ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি বলেছেন, ‘‘উপদেষ্টাদের কোনো মা-বাপ নেই। তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন না। ফলে জনগণের কাছে তাদের কোনো জবাবদিহিতা নেই।’’ বুধবার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ‘সাত দল’ আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন। এতে সভাপতিত্ব করেন গণআজাদী লীগের সভাপতি আবদুস সামাদ।
মেনন বলেন, ‘‘হলমার্কের অর্থ লোপাটের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। এমনকি সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের আইনি ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়নি। এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে গেছে, এই কেলেঙ্কারিতে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিদের জোগসাজশ আছে। সে কারণেই তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে না।’’
কুইক রেন্টালের মাধ্যমে অর্থ লোপাটের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং সরকার আইন করেছে তাদের দায় মুক্তির সুযোগ করে দিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন মহাজোট সরকারের এই শরিক নেতা।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি কেন্দ্রীয় ক্ষমতাসীন জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার উদাহরণ টেনে রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘‘আমরা এখনো মহাজোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিইনি। আমাদের সমর্থন অব্যাহত রেখেছি।’’
সরকারকে হুঁশিয়ার করে দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘এখনো সময় আছে ভুলগুলো সংশোধন করুন। সামনেই নির্বাচন। ভোটের রাজনীতির মাধ্যমে জনগণ এর জবাব দিবে।’’
সামবেশে গণঐক্যের আহবায়ক পংকজ ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি রাষ্ট্র ক্ষমতায় বলে শেখ হাসিনা কোনো গণবিরোধী কাজ করলে তা মেনে নেয়া যায় না। অন্য দিকে রাজাকারদের রাজত্ব আসছে। আমরা তা আসতে দিতে পারি না।’’
তিনি বলেন, ‘‘মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের নামে যে নাটক হয়েছে মেনন তাতে যোগ না দিয়ে প্রশংসাযোগ্য কাজ করেছেন। তিনি মন্ত্রী হলে রাতের ঘুম হারাম হতো এবং জনগণের পক্ষে আজ কথা বলতে পারতেন না।’’
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক মোজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ‘‘হলমার্ক কেলেঙ্কারিতে জড়িতদের গ্রেফতার করে শাস্তির মুখোমুখি করতে হবে। একজন শ্রমিক মাসে বেতন পান তিন হাজার টাকা, আর জনগণের এত টাকা কেউ লুট করে নিবে, তার বিচার হবে না, তা হতে পারে না।’’
জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষে মহাজোটের বাইরে আলাদা একটি জোট গঠনের জন্য সমমনা দলগুলোর প্রতি আহবান জানান তিনি।
হলমার্কসহ সকল আর্থিক খাতের অনিয়ম-দুর্নীতি, বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি, পাহাড়ি ও আদিবাসীদের ওপর হামলা-মামলা এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ এনে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
আরো বক্তব্য রাখেন, সাম্যবাদী দলের পলিটব্যুরো’র সদস্য আবু আমের শাহাবুদ্দিন, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক নুরুর রহমান সেলিম, শাহাদৎ হোসেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের জনসংহতি পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শক্তিধর ত্রিপুরা, আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জিব দ্রং, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের ড. অশিত বরণ প্রমুখ।

0 মন্তব্য:
Post a Comment
আপনার মতামত দিন