দেশের উত্তরাঞ্চলের বেশ কয়েকটি জেলায় হঠাৎ করে বন্যা দেখা দেয়ায় ফসলের
ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।বাংলার বার্তা ২৪ ডটকম এর স্থানীয় প্রতিনিধিরা ও সরকারি
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন কোনো কোনো এলাকায় আমন ধান ও শীতকালীন সব্জি
পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে এবং পানি দ্রুত না কমলে ক্ষতির পরিমাণ আরো বাড়বে।
আমাদের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি জানিয়েছেন, জেলার বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। ব্রহ্মপুত্র নদের পানির তোড়ে রৌমারী উপজেলার ঝগড়ারচর এলাকার ডিসি রোডের ৫০ মিটার পাকা সড়ক ভেঙে গেছে। এতে করে নতুন করে দাঁতভাঙা ও শৌলমারী ইউনিয়নের ২২টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে বিপদসীমার ৪৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলার সাতটি উপজেলার ৪৫টি ইউনিয়নের সাড়ে ৩০০ গ্রাম প্লাবিত হয়ে পড়েছে। পানিবন্দি হয়েছে দুই লাখ ৬০ হাজার মানুষ। পানি উন্নয়ন বোর্ড সুত্র জানায়, গত ১২ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে তিন সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদসীমার ৪৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অপরদিকে নুনখাওয়া পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি ১৭ সেন্টিমিটার এবং ধরলার পানি সেতু পয়েন্টে ১৮ সেন্টিমিটার বেড়েছে।
রাজবাড়ী প্রতিনিধি প্রতিনিধি জানিয়েছেন, জেলার গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানি বিপদসীমার ৩৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে জেলার বিভিন্নস্থানের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাধ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, শুক্রবার পদ্মা নদীতে আরো তিন সেন্টিমিটার পানি বেড়েছে। এতে জেলার বন্যা নিয়ন্ত্রন বাধ বিভিন্ন স্থানে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
এছাড়া আমাদের বগুড়া ব্যুরো জানিয়েছে, শেরপুর-ধুনট বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের দু’টি অংশে ভয়াবহ ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। শেরপুর উপজেলা চককল্যানী ও বিনোদপুর অংশে এ ভাঙ্গন রোধ করা না গেলে বগুড়া ও সিরাজগঞ্জ জেলার বিস্তীর্ন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ঢাকায় বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্রের কর্মকর্তারা বলছেন, অপ্রত্যাশিত এই বন্যায় দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের অন্তত নয়টি জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে, তবে আগামী আটচল্লিশ ঘন্টায় পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে। উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে দেখা দেয়া বন্যাকে অস্বাভাবিক হিসেবে বর্ণনা করেছেন বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্রের কর্মকর্তারা। সেপ্টেম্বর মাসের একেবারে শেষের দিকে হঠাৎ করে এই বন্যা দেখা দিয়েছে এবং এর কারণ হিসেবে মূলত ভারতে হওয়া অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতকে দায়ী করা হচ্ছে।
বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী আমিরুল ইসলাম বলছেন, এ সময়ে এই ধরনের পরিস্থিতি একটি বিরল ঘটনা। তিনি বলেন, আসাম ও অরুণাচল প্রদেশের ব্যাপক এলাকায় গত কয়েক দিন আগে ধারাবাহিকভাবে বৃষ্টি হয়েছে। ওই পানিতে আসামে বন্যা দেখা দেয় এবং সেই বন্যার পানি এখন বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে নেমে যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, আমাদের আগে যে রেকর্ড রয়েছে, তাতে দেখা যায় যে সেপ্টেম্বর মাসের শেষের দিকে সাধারণত ওই এলাকায় বন্যা হয় না। সেপ্টেম্বরের ১৫ তারিখ পার হলে পানি বিপদসীমা পার হয়ে এর ওপরে ওঠে না। তিনি বলেন, “এবারে দেখা গেল সেপ্টেম্বরের শেষে এসে ব্রহ্মপুত্র নদীর সবটা এবং পদ্মা নদীরও কিছুটা বিপদসীমার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে।''
আসাম বন্যায় ভাসলে তার প্রভাব খুব দ্রুতই দেখা দেয় বাংলাদেশের উত্তরের জেলাগুলোতে। সবার আগে এর ধাক্কা লাগে কুড়িগ্রামে, কারণ ব্রহ্মপুত্রের পানি নামে এই জেলার ওপর দিয়েই। তবে কুড়িগ্রামের মানুষের কাছে চলতি বন্যা এসেছে অনেকটা বিস্ময় হিসেবে এবং এর জন্যে তারা একেবারেই প্রস্তত ছিলেন না। চর এলাকাগুলোতে ধান, বাদাম ও কালাইসহ সমস্ত ফসল ডুবে গিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা এই এলাকায় আবার খাদ্য ঘাটতির আশঙ্কা করছেন। পাশের জেলা গাইবান্ধা ক্ষতিগ্রস্থ এলাকাগুলোর একটি। সেখানেও মূল আশঙ্কা ফসল নিয়ে। পানি নেমে গেলে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ শুরু হবে, তবে কৃষি বিভাগের ধারনা, জেলায় কমপক্ষে তিন হাজার হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।
পরিস্থিতি সম্পর্কে জেলা প্রশাসক শহীদুল ইসলাম বলেন, মানুষের বাড়ি-ঘরে খুব একটা পানি ওঠেনি, কিন্তু আমনের বেশ ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয় জাতের যেসব ধান চরে চাষ করা হয়েছিল, সেগুলো তলিয়ে গেছে। এছাড়া রবিশস্যের ক্ষতি হয়েছে বলেও জানান তিনি। বলেন, “যদি পানি নামতে দেরি হয়, তাহলে ক্ষতির মাত্রা আরো বাড়বে।'' বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্রের কর্মকর্তারা অবশ্য জানিয়েছেন, সীমান্তে পানি কমতে শুরু করেছে, তবে এর প্রভাব দেশের মধ্যে পড়তে কিছুটা সময় লাগবে। কেন্দ্রের এক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী আটচল্লিশ ঘন্টায় গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্রে পানি কমবে, তবে পদ্মা ও মেঘনা অববাহিকায় পানি বাড়বে।
আমাদের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি জানিয়েছেন, জেলার বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। ব্রহ্মপুত্র নদের পানির তোড়ে রৌমারী উপজেলার ঝগড়ারচর এলাকার ডিসি রোডের ৫০ মিটার পাকা সড়ক ভেঙে গেছে। এতে করে নতুন করে দাঁতভাঙা ও শৌলমারী ইউনিয়নের ২২টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে বিপদসীমার ৪৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলার সাতটি উপজেলার ৪৫টি ইউনিয়নের সাড়ে ৩০০ গ্রাম প্লাবিত হয়ে পড়েছে। পানিবন্দি হয়েছে দুই লাখ ৬০ হাজার মানুষ। পানি উন্নয়ন বোর্ড সুত্র জানায়, গত ১২ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে তিন সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদসীমার ৪৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অপরদিকে নুনখাওয়া পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি ১৭ সেন্টিমিটার এবং ধরলার পানি সেতু পয়েন্টে ১৮ সেন্টিমিটার বেড়েছে।
রাজবাড়ী প্রতিনিধি প্রতিনিধি জানিয়েছেন, জেলার গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানি বিপদসীমার ৩৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে জেলার বিভিন্নস্থানের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাধ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, শুক্রবার পদ্মা নদীতে আরো তিন সেন্টিমিটার পানি বেড়েছে। এতে জেলার বন্যা নিয়ন্ত্রন বাধ বিভিন্ন স্থানে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
এছাড়া আমাদের বগুড়া ব্যুরো জানিয়েছে, শেরপুর-ধুনট বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের দু’টি অংশে ভয়াবহ ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। শেরপুর উপজেলা চককল্যানী ও বিনোদপুর অংশে এ ভাঙ্গন রোধ করা না গেলে বগুড়া ও সিরাজগঞ্জ জেলার বিস্তীর্ন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ঢাকায় বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্রের কর্মকর্তারা বলছেন, অপ্রত্যাশিত এই বন্যায় দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের অন্তত নয়টি জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে, তবে আগামী আটচল্লিশ ঘন্টায় পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে। উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে দেখা দেয়া বন্যাকে অস্বাভাবিক হিসেবে বর্ণনা করেছেন বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্রের কর্মকর্তারা। সেপ্টেম্বর মাসের একেবারে শেষের দিকে হঠাৎ করে এই বন্যা দেখা দিয়েছে এবং এর কারণ হিসেবে মূলত ভারতে হওয়া অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতকে দায়ী করা হচ্ছে।
বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী আমিরুল ইসলাম বলছেন, এ সময়ে এই ধরনের পরিস্থিতি একটি বিরল ঘটনা। তিনি বলেন, আসাম ও অরুণাচল প্রদেশের ব্যাপক এলাকায় গত কয়েক দিন আগে ধারাবাহিকভাবে বৃষ্টি হয়েছে। ওই পানিতে আসামে বন্যা দেখা দেয় এবং সেই বন্যার পানি এখন বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে নেমে যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, আমাদের আগে যে রেকর্ড রয়েছে, তাতে দেখা যায় যে সেপ্টেম্বর মাসের শেষের দিকে সাধারণত ওই এলাকায় বন্যা হয় না। সেপ্টেম্বরের ১৫ তারিখ পার হলে পানি বিপদসীমা পার হয়ে এর ওপরে ওঠে না। তিনি বলেন, “এবারে দেখা গেল সেপ্টেম্বরের শেষে এসে ব্রহ্মপুত্র নদীর সবটা এবং পদ্মা নদীরও কিছুটা বিপদসীমার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে।''
আসাম বন্যায় ভাসলে তার প্রভাব খুব দ্রুতই দেখা দেয় বাংলাদেশের উত্তরের জেলাগুলোতে। সবার আগে এর ধাক্কা লাগে কুড়িগ্রামে, কারণ ব্রহ্মপুত্রের পানি নামে এই জেলার ওপর দিয়েই। তবে কুড়িগ্রামের মানুষের কাছে চলতি বন্যা এসেছে অনেকটা বিস্ময় হিসেবে এবং এর জন্যে তারা একেবারেই প্রস্তত ছিলেন না। চর এলাকাগুলোতে ধান, বাদাম ও কালাইসহ সমস্ত ফসল ডুবে গিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা এই এলাকায় আবার খাদ্য ঘাটতির আশঙ্কা করছেন। পাশের জেলা গাইবান্ধা ক্ষতিগ্রস্থ এলাকাগুলোর একটি। সেখানেও মূল আশঙ্কা ফসল নিয়ে। পানি নেমে গেলে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ শুরু হবে, তবে কৃষি বিভাগের ধারনা, জেলায় কমপক্ষে তিন হাজার হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।
পরিস্থিতি সম্পর্কে জেলা প্রশাসক শহীদুল ইসলাম বলেন, মানুষের বাড়ি-ঘরে খুব একটা পানি ওঠেনি, কিন্তু আমনের বেশ ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয় জাতের যেসব ধান চরে চাষ করা হয়েছিল, সেগুলো তলিয়ে গেছে। এছাড়া রবিশস্যের ক্ষতি হয়েছে বলেও জানান তিনি। বলেন, “যদি পানি নামতে দেরি হয়, তাহলে ক্ষতির মাত্রা আরো বাড়বে।'' বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্রের কর্মকর্তারা অবশ্য জানিয়েছেন, সীমান্তে পানি কমতে শুরু করেছে, তবে এর প্রভাব দেশের মধ্যে পড়তে কিছুটা সময় লাগবে। কেন্দ্রের এক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী আটচল্লিশ ঘন্টায় গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্রে পানি কমবে, তবে পদ্মা ও মেঘনা অববাহিকায় পানি বাড়বে।


0 মন্তব্য:
Post a Comment
আপনার মতামত দিন