সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটকে গতকাল বুধবার তালা দিয়ে অবস্থান ধর্মঘট পালন করেছেন ছাত্রলীগের একাংশের নেতা-কর্মীরা। প্রধান প্রকৌশলী নিয়োগকে কেন্দ্র করে তাঁরা এই কর্মসূচি পালন করেন। এতে উপাচার্যসহ (ভিসি) অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রায় তিন ঘণ্টা ওই ভবনে আটকা পড়েন।বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, প্রধান প্রকৌশলী নিয়োগের জন্য গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টায় ওই ভবনে বোর্ড সভা হওয়ার কথা ছিল। এই বোর্ড সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সৈয়দ হাবিবুর রহমান ও জয়নাল ইসলাম চৌধুরীর মধ্য থেকে একজনকে প্রধান প্রকৌশলী নিয়োগ দেওয়ার কথা ছিল।
সৈয়দ হাবিবুর গত অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচনে আওয়ামী-বামপন্থী কর্মকর্তাদের প্যানেল এবং জয়নাল বিএনপি-জামায়াতপন্থী কর্মকর্তাদের প্যানেল থেকে নির্বাচনে অংশ নেন।
গতকাল সকাল ১০টা থেকে সৈয়দ হাবিবুরকে দুর্নীতিবাজ আখ্যায়িত করে তাঁকে নিয়োগ না দেওয়ার জন্য ছাত্রলীগের আহ্বায়ক শামছুজ্জামান চৌধুরীর নেতৃত্বে ছাত্রলীগের ২০-২৫ জন নেতা-কর্মী প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটকে তালা দিয়ে অবস্থান ধর্মঘট শুরু করেন। ছাত্রলীগের ছয় যুগ্ম আহ্বায়কের একজন আসাদুজ্জামানও এই ধর্মঘটে অংশ নেন। পরে বেলা পৌনে একটার দিকে ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক আনোয়ারুল ইসলাম ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের সামনে নিয়োগ বোর্ড স্থগিতের ঘোষণা দিলে তাঁরা ধর্মঘট তুলে নেন। পরে ধর্মঘটে অংশগ্রহণকারী ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের মিষ্টি খাওয়ান ছাত্রলীগের আহ্বায়ক।
তবে ছাত্রলীগের এই কর্মসূচির কারণে সকাল ১০টা থেকে বেলা একটা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি মো. সালেহ উদ্দিনসহ শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রশাসনিক ভবনে একরকম অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। এ সময় এই ভবনের ভেতর থেকে কেউ বের হতে পারেননি এবং কেউ বাইরে থেকে ভেতরে ঢুকতে পারেননি।
নেপথ্য কারণ দরপত্র না পাওয়া!: বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিথি ভবনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার নির্মাণকাজের দরপত্র আহ্বান করা হয়। ওই দরপত্রে অংশগ্রহণকারী ছাত্রলীগের স্থানীয় এক নেতার একটি প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দিতে চেয়েছিলেন ছাত্রলীগের আহ্বায়ক শামছুজ্জামান চৌধুরী। কিন্তু ওই প্রতিষ্ঠান সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে থাকলেও প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করতে না পারায় নির্মাণকাজ পায়নি। এ সময় দরপত্র কমিটির সদস্যসচিব ছিলেন সৈয়দ হাবিবুর রহমান। ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ না পাওয়ায় তাঁর ওপর ক্ষিপ্ত হন ছাত্রলীগের আহ্বায়ক। এ জন্য তিনি তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীকে প্রধান প্রকৌশলী করার বিষয়টি মেনে নিতে পারছেন না। এ ছাড়া, বর্তমান নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুসারে আহ্বায়কের একজন প্রার্থী আবেদন করতে পারেননি। নিয়োগ বোর্ড বাতিল হলে তাঁকে আবেদন করিয়ে ওই পদে বসানো যাবে। তাই ছাত্রলীগকে ব্যবহার করে তিনি তা করতে চান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ধর্মঘটে অংশগ্রহণকারী ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন কর্মী বাংলারবার্তা২৪ কে জানান , ‘সৈয়দ হাবিবুরকে ছাত্রলীগের আহ্বায়ক শামছুজ্জামান চৌধুরী দুর্নীতিবাজ বলেছেন, তাই আমরা ধর্মঘটে এসেছি। এ ছাড়া, সামনে ছাত্রলীগের কমিটি আসবে। তাই ইচ্ছা না থাকলেও আন্দোলনে থাকতে হবে।’
আওয়ামী-বামপন্থী হিসেবে পরিচিত একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বললে তাঁরা বলেন, ‘ছাত্রলীগ কার স্বার্থে এ কাজ করছে জানি না। তবে কি তাঁরা চান জামায়াতপন্থী অপর প্রকৌশলী নিয়োগ পাক?’
ছাত্রলীগের আহ্বায়ক শামছুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘ওগুলো সব ভুয়া কথা। আমাদের দাবি, এই বিজ্ঞপ্তি বাতিল হোক। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি বাতিলের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা আন্দোলন স্থগিত করেছি।’ উপাচার্য মো. সালেহ উদ্দিন বলেন, ‘আমি ছাত্রলীগের এ ঘটনায় খুবই হতাশ হয়েছি। নিশ্চিয়ই তারা কারও ইন্ধনে এ কাজ করেছে।’

0 মন্তব্য:
Post a Comment
আপনার মতামত দিন