স্বপ্নিল রায়ঃ আমাদের ইন্টারনেট প্রীতি যে আশংকাজনক হারে বেড়ে চলেছে তা আর বলার অবকাশ রাখে না । তবে নাকি যারা প্রযুক্তিকে অতি মাত্রায় ভালবাসেন তারা হয়তো বলবেন বিজ্ঞানের উৎকর্ষতার এই যুগে সবাই প্রযুক্তিকে গ্রহণ করবে এতে অবাক হবার কি আছে মশাই? তবে আমি বলবো আছে , অবাক এবং ভয় পাওয়ার মত অনেক ব্যাপারই আছে। ইন্টারনেট এমন এক জায়গা যেখানে ভালো খবর যেমন আছে তেমনি আছে নেকড দুনিয়ার তাবৎ খবর । আপনারা হয়তো এখন বুঝতে পারছেন আমি ঠিক কি নিয়ে আলোচনা করতে চাচ্ছি। যদিও আমি এখানে ইন্টারনেটের বিন্দু মাত্র দোষ খুঁজে পাইনি কারণ
বিজ্ঞানের নিয়মেই প্রযুক্তি এগিয়ে যাবে এটাই স্বাভাবিক । কিন্তু আমরা তাকে ঠিক কিভাবে ব্যাবহার করবো সেটাই প্রশ্ন । ডিনামাইটের আবিষ্কারক অ্যালফ্রেড নোবেল কি জানতেন তার জনকল্যাণে করা আবিষ্কারকে মানুষ ধ্বংসাত্মক কাজে প্রয়োগ করবে? জানতেন না । জানলে মনে হয় তিনি আবিস্কার থেকে বিরত থাকতেন। তিনি তো মানব কল্যাণেই ডিনামাইট তৈরি করেছিলেন কিন্তু আমরা এই সভ্য দুনিয়ার মানুষেরা তার আবিষ্কারটাকে মানুষ মারার কাজে নিপুণ ভাবে ব্যাবহার করে চলেছি। এবার আসল কথায় আসি। মোবাইলের কল্যাণে এখন ছোট বড় সবাই আবার শহরে – গ্রামে সবাই ইন্টারনেট ব্যাবহার করার সুযোগ পাচ্ছে । এমনকি যে শিশুটি এখনো কথা বলা শেখে নাই তাকেও মোবাইলের রিংটোন না শোনালে দুধ খায় না । আজব কাণ্ড! একটা উদাহরণ দেই- স্কুলে আমার ক্লাস সিক্সে একটা ক্লাস আছে । একদিন যথারীতি ক্লাস নিচ্ছি । একটা ছেলে বলে উঠলো টিচার ঐ ছেলেটার কাছে মোবাইল ফোন আছে। আমি তাকে দাঁড় করালাম । সত্যি দেখি ওর পকেটে একটা ফোন । অডিও – ভিডিও , ক্যামেরা সব আছে । আমি তাকে প্রশ্ন করলাম তুমি মোবাইল দিয়ে কি কর ? আমরা বড়রা এটা ব্যাবহার করতে পারি । কারণ আমরা চাকরি করি । যেকোনো সময় ফোন আসতে পারে । কিন্তু তোমার এটা কি কাজে লাগে? ছেলেটি আস্তে করে জবাব দিলো টিচার বাবা কিনে দিয়েছে । আমি আর প্রশ্ন করলাম না যে বাবা কেন তোমাকে মোবাইল কিনে দিয়েছে। কারণ অনেক কারণ থাকতে পারে। আমি অবাক হলাম কারণ এই বয়সী একটা ছেলেকে কিভাবে একটা মোবাইল কিনে দেয়া যায়। হতেই পারে যে ছেলেটি মিথ্যে বলছে কিন্তু তার মোবাইল ব্যাবহারটা তো আর মিথ্যে নয় । কি কাজে এই বয়সী একটা ছেলে মোবাইল হাতে নিতে পারে । কেন এই চিন্তাভাবনা মাথায় আসে ? এটা একটা প্রশ্ন হতে পারে। একটা সময় ছিল যখন সাধারণ লোক মোবাইল কেনা তো দুরের কথা , কথা বলাটাই যেন ভাগ্য বলে মনে করতো। এখন অবস্থা ভিন্ন। মোবাইলের দাম এখন সবার হাতের নাগালে । নিন্মবিত্ত থেকে শুরু করে সবাই এই যন্ত্র ব্যাবহার করে । এটা যুগের দাবী। সল্প দামে অধিক সুবিধা সম্পূর্ণ মোবাইল এখন বাজারে সয়লাব । দেখা যাচ্ছে যে মাত্র দুই হাজার টাকার বিনিময়ে অডিও, ভিডিও, ব্লু ট্রুথ , ক্যামেরা ইত্যাদি নানাবিধ সুবিধা পাওয়া যায়। অবশ্য থাকাটাই স্বাভাবিক । কারণ প্রযুক্তির কাজই হলো সবার কাছে বিজ্ঞানের আশীর্বাদ পৌঁছে দেয়া । কিন্তু আশীর্বাদ নিতে গিয়ে অভিশাপ কিনে ফেলছি না তো আমরা ? কারণ কিশোর বয়সে সবচাইতে বেশী ঝোঁক থাকে ইন্টারনেটের প্রতি । কারণ সারাদিনে কয়টা কল আসে তাদের । তাহলে কি করে সেট দিয়ে? অবশ্যই ইন্টারনেটে থাকে । কিন্তু কি কাজ জানে তারা যে নেটে করবে? ফলে পর্ণ ওয়েবসাইট গুলো ভিজিট করে। নেকড পিকচার আর অশ্লীল গান ডাউনলডের কাজে মেতে থাকে তারা । যার ফলে তাদের মনে এক ধরনের প্রভাব পরে । এই প্রভাব থেকে তারা বের হতে পারে না । কারণ এটা যে নিষিদ্ধ । অবশ্য সবাই এটা করবে এমন না । কিন্তু এই বয়সী ছেলে মেয়েদের বেশীরভাগই করে । এর ফলে সমাজে কি প্রুভাব পরছে ? এক- ইভটিজিং বেড়ে চলেছে দুই- সামাজিক অপরাধ বেড়ে চলেছে । কারণ আমাদের সাধারণ মনোবাসনা হলো নিষিদ্ধ জগতের প্রতি দুর্নিবার আকর্ষণ । আর শুধু ইভটিজিং করেই শান্ত হচ্ছে না । অনেক সময় তাকে ধর্ষণ করা হচ্ছে এবং তারপর ভিকটিমকে নৃশংস ভাবে খুনও করছে । আর এদের অনেকেই কিন্তু টিন এজার । যার ফলে ভালো অনেক সাইট থাকা সত্তেও তারা ওইসব বাজে সাইটে ঢোকে। যা থেকে বের হওয়া খুব কষ্ট । তারা ছবির সাথে বাস্তবকে গুলিয়ে ফেলে । বেক্তিগত জীবনে এইসব প্রয়োগ করতে চায়। যাকে আমরা ইভটিজিং বলছি। এত ধরপাকড় আর আইন করা সত্তেও প্রতিদিন খবরের কাগজে আমরা এর ভয়াবহতা দেখতে পাই । কারণ এসব সাইট কিশোর মনকে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে নিষিদ্ধ যৌন জীবনের সাথে । যার ফল ভোগ করছি আমরা । প্রতিনিয়ত আমরা এর খেসারত দিচ্ছি । নীতি আর নৈতিকতার পথ থেকে আমরা ক্রমেই বের হয়ে যাচ্ছি। অবশ হয়ে যাচ্ছে আমাদের চেতনাগুলো। মনের ভেতর একধরনের দ্বন্দ্ব তৈরি হচ্ছে আমাদের । তাই বলি আপনার সন্তান মোবাইল কি কাজে ব্যাবহার করে তার দিকে লক্ষ্য রাখতে চেষ্টা করুন। যদি মনে করেন তার এই যন্ত্রটি ব্যাবহার করার মতো যথেষ্ট বয়স হয়নি তাহলে তাকে বোঝান যে সময় হলেই আপনি তাকে কিনে দিবেন । আপনাকে সচেতন থাকতে হবে যে আপনার আদরের সুযোগে সে সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হচ্ছে কি না। যদি পারেন তাকে ইন্টারনেটের ভালো সাইটগুলোর ব্যাবহার সম্পর্কে জানান । কারণ এটি আজ পড়াশুনার এক অন্যতম মাধ্যমে পরিণত হয়েছে। তাই আমরা সচেতন হই। কারণ মূল্যবোধ বিসর্জন দিয়ে শুধু প্রযুক্তি নিয়ে বাঁচা যায় না । গড়ে তুলি আমাদের আগামি প্রজন্ম।
লেখকঃস্বপ্নিল রায়।
বিজ্ঞানের নিয়মেই প্রযুক্তি এগিয়ে যাবে এটাই স্বাভাবিক । কিন্তু আমরা তাকে ঠিক কিভাবে ব্যাবহার করবো সেটাই প্রশ্ন । ডিনামাইটের আবিষ্কারক অ্যালফ্রেড নোবেল কি জানতেন তার জনকল্যাণে করা আবিষ্কারকে মানুষ ধ্বংসাত্মক কাজে প্রয়োগ করবে? জানতেন না । জানলে মনে হয় তিনি আবিস্কার থেকে বিরত থাকতেন। তিনি তো মানব কল্যাণেই ডিনামাইট তৈরি করেছিলেন কিন্তু আমরা এই সভ্য দুনিয়ার মানুষেরা তার আবিষ্কারটাকে মানুষ মারার কাজে নিপুণ ভাবে ব্যাবহার করে চলেছি। এবার আসল কথায় আসি। মোবাইলের কল্যাণে এখন ছোট বড় সবাই আবার শহরে – গ্রামে সবাই ইন্টারনেট ব্যাবহার করার সুযোগ পাচ্ছে । এমনকি যে শিশুটি এখনো কথা বলা শেখে নাই তাকেও মোবাইলের রিংটোন না শোনালে দুধ খায় না । আজব কাণ্ড! একটা উদাহরণ দেই- স্কুলে আমার ক্লাস সিক্সে একটা ক্লাস আছে । একদিন যথারীতি ক্লাস নিচ্ছি । একটা ছেলে বলে উঠলো টিচার ঐ ছেলেটার কাছে মোবাইল ফোন আছে। আমি তাকে দাঁড় করালাম । সত্যি দেখি ওর পকেটে একটা ফোন । অডিও – ভিডিও , ক্যামেরা সব আছে । আমি তাকে প্রশ্ন করলাম তুমি মোবাইল দিয়ে কি কর ? আমরা বড়রা এটা ব্যাবহার করতে পারি । কারণ আমরা চাকরি করি । যেকোনো সময় ফোন আসতে পারে । কিন্তু তোমার এটা কি কাজে লাগে? ছেলেটি আস্তে করে জবাব দিলো টিচার বাবা কিনে দিয়েছে । আমি আর প্রশ্ন করলাম না যে বাবা কেন তোমাকে মোবাইল কিনে দিয়েছে। কারণ অনেক কারণ থাকতে পারে। আমি অবাক হলাম কারণ এই বয়সী একটা ছেলেকে কিভাবে একটা মোবাইল কিনে দেয়া যায়। হতেই পারে যে ছেলেটি মিথ্যে বলছে কিন্তু তার মোবাইল ব্যাবহারটা তো আর মিথ্যে নয় । কি কাজে এই বয়সী একটা ছেলে মোবাইল হাতে নিতে পারে । কেন এই চিন্তাভাবনা মাথায় আসে ? এটা একটা প্রশ্ন হতে পারে। একটা সময় ছিল যখন সাধারণ লোক মোবাইল কেনা তো দুরের কথা , কথা বলাটাই যেন ভাগ্য বলে মনে করতো। এখন অবস্থা ভিন্ন। মোবাইলের দাম এখন সবার হাতের নাগালে । নিন্মবিত্ত থেকে শুরু করে সবাই এই যন্ত্র ব্যাবহার করে । এটা যুগের দাবী। সল্প দামে অধিক সুবিধা সম্পূর্ণ মোবাইল এখন বাজারে সয়লাব । দেখা যাচ্ছে যে মাত্র দুই হাজার টাকার বিনিময়ে অডিও, ভিডিও, ব্লু ট্রুথ , ক্যামেরা ইত্যাদি নানাবিধ সুবিধা পাওয়া যায়। অবশ্য থাকাটাই স্বাভাবিক । কারণ প্রযুক্তির কাজই হলো সবার কাছে বিজ্ঞানের আশীর্বাদ পৌঁছে দেয়া । কিন্তু আশীর্বাদ নিতে গিয়ে অভিশাপ কিনে ফেলছি না তো আমরা ? কারণ কিশোর বয়সে সবচাইতে বেশী ঝোঁক থাকে ইন্টারনেটের প্রতি । কারণ সারাদিনে কয়টা কল আসে তাদের । তাহলে কি করে সেট দিয়ে? অবশ্যই ইন্টারনেটে থাকে । কিন্তু কি কাজ জানে তারা যে নেটে করবে? ফলে পর্ণ ওয়েবসাইট গুলো ভিজিট করে। নেকড পিকচার আর অশ্লীল গান ডাউনলডের কাজে মেতে থাকে তারা । যার ফলে তাদের মনে এক ধরনের প্রভাব পরে । এই প্রভাব থেকে তারা বের হতে পারে না । কারণ এটা যে নিষিদ্ধ । অবশ্য সবাই এটা করবে এমন না । কিন্তু এই বয়সী ছেলে মেয়েদের বেশীরভাগই করে । এর ফলে সমাজে কি প্রুভাব পরছে ? এক- ইভটিজিং বেড়ে চলেছে দুই- সামাজিক অপরাধ বেড়ে চলেছে । কারণ আমাদের সাধারণ মনোবাসনা হলো নিষিদ্ধ জগতের প্রতি দুর্নিবার আকর্ষণ । আর শুধু ইভটিজিং করেই শান্ত হচ্ছে না । অনেক সময় তাকে ধর্ষণ করা হচ্ছে এবং তারপর ভিকটিমকে নৃশংস ভাবে খুনও করছে । আর এদের অনেকেই কিন্তু টিন এজার । যার ফলে ভালো অনেক সাইট থাকা সত্তেও তারা ওইসব বাজে সাইটে ঢোকে। যা থেকে বের হওয়া খুব কষ্ট । তারা ছবির সাথে বাস্তবকে গুলিয়ে ফেলে । বেক্তিগত জীবনে এইসব প্রয়োগ করতে চায়। যাকে আমরা ইভটিজিং বলছি। এত ধরপাকড় আর আইন করা সত্তেও প্রতিদিন খবরের কাগজে আমরা এর ভয়াবহতা দেখতে পাই । কারণ এসব সাইট কিশোর মনকে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে নিষিদ্ধ যৌন জীবনের সাথে । যার ফল ভোগ করছি আমরা । প্রতিনিয়ত আমরা এর খেসারত দিচ্ছি । নীতি আর নৈতিকতার পথ থেকে আমরা ক্রমেই বের হয়ে যাচ্ছি। অবশ হয়ে যাচ্ছে আমাদের চেতনাগুলো। মনের ভেতর একধরনের দ্বন্দ্ব তৈরি হচ্ছে আমাদের । তাই বলি আপনার সন্তান মোবাইল কি কাজে ব্যাবহার করে তার দিকে লক্ষ্য রাখতে চেষ্টা করুন। যদি মনে করেন তার এই যন্ত্রটি ব্যাবহার করার মতো যথেষ্ট বয়স হয়নি তাহলে তাকে বোঝান যে সময় হলেই আপনি তাকে কিনে দিবেন । আপনাকে সচেতন থাকতে হবে যে আপনার আদরের সুযোগে সে সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হচ্ছে কি না। যদি পারেন তাকে ইন্টারনেটের ভালো সাইটগুলোর ব্যাবহার সম্পর্কে জানান । কারণ এটি আজ পড়াশুনার এক অন্যতম মাধ্যমে পরিণত হয়েছে। তাই আমরা সচেতন হই। কারণ মূল্যবোধ বিসর্জন দিয়ে শুধু প্রযুক্তি নিয়ে বাঁচা যায় না । গড়ে তুলি আমাদের আগামি প্রজন্ম।
লেখকঃস্বপ্নিল রায়।


0 মন্তব্য:
Post a Comment
আপনার মতামত দিন