আইনজীবী তালিকাভুক্তিতে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নির্বাচিত সদস্যদের এখতিয়ার খর্ব করে বাংলাদেশ লিগ্যাল প্র্যাকটিশনার্স অ্যান্ড বার কাউন্সিল (অ্যমেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট-২০১২ এর খসড়া অনুমোদন বিষয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন কাউন্সিলের নব নির্বাচিত ভাইস-চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেন ও এর তালিকাভুক্তকরণ (এনরোলমেন্ট) কমিটির সভাপতি ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন।
খন্দকার মাহবুব হোসেন এই প্রতিবেদককে বলেন, বার কাউন্সিলকে পঙ্গু করতেই সরকার এই সংশোধনী আনছে। সারা বাংলাদেশে এ জন্য প্রতিবাদের ঝড় উঠবে।
তিনি বলেন, বার কাউন্সিল পঙ্গু করার এ ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সমগ্র বাংলাদেশের আইনজীবীদের নিয়ে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, এটা সরকারের একটা ষড়যন্ত্রের ফসল। সরকার বার কাউন্সিলের নির্বাচনে হেরে গিয়ে এখন ভিন্নভাবে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।
প্রসঙ্গত, সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে বাংলাদেশ লিগ্যাল প্র্যাকটিশনার্স অ্যান্ড বার কাউন্সিল (অ্যমেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট-২০১২ এর খসড়া অনুমোদন দেয়া হয়।
প্রস্তাবিত আইনে আইনজীবীদের তালিকাভুক্তির জন্য কার্যরত এই এনরোলমেন্ট কমিটির গঠনে পরিবর্তন আনার কথা বলা হয়েছে। এই আইনটি জারি হলে সদস্য হিসেবে হাই কোর্ট বিভাগে এখনকার মতো একজন নয়- দুইজন বিচারক থাকবেন, এবং বার কাউন্সিলের দুইজন নয়- একজন সদস্য থাকবেন, যাকে আবার বাছাই করবেন অ্যাটর্নি জেনারেল। এতে করে নির্বাচিত বার কাউন্সিলের কোনো এখতিয়ার থাকছে না আইনজীবী তালিকাভুক্তকরণে।
এছাড়া বার কাউন্সিলের সচিব নিয়োগে কাউন্সিলের ক্ষমতাও রদ করা হয়েছে। সংশোধনী প্রস্তাব অনুসারে, একজন জেলা জজ পদমর্যাদার বিচারককে সরকার কাউন্সিলের সচিব হিসেবে নিয়োগ দেবেন।
স্বার্থের কিছু নেই, পরীক্ষা কঠিন করা হচ্ছে: অ্যাটর্নি জেনারেল
তবে আইনে এই সংশোধনীর অনুমোদনের বিষয়ে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের পদাধিকার বলে চেয়ারম্যান ও অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, এর জন্য সরকারকে দোষারোপ করে যারা কথা বলছেন তারা নেহাত অনর্থক বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা করছেন।
বার কাউন্সিলের সর্বশেষ নির্বাচনে সরকারপন্থি আইনজীবীরা শোচনীয়ভাবে হারায় আইনজীবী তালিকাভুক্তকরণে কাউন্সিলের ক্ষমতা খর্ব করা হচ্ছে; বার কাউন্সিল সদস্যদের এমন অভিযোগের জবাবে মাহবুবে আলম বলেন, এখানে স্বার্থের কিছু না। পেশাগত মান ঠিক রাখার জন্য এটা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, দেশে এখন অনেক প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে হয়েছে। অনেকেই এলএলবি (ব্যাচেলর অব ল’) সাটিফিকেট নিয়ে আসছেন। ফলে পরীক্ষা কঠিন করা হচ্ছে যাতে শুধু পয়সা অর্জনের জন্য কেউ এ পেশায় আসতে না পারে।


0 মন্তব্য:
Post a Comment
আপনার মতামত দিন