স্বামী মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার নির্বাচনী প্রচারণার সূত্র ধরে সাধারণ মানুষের সামনে আসার প্রথম অভিজ্ঞতা মোটেও সুখকর নয় ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামার। সেটা ২০০৮ সালের কথা। ওই সময় মিশেল এমন কিছু মন্তব্য করেন, যা বিতর্ক সৃষ্টি করে। এমনকি ওবামার নির্বাচনী প্রচারণা ভণ্ডুল হওয়ার উপক্রম হয়।
চার বছর পর ২০১২ সালের নির্বাচনকে সামনে রেখে গত মঙ্গলবার মিশেল যখন নর্থ ক্যারোলাইনার শারলটে ডেমোক্র্যাট দলের জাতীয় সম্মেলনে হাজির হন, তখন তিনি আর সেই বদমেজাজি ও একরোখা মানুষ নন। রীতিমতো রাজনৈতিক তারকা।
গত চার বছরে নিজেকে আমূল বদলে ফেলেছেন মিশেল ওবামা। জড়তা ভেঙে নিজেকে সমর্থক-ভক্তসহ সর্বস্তরের মানুষের কাছে জনপ্রিয় করে তুলেছেন তিনি।
২০০৮ সালে ডেমোক্র্যাট দলের সম্মেলনে প্রথমবার স্বামী বারাক ওবামার প্রতি সমর্থন জানাতে যে মিশেল ওবামা হাজির হয়েছিলেন, তাঁর মধ্যে জড়তা ছিল। তিনি ছিলেন খানিকটা অপ্রস্তুত ও বিব্রত।
চার বছর আগের মিশেল ওবামার ভাবমূর্তি প্রসঙ্গে টেক্সাসের বেলর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা, জনসংযোগ ও নিউ মিডিয়া বিভাগের অধ্যাপক মিয়া মোডি-রামিরেজ বিবিসি অনলাইনকে বলেন, মিশেল দেশপ্রেমিক ও আমেরিকান নন—এমন একটি ভাবমূর্তি দাঁড় করানো হয়েছিল।
তবে চার বছর পর মিশেল ওবামাকে কেউ আর এভাবে চিত্রিত করতে পারবে না। তিনি নিজেকে সবার কাছে মমতাময়ী স্ত্রী, মা ও মেয়ে হিসেবে উপস্থাপন করেছেন, যা তাঁর জনপ্রিয়তা বাড়িয়ে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছে।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদক ও ‘দ্য ওবামাস’ বইয়ের লেখক জোডি কান্টর বিবিসি অনলাইনকে বলেন, ২০০৮ সালে নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর সময় রাজনীতির দৌড়ে শামিল হওয়া নিয়ে মিশেলের মধ্যে খানিকটা দ্বিধা ও ইতস্তত ভাব ছিল। তবে যাঁরা মিশেলকে দীর্ঘদিন ধরে চেনেন, তাঁরা জানেন তিনি বেশ অমায়িক ও প্রাণশক্তিতে ভরপুর একজন ব্যক্তি। হার্ভার্ড থেকে আইন বিষয়ে পড়াশোনা করা মিশেল ওবামার সহজাত ব্যাপার, স্বামী বারাক ওবামার নেওয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্তের ব্যাপারে নিজের যুক্তিতর্ক তুলে ধরা। রাজনৈতিক নেতাদের স্ত্রীরা সাধারণত স্বামীর রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ব্যাপারে ততটা জোরালো ভূমিকা পালন না করায়, মিশেলের এই ব্যাপারটিকে মার্কিনরা তেমন ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করতে পারেনি। এ ছাড়া তাঁর আফ্রিকান-আমেরিকান সত্তাকে অনেকে নেতিবাচকভাবে নিয়েছিলেন। তাঁদের ধারণা, এই গোষ্ঠীর নারীরা মাতৃতান্ত্রিক মনোভাবাপন্ন ও কড়া স্বভাবের হয়ে থাকে।
এই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বারাক ওবামার নির্বাচনী প্রচারণার দায়িত্বে থাকা দলটি সেবারই মিশেলকে একটু ভিন্নভাবে উপস্থাপনের উদ্যোগ নেয়। মিশেলের কড়া আইনজীবী ভাবমূর্তি ভেঙে তাঁকে উপস্থাপন করা হয় মমতাময়ী মা ও স্ত্রী হিসেবে। ওই সময় পরবর্তী নির্বাচনী সমাবেশে মিশেল বলেন, ‘আমি একজন স্ত্রী, মা, মেয়ে ও বোন হিসেবে এখানে দাঁড়িয়েছি।’ আর এতেই কাজ হয়। সবাই তখন তাঁকে আপন করে নেয়। এরপর তাঁকে আর পেছনে ফিরতে হয়নি। সাধারণ মানুষ মিশেলের এই ভাবমূর্তিকে গ্রহণ করে, যা তাঁকে আজ যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বদের একজনে পরিণত করেছে।
২০০৯ সালের জানুয়ারিতে বারাক ওবামা যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন, তখন থেকে গণমাধ্যম খুঁজতে থাকে মিশেলের মুখ। এ পর্যন্ত তিনি ইতিবাচক হিসেবে গণমাধ্যমের খবর হয়েছেন।
বিবিসির খবরে বলা হয়, দায়িত্ব নেওয়ার পরপর প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার যখন জনপ্রিয়তা কমতে থাকে, তখন মিশেলের জনপ্রিয়তার চিত্র ছিল ঊর্ধ্বমুখী। ২০১২ সালের মে মাসে গ্যালপ পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে, বারাক ওবামার জনপ্রিয়তা ৫২ শতাংশ হলেও তাঁর স্ত্রী ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামার জনপ্রিয়তা ৬২ শতাংশ।
ফার্স্ট লেডি হিসেবে গত চার বছরে মিশেল ওবামা সব সময়ই নারী-শিশু ও পরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে কাজ করেছেন। সাবেক ফার্স্ট লেডি লরা বুশ যখন সাক্ষরতা নিয়ে কাজ করেছেন, মিশেল তখন সামরিক বাহিনীর পরিবারের সদস্যদের কল্যাণে এবং শিশুদের মুটিয়ে যাওয়া রোধে কাজ শুরু করেন। স্বাস্থ্যসম্মত শাকসবজির জন্য হোয়াইট হাউসে বাগান করেও তিনি মানুষের নজর কাড়েন।
নিউজউইকের জ্যেষ্ঠ লেখক আলিসন সামুয়েলের মতে, ক্ষমতা গ্রহণের পর মিশেল বুঝতে পারেন, রাষ্ট্র পরিচালনার কাজ ওবামার এবং তাঁকে তাঁর মতো কাজ করতে দেওয়া উচিত। তখন মিশেল তাঁর মতো করে নতুন ক্ষেত্রে নিজের দক্ষতা দেখাতে শুরু করেন। আগামী নির্বাচনে বারাক ওবামার পুনর্নির্বাচিত হওয়ার ক্ষেত্রে মিশেল ওবামা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন বলেই ডেমোক্র্যাটরা আশা করছে।
মিশেল ওবামা এবার যে ভাষণ দিয়েছেন, এতে বারবার বলেছেন, তাঁর স্বামীর নেওয়া পরিকল্পনাগুলো দেশের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে। আর এর মধ্য দিয়ে তিনি এখনো মনস্থির না করা অনেক ভোটারকে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে নিয়ে এসেছেন। ওবামার প্রতিদ্বন্দ্বী মিট রমনির স্ত্রী অ্যান রমনির সঙ্গে মিশেল ওবামার তুলনামূলক বিশ্লেষণ করে আলিসন সামুয়েল বলেন, অ্যান সমর্থকদের উদ্দেশে যেসব কথা বলেছেন, তা তাত্ত্বিক। আর মিশেল যা বলেছেন, তা নারী-শিশু ও দরিদ্র নারীর কল্যাণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এই বিষয়গুলো ভোটাররা দ্রুত গ্রহণ করছেন।
জোডি কান্টরের মতে, এই মুহূর্তে মিশেল ওবামা দেশের জনপ্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তিনি ওমাবার নির্বাচনী তহবিল গঠনে ভূমিকা রাখছেন। দ্বিতীয় মেয়াদে বারাক ওবামাকে ক্ষমতায় আনতে তিনি তাঁর এই প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
চার বছর পর ২০১২ সালের নির্বাচনকে সামনে রেখে গত মঙ্গলবার মিশেল যখন নর্থ ক্যারোলাইনার শারলটে ডেমোক্র্যাট দলের জাতীয় সম্মেলনে হাজির হন, তখন তিনি আর সেই বদমেজাজি ও একরোখা মানুষ নন। রীতিমতো রাজনৈতিক তারকা।
গত চার বছরে নিজেকে আমূল বদলে ফেলেছেন মিশেল ওবামা। জড়তা ভেঙে নিজেকে সমর্থক-ভক্তসহ সর্বস্তরের মানুষের কাছে জনপ্রিয় করে তুলেছেন তিনি।
২০০৮ সালে ডেমোক্র্যাট দলের সম্মেলনে প্রথমবার স্বামী বারাক ওবামার প্রতি সমর্থন জানাতে যে মিশেল ওবামা হাজির হয়েছিলেন, তাঁর মধ্যে জড়তা ছিল। তিনি ছিলেন খানিকটা অপ্রস্তুত ও বিব্রত।
চার বছর আগের মিশেল ওবামার ভাবমূর্তি প্রসঙ্গে টেক্সাসের বেলর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা, জনসংযোগ ও নিউ মিডিয়া বিভাগের অধ্যাপক মিয়া মোডি-রামিরেজ বিবিসি অনলাইনকে বলেন, মিশেল দেশপ্রেমিক ও আমেরিকান নন—এমন একটি ভাবমূর্তি দাঁড় করানো হয়েছিল।
তবে চার বছর পর মিশেল ওবামাকে কেউ আর এভাবে চিত্রিত করতে পারবে না। তিনি নিজেকে সবার কাছে মমতাময়ী স্ত্রী, মা ও মেয়ে হিসেবে উপস্থাপন করেছেন, যা তাঁর জনপ্রিয়তা বাড়িয়ে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছে।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদক ও ‘দ্য ওবামাস’ বইয়ের লেখক জোডি কান্টর বিবিসি অনলাইনকে বলেন, ২০০৮ সালে নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর সময় রাজনীতির দৌড়ে শামিল হওয়া নিয়ে মিশেলের মধ্যে খানিকটা দ্বিধা ও ইতস্তত ভাব ছিল। তবে যাঁরা মিশেলকে দীর্ঘদিন ধরে চেনেন, তাঁরা জানেন তিনি বেশ অমায়িক ও প্রাণশক্তিতে ভরপুর একজন ব্যক্তি। হার্ভার্ড থেকে আইন বিষয়ে পড়াশোনা করা মিশেল ওবামার সহজাত ব্যাপার, স্বামী বারাক ওবামার নেওয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্তের ব্যাপারে নিজের যুক্তিতর্ক তুলে ধরা। রাজনৈতিক নেতাদের স্ত্রীরা সাধারণত স্বামীর রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ব্যাপারে ততটা জোরালো ভূমিকা পালন না করায়, মিশেলের এই ব্যাপারটিকে মার্কিনরা তেমন ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করতে পারেনি। এ ছাড়া তাঁর আফ্রিকান-আমেরিকান সত্তাকে অনেকে নেতিবাচকভাবে নিয়েছিলেন। তাঁদের ধারণা, এই গোষ্ঠীর নারীরা মাতৃতান্ত্রিক মনোভাবাপন্ন ও কড়া স্বভাবের হয়ে থাকে।
এই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বারাক ওবামার নির্বাচনী প্রচারণার দায়িত্বে থাকা দলটি সেবারই মিশেলকে একটু ভিন্নভাবে উপস্থাপনের উদ্যোগ নেয়। মিশেলের কড়া আইনজীবী ভাবমূর্তি ভেঙে তাঁকে উপস্থাপন করা হয় মমতাময়ী মা ও স্ত্রী হিসেবে। ওই সময় পরবর্তী নির্বাচনী সমাবেশে মিশেল বলেন, ‘আমি একজন স্ত্রী, মা, মেয়ে ও বোন হিসেবে এখানে দাঁড়িয়েছি।’ আর এতেই কাজ হয়। সবাই তখন তাঁকে আপন করে নেয়। এরপর তাঁকে আর পেছনে ফিরতে হয়নি। সাধারণ মানুষ মিশেলের এই ভাবমূর্তিকে গ্রহণ করে, যা তাঁকে আজ যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বদের একজনে পরিণত করেছে।
২০০৯ সালের জানুয়ারিতে বারাক ওবামা যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন, তখন থেকে গণমাধ্যম খুঁজতে থাকে মিশেলের মুখ। এ পর্যন্ত তিনি ইতিবাচক হিসেবে গণমাধ্যমের খবর হয়েছেন।
বিবিসির খবরে বলা হয়, দায়িত্ব নেওয়ার পরপর প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার যখন জনপ্রিয়তা কমতে থাকে, তখন মিশেলের জনপ্রিয়তার চিত্র ছিল ঊর্ধ্বমুখী। ২০১২ সালের মে মাসে গ্যালপ পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে, বারাক ওবামার জনপ্রিয়তা ৫২ শতাংশ হলেও তাঁর স্ত্রী ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামার জনপ্রিয়তা ৬২ শতাংশ।
ফার্স্ট লেডি হিসেবে গত চার বছরে মিশেল ওবামা সব সময়ই নারী-শিশু ও পরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে কাজ করেছেন। সাবেক ফার্স্ট লেডি লরা বুশ যখন সাক্ষরতা নিয়ে কাজ করেছেন, মিশেল তখন সামরিক বাহিনীর পরিবারের সদস্যদের কল্যাণে এবং শিশুদের মুটিয়ে যাওয়া রোধে কাজ শুরু করেন। স্বাস্থ্যসম্মত শাকসবজির জন্য হোয়াইট হাউসে বাগান করেও তিনি মানুষের নজর কাড়েন।
নিউজউইকের জ্যেষ্ঠ লেখক আলিসন সামুয়েলের মতে, ক্ষমতা গ্রহণের পর মিশেল বুঝতে পারেন, রাষ্ট্র পরিচালনার কাজ ওবামার এবং তাঁকে তাঁর মতো কাজ করতে দেওয়া উচিত। তখন মিশেল তাঁর মতো করে নতুন ক্ষেত্রে নিজের দক্ষতা দেখাতে শুরু করেন। আগামী নির্বাচনে বারাক ওবামার পুনর্নির্বাচিত হওয়ার ক্ষেত্রে মিশেল ওবামা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন বলেই ডেমোক্র্যাটরা আশা করছে।
মিশেল ওবামা এবার যে ভাষণ দিয়েছেন, এতে বারবার বলেছেন, তাঁর স্বামীর নেওয়া পরিকল্পনাগুলো দেশের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে। আর এর মধ্য দিয়ে তিনি এখনো মনস্থির না করা অনেক ভোটারকে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে নিয়ে এসেছেন। ওবামার প্রতিদ্বন্দ্বী মিট রমনির স্ত্রী অ্যান রমনির সঙ্গে মিশেল ওবামার তুলনামূলক বিশ্লেষণ করে আলিসন সামুয়েল বলেন, অ্যান সমর্থকদের উদ্দেশে যেসব কথা বলেছেন, তা তাত্ত্বিক। আর মিশেল যা বলেছেন, তা নারী-শিশু ও দরিদ্র নারীর কল্যাণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এই বিষয়গুলো ভোটাররা দ্রুত গ্রহণ করছেন।
জোডি কান্টরের মতে, এই মুহূর্তে মিশেল ওবামা দেশের জনপ্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তিনি ওমাবার নির্বাচনী তহবিল গঠনে ভূমিকা রাখছেন। দ্বিতীয় মেয়াদে বারাক ওবামাকে ক্ষমতায় আনতে তিনি তাঁর এই প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।


0 মন্তব্য:
Post a Comment
আপনার মতামত দিন