় মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি ও করুণা লাভের জন্য পশু কোরবানি দিয়ে থাকেন।
সারা দেশে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা, উৎসব আর ধর্মীয় নানা আচার-অনুষ্ঠানে পালিত হবে ঈদ-উল-আজহা। একই সঙ্গে মহান আল্লাহর অনুগ্রহ লাভের আশায় এ দিন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা পশু কোরবানি করবেন।
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে গত কয়েক দিন ধরেই দেশে উৎসবের পরিবেশ বিরাজ করছে। মুসলমানরা কুরবানির পশু এবং আনন্দের অনুষঙ্গ পোশাকসহ অন্যান্য কেনাকাটার মাধ্যমে ঈদ উৎসব উদযাপনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে রেখেছেন। অনেকে ঈদে প্রিয়জনকে উপহার প্রদান এবং আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুবান্ধবকে নিমন্ত্রণ করছেন।
ঈদ মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসব হলেও বাংলাদেশে এটি আর মুসলমানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, হয়ে গেছে সর্বজনীন। অন্য ধর্মের লোকজন কোরবানি না দিলেও শরিক হবেন বাকি ঈদ-পর্বে।
পবিত্র ঈদের দিনে ধনী-গরিব নির্বিশেষে ধর্মপ্রাণ সব মুসলমান ঈদগাহ বা মসজিদে সমবেত হয়ে ঈদের নামাজ আদায় করবেন। এরপর সামর্থ্যবানরা পশু কোরবানি করবেন। কুরবানির পশুর মাংস নিজে খাবেন এবং আত্মীয়-স্বজন ও দরিদ্র মানুষের মধ্যে বিলিয়ে দেবেন। এভাবেই ত্যাগের মধ্য দিয়ে সব মুসলমান চেষ্টা করে থাকেন আল্লাহর পরম সন্তুষ্টি অর্জনের।
মুসলমানদের এই ধর্মীয় উৎসবের সঙ্গে মিশে আছে ত্যাগের চরম পরীক্ষা। ইসলামের ইতিহাস অনুযায়ী, হযরত ইব্রাহিমের (আ.) কাছে তার পুত্র ইসমাইল ছিলেন তার প্রাণের চেয়েও প্রিয়। কিন্তু স্বপ্নে আল্লাহর কাছ থেকে সবচেয়ে প্রিয় বস্তুকে কুরবানি করার আদেশ পেয়ে কয়েকবার পশু কোরবানির পর শেষ পর্যন্ত প্রিয় পুত্রকেই তিনি কোরবানি করার উদ্যোগ নেন। তবে পরবর্তী সময়ে আল্লাহর ইচ্ছায় একটি দুম্বা কোরবানির মাধ্যমে আল্লাহর সেই নির্দেশ বাস্তবায়িত হয়।
শনিবার সকালে দুই রাকাত ওয়াজেব নামাজ জামাতে আদায়ের মধ্য দিয়ে ঈদের দিন শুরু হবে। এরপর যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী হালাল চতুষ্পদ প্রাণী কোরবানি করবেন। কোরবানির পশুর মাংস ৩ ভাগ করে ১ ভাগ নিজেদের খাওয়া, ১ ভাগ প্রতিবেশী ও আত্মীয়দের মধ্যে বিতরণ এবং আরেক ভাগ গরিবদের মধ্যে বিতরণ করার বিধান রয়েছে। বাড়ি বাড়ি থেকে মাংস সংগ্রহের মাধ্যমে সমাজের গরিব-দুঃখীদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে উৎসবের আমেজ।
তাই নানা অভাব-অভিযোগ, কষ্ট ও সীমাবদ্ধতার মধ্যেও ঈদ এক অনাবিল আনন্দের আধার। শ্রেণী বিভক্ত বর্তমান সমাজে ঈদ হচ্ছে এমন এক উৎসব, যেখানে সবাইকে দাঁড় করিয়ে দেয় এক কাতারে, সমানে সমান। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে ঈদ শুধু মুসলমানদের বিষয় হলেও এর মানবিক আবেদন সর্বজনীন। ত্যাগের শিক্ষার মাধ্যমে সবার মধ্যে মানবিকতার বোধ ও বন্ধন আরো প্রগাঢ় হয়। পারস্পরিক বোঝাপড়া হয় আরো সমৃদ্ধ।
ধর্মকেন্দ্রিক এ উৎসব পরিণত হয় সর্বজনীন বৃহৎ আনুষ্ঠানিকতায়। ধর্ম-বর্ণ, শ্রেণী-পেশা নির্বিশেষে এ দেশের হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টানসহ অন্যান্য ধর্মাবলম্বীর জন্যও সবচেয়ে বড়ো ছুটির পর্ব এটি। যে কারণে দিনটির জন্য সারা বছর ধরে সবাই থাকেন অপেক্ষায়।
ঈদের নামাজ শেষে ধনী-নির্ধন, আত্মীয়-অনাত্মীয় ভুলে গিয়ে সবাই কোলাকুলি করে পরস্পরের সঙ্গে। নতুন করে আবদ্ধ হন ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে। এদিক থেকেও ঈদের তাৎপর্য কম নয়।
হৃদয়ে ত্যাগের চেতনা নিয়েই আমরা অবগাহন করতে যাচ্ছি ঈদের আনন্দে। মানুষের জীবনে শান্তি, স্বস্তি আর নিরাপত্তা নিশ্চিত হোক, অবসান হোক অন্ধকার অমানিশার। ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ুক এ দেশের প্রতিটি ঘরে, হৃদয়ে হৃদয়ে এই প্রত্যাশা সবার।
পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে আমাদের সকল পাঠক,লেখক,বিজ্ঞাপনদাতা ও সাংবাদিক সহ সকলকে বাংলারবার্তাটুয়েন্টিফোর.কম পরিবারের পক্ষ থেকে ঈদ মোবারক।
0 মন্তব্য:
Post a Comment
আপনার মতামত দিন