বাংলারবার্তাটুয়েন্টিফোর.কমঃ
রাজধানীর শ্যামপুরের তপন দাসকে গুমের মামলা তদন্তে সরকারের দেয়া তথ্যে সন্তুষ্ট নয় জাতিসংঘের গুম বিষয়ক কর্মপরিষদ। এ বিষয়ে জাতিসংঘ কর্মপরিষদটি সম্প্রতি সরকারের কাছে তথ্য চেয়ে পাঠালে সরকার জবাব দেয়, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সদস্য পরিচয়েই তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় গত ২০১১ সালের ৩ আগস্ট এবং তপনের স্ত্রীর দায়ের করা অপহরণ মামলার তদন্ত এখনো চলছে। তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বুধবার বার্তা২৪ ডটনেটকে জানিয়েছেন যে তদন্তে কোনো অগ্রগতি নেই।
পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়া থানার কাছে কেবি রোড থেকে গুম হয়ে যাওয়ার পর আজ পর্যন্ত তার খোঁজ মেলেনি। তপন দাসের পরিবার তখন জানিয়েছিল যে, গেন্ডারিয়া থানার কাছ থেকে তপন দাস ও তার বন্ধুকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিচয়ে সাত-আটজন লোক একটি সাদা মাইক্রোবাসে উঠিয়ে চোখ বেঁধে নিয়ে যায়- বন্ধুটিকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের মিন্টো রোডস্থ কার্যালয়ের সামনে নামিয়ে দিয়ে গেলে তিনি তপন পরিবারকে বিষয়টি জানান।
তপনদের বাড়ি শ্যামপুরের নবীনচন্দ্র গোস্বামী রোডে। ৪৩ বছর বয়স্ক তপন পেশায় দর্জি ছিলেন। নিখোঁজ হবার পরদিনই তপনের স্ত্রী সুমি দাস নিজেদের বাড়ির এলাকা শ্যামপুর থানায় একটি সাধারণ ডয়েরি করেন।
কিন্তু মামলা নিতে গড়িমসি করে পুলিশ। শ্যামপুর ও গেন্ডারিয়া থানা মামলা নেয়ার জন্য একে অপরকে বলে দীর্ঘ সময় কাটিয়ে দেয়। প্রায় চার মাস পরে গেন্ডারিয়া থানা ‘অপহরণ’ মামরা নেয়।
পরে বাংলাদেশি একটি শীর্ষ মানবাধিকার সংস্থা এই গুমের বিষয়টি জানায় গুম বিষয়ক জাতিসংঘ কর্মপরিষদকে। পরিষদ তপন দাসের গুম হওয়াকে তালিকাভুক্ত করে (১০০০৩২৭২ নং কেস) এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের কাছে তথ্য জানতে চায়।
গুম বিষয় জাতিসংঘ কর্মপরিষদ থেকে পাওয়া চিঠিতে দেখা যায় সম্প্রতি দেয়া জবাবে বাংলাদেশ সরকার জানিয়েছে যে তপন ও তার বন্ধু গোবিন্দ চন্দ্র দাসকে গত বছর আগস্টের তিন তারিখে বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে গেন্ডারিয়া থানার কাছ থেকে গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে দুই ব্যক্তি তুলে নিয়ে যায়। কিছু সময় পরে গোবিন্দকে ছেড়ে দেয় তারা। সরকার জানিয়েছে, এ বিষয়ে গেন্ডারিয়া থানায় তপনের স্ত্রীর দায়ের করা অপহরণ মামলার তদন্ত এখনো চলছে। জবাবে সরকার এও উল্লেখ করে, তার বিরুদ্ধে মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ ও অপরাধ তদন্ত বিভাগ (দক্ষিণ) কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের নজির পায়নি।
তবে কর্মপরিষদকে অবহিতকারী ওই মানবাধিকার সংস্থা ও তপনের পরিবারকে দেয়া চিঠিতে গুম বিষয়ক জাতিসংঘ কর্মপরিষদ উল্লেখ করেছে যে, তারা সরকারের এ জবাবে সন্তুষ্ট নয়। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবার জন্য সরকারকে বলেছে তারা।
এছাড়া বাগেরহাটের মোড়লগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম বহরবুনিয়া গ্রামের হাবিবুর রহমান ২০১১ সালের ৬ জুলাই মোড়েলগঞ্জ থানার এএসআই জহিরের নেতৃত্বে গ্রেফতারের পর থেকে নিখোঁজ আছেন বলে জাতিসংঘকে জানিয়েছে তার পরিবারের পক্ষে দেশের একটি মানবাধিকার সংস্থা। এ বিষয়ে গত ১৩ আগস্ট জানতে চেয়ে সরকারকে চিঠি দিয়েছে জাতিসংঘ কর্মপরিষদ।
প্রসঙ্গত, গুম হওয়ার অভিযোগ আছে এমন ব্যক্তিদের পরিবারকে তাকে খুঁজে পেতে বা প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করতে সহায়তা দিতে ১৯৮০ সালে ‘গুম বিষয়ক জাতিসংঘ কর্মপরিষদ’ গঠন করা হয়। সর্বশেষ ৮ থেকে ১৩ জুলাই পর্যন্ত সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় এর ৯৭তম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
ওই অধিবেশনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে জমা পড়া ২০০টি গুমের অভিযোগ পর্যালোচনা করেছে কর্মপরিষদ। এসব গুম তদন্তে বিভিন্ন দেশের সরকারের তথ্য চেয়েছিল সংস্থাটি। অধিবেশনে এসব তথ্যও যাচাই করে দেখা হয়। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত অনেকগুলো অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের তদন্ত চালিয়ে যাবে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।
কর্মপরিষদটির আগামী ৯৮তম অধিবেশন হবার কথা ২৯ অক্টোবর থেকে ৯ নভেম্বর।
এদিকে তপনের স্ত্রীর দায়ের করা অপহরণ মামলায় গেন্ডারিয়া থানায় বর্তমানে তদন্তের দায়িত্বে আছেন উপপরিদর্শক আবুল কালাম। তিনি বুধবার বিকেলে বার্তা২৪ ডটনেটকে জানান, তদন্তে অগ্রগতি নেই। পুরো ঘটনা সম্পর্কে তারা এখনো ‘অন্ধকারেই’ রয়েছেন।
পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, এ পর্যন্ত তারা ‘অপহরণে’র কোনো সূত্র খুঁজে বের করতে পারেননি।
তিনি জানান, সন্দেহভাজন কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ বা কোনো আলামতও সংগ্রহ করেননি তারা।
রাজধানীর শ্যামপুরের তপন দাসকে গুমের মামলা তদন্তে সরকারের দেয়া তথ্যে সন্তুষ্ট নয় জাতিসংঘের গুম বিষয়ক কর্মপরিষদ। এ বিষয়ে জাতিসংঘ কর্মপরিষদটি সম্প্রতি সরকারের কাছে তথ্য চেয়ে পাঠালে সরকার জবাব দেয়, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সদস্য পরিচয়েই তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় গত ২০১১ সালের ৩ আগস্ট এবং তপনের স্ত্রীর দায়ের করা অপহরণ মামলার তদন্ত এখনো চলছে। তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বুধবার বার্তা২৪ ডটনেটকে জানিয়েছেন যে তদন্তে কোনো অগ্রগতি নেই।
পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়া থানার কাছে কেবি রোড থেকে গুম হয়ে যাওয়ার পর আজ পর্যন্ত তার খোঁজ মেলেনি। তপন দাসের পরিবার তখন জানিয়েছিল যে, গেন্ডারিয়া থানার কাছ থেকে তপন দাস ও তার বন্ধুকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিচয়ে সাত-আটজন লোক একটি সাদা মাইক্রোবাসে উঠিয়ে চোখ বেঁধে নিয়ে যায়- বন্ধুটিকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের মিন্টো রোডস্থ কার্যালয়ের সামনে নামিয়ে দিয়ে গেলে তিনি তপন পরিবারকে বিষয়টি জানান।
তপনদের বাড়ি শ্যামপুরের নবীনচন্দ্র গোস্বামী রোডে। ৪৩ বছর বয়স্ক তপন পেশায় দর্জি ছিলেন। নিখোঁজ হবার পরদিনই তপনের স্ত্রী সুমি দাস নিজেদের বাড়ির এলাকা শ্যামপুর থানায় একটি সাধারণ ডয়েরি করেন।
কিন্তু মামলা নিতে গড়িমসি করে পুলিশ। শ্যামপুর ও গেন্ডারিয়া থানা মামলা নেয়ার জন্য একে অপরকে বলে দীর্ঘ সময় কাটিয়ে দেয়। প্রায় চার মাস পরে গেন্ডারিয়া থানা ‘অপহরণ’ মামরা নেয়।
পরে বাংলাদেশি একটি শীর্ষ মানবাধিকার সংস্থা এই গুমের বিষয়টি জানায় গুম বিষয়ক জাতিসংঘ কর্মপরিষদকে। পরিষদ তপন দাসের গুম হওয়াকে তালিকাভুক্ত করে (১০০০৩২৭২ নং কেস) এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের কাছে তথ্য জানতে চায়।
গুম বিষয় জাতিসংঘ কর্মপরিষদ থেকে পাওয়া চিঠিতে দেখা যায় সম্প্রতি দেয়া জবাবে বাংলাদেশ সরকার জানিয়েছে যে তপন ও তার বন্ধু গোবিন্দ চন্দ্র দাসকে গত বছর আগস্টের তিন তারিখে বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে গেন্ডারিয়া থানার কাছ থেকে গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে দুই ব্যক্তি তুলে নিয়ে যায়। কিছু সময় পরে গোবিন্দকে ছেড়ে দেয় তারা। সরকার জানিয়েছে, এ বিষয়ে গেন্ডারিয়া থানায় তপনের স্ত্রীর দায়ের করা অপহরণ মামলার তদন্ত এখনো চলছে। জবাবে সরকার এও উল্লেখ করে, তার বিরুদ্ধে মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ ও অপরাধ তদন্ত বিভাগ (দক্ষিণ) কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের নজির পায়নি।
তবে কর্মপরিষদকে অবহিতকারী ওই মানবাধিকার সংস্থা ও তপনের পরিবারকে দেয়া চিঠিতে গুম বিষয়ক জাতিসংঘ কর্মপরিষদ উল্লেখ করেছে যে, তারা সরকারের এ জবাবে সন্তুষ্ট নয়। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবার জন্য সরকারকে বলেছে তারা।
এছাড়া বাগেরহাটের মোড়লগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম বহরবুনিয়া গ্রামের হাবিবুর রহমান ২০১১ সালের ৬ জুলাই মোড়েলগঞ্জ থানার এএসআই জহিরের নেতৃত্বে গ্রেফতারের পর থেকে নিখোঁজ আছেন বলে জাতিসংঘকে জানিয়েছে তার পরিবারের পক্ষে দেশের একটি মানবাধিকার সংস্থা। এ বিষয়ে গত ১৩ আগস্ট জানতে চেয়ে সরকারকে চিঠি দিয়েছে জাতিসংঘ কর্মপরিষদ।
প্রসঙ্গত, গুম হওয়ার অভিযোগ আছে এমন ব্যক্তিদের পরিবারকে তাকে খুঁজে পেতে বা প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করতে সহায়তা দিতে ১৯৮০ সালে ‘গুম বিষয়ক জাতিসংঘ কর্মপরিষদ’ গঠন করা হয়। সর্বশেষ ৮ থেকে ১৩ জুলাই পর্যন্ত সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় এর ৯৭তম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
ওই অধিবেশনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে জমা পড়া ২০০টি গুমের অভিযোগ পর্যালোচনা করেছে কর্মপরিষদ। এসব গুম তদন্তে বিভিন্ন দেশের সরকারের তথ্য চেয়েছিল সংস্থাটি। অধিবেশনে এসব তথ্যও যাচাই করে দেখা হয়। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত অনেকগুলো অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের তদন্ত চালিয়ে যাবে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।
কর্মপরিষদটির আগামী ৯৮তম অধিবেশন হবার কথা ২৯ অক্টোবর থেকে ৯ নভেম্বর।
এদিকে তপনের স্ত্রীর দায়ের করা অপহরণ মামলায় গেন্ডারিয়া থানায় বর্তমানে তদন্তের দায়িত্বে আছেন উপপরিদর্শক আবুল কালাম। তিনি বুধবার বিকেলে বার্তা২৪ ডটনেটকে জানান, তদন্তে অগ্রগতি নেই। পুরো ঘটনা সম্পর্কে তারা এখনো ‘অন্ধকারেই’ রয়েছেন।
পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, এ পর্যন্ত তারা ‘অপহরণে’র কোনো সূত্র খুঁজে বের করতে পারেননি।
তিনি জানান, সন্দেহভাজন কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ বা কোনো আলামতও সংগ্রহ করেননি তারা।


0 মন্তব্য:
Post a Comment
আপনার মতামত দিন