বাংলারবার্তাটুয়েন্টিফোর.কম
মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে ভর্তির ক্ষেত্রে সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে করা রিট প্রত্যাহার করা হলে এ বছর পরীক্ষার মাধ্যমে ভর্তি করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হক। তবে মামলা প্রত্যাহার করা না হলে আদালতের রায়ের ভিত্তিতে ভর্তি করা হবে বলেও জানান তিনি।
রোববার মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে ভর্তির পদ্ধতি নিয়ে আলোচনার জন্য সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও সিদ্ধান্তের পক্ষের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা শেষে মন্ত্রী এ কথা জানান। সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ বৈঠক হয়।
এদিকে মেডিকেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষাবিদদের নিয়ে একটি কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক ও কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ।
অপরদিকে আলোচনা ফলপ্রসূ হয়নি বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন বৈঠকে অংশগ্রহণকারী আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। তারা বলেন, “আমাদের দাবি মানার বিষয়ে মন্ত্রী কোনো আশ্বাস দেননি তাই আমরা মামলা প্রত্যাহার করবো না।”
মন্ত্রী বলেন, “মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত চেয়ে মামলা বিচারধীন আছে। যদি মামলাটি প্রত্যাহার করা হয়। তবে আমরা সভা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব। আর মামলা প্রত্যাহার করা না হলে আদালতের রায়ের ভিত্তিতেই আমাদের ভর্তি কার্যক্রম চালাতে হবে।”
মামলা প্রত্যাহার করলে পরীক্ষার মাধ্যমে ভর্তি করা হবে কিনা জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, “মেডিকেলে পূর্বের ভর্তি পদ্ধতি এখনো বহাল রয়েছে। আমারা নীতিমালা পরিবর্তন করিনি। ভর্তি পরীক্ষা বাতিলের বিষয়টি আমাদের প্রস্তাব ছিল। সিদ্ধান্ত নয়। আমরা আগের পদ্ধতিই অনুসরণ করবো। এছাড়া চলতি বছর ভর্তির ক্ষেত্রে পরীক্ষা নিয়ে পরবর্তী বছর থেকে ফলাফলের ভিত্তিতে ভর্তি করার বিষয়টি মামলার আরজিতেই রয়েছে।”
একই সঙ্গে আদালতের রায় প্রদানে বিলম্ব হলে পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে ভর্তির ক্ষেত্রে পরীক্ষা নেয়ার জন্য শিগগিরই আবেদন পত্র চাওয়া হবে বলেও মন্ত্রী জানান।
বৈঠকে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী মুজিবুর রহমান ফকির, স্বাস্থ্য সচিব মো. হুমায়ুন কবির, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. খন্দকার সিফায়েত উল্লাহ, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ অংশ নেন।
আন্দোলনকারীদের পক্ষে ফারজানা, মমিনুল, আশিক, ফয়েজ ও নাজমুল। সরকারি সিদ্ধান্তের পক্ষে সৃষ্টি সাহা সেতু, সৈয়দ আকিব হোসেন ও নিশাত হোসেন জবা অংশ নেন। এছাড়াও কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকছুদ উপস্থিত ছিলেন।
আন্দোলনকারীদের পক্ষে বৈঠকে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা সাংবাদিকদের বলেন, “বৈঠকে আমরা ঐক্যমতে পৌঁছাতে পারিনি। মন্ত্রী আমাদের দাবি-দাওয়া বলতেই দেননি। বিকেল চারটার মধ্যে মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে আমাদের সিদ্ধান্ত জানতে চেয়েছেন।”
তারা আরো বলেন, “জিপিএ’র ভিত্তিতে মেডিকেলে ভর্তির জন্য যে ক্রাইটেরিয়া প্রকাশ করা হয়েছে। তাতে বর্তমানে যারা নবম শ্রেণীতে পড়ছেন তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তাই আমরা বলেছি ২০১৬ সাল পর্যন্ত ভর্তি পরীক্ষা চালু রাখাতে হবে। মন্ত্রী এ বিষয়ে একমত হননি।”
গত ১২ আগস্ট এক সভা শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হক জানান, মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজগুলোতে ভর্তির জন্য চলতি বছর থেকে আর পরীক্ষা নেয়া হবে না। এএসসি ও এইচএসসির ফলাফলের ভিত্তিতে ভর্তি করা হবে। এরপর থেকেই এ সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলন শুরু করে।
তবে সরকারের সিদ্ধান্তের পক্ষেও মাঠে নামে মেডিকেলে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের একটি অংশ। তারা মানববন্ধনসহ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পরীক্ষা পদ্ধতি বাতিলের যৌক্তিকতাও তুলে ধরেন।
এরপর সরকারের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে রিট আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. ইউনুস আলী আকন্দ। শুনানি শেষে গত ১৪ আগস্ট পরীক্ষা পদ্ধতি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চেয়ে সরকারের প্রতি রুল জারি করেন আদালত।
পরে পুরনো নিয়মে ভর্তির প্রক্রিয়া শুরুর নির্দেশনা চেয়ে গত ২৩ আগস্ট হাই কোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চে আবেদন করেন ড. ইউনুস। শুনানি শেষে ২৭ আগস্ট বিভক্ত আদেশ দেন আদালত।
বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি কামরুল ইসলাম সিদ্দিকী আবেদনটি মঞ্জুর করে পুরনো পদ্ধতিতে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরুর নির্দেশ দেন। তবে, একই বেঞ্চের কনিষ্ঠ বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল আবেদনটি খারিজ করেন। ফলে, সুরাহার জন্য আবেদনটি এখন প্রধান বিচারপতির কাছে যাবে। এটি হাই কোর্টের তৃতীয় কোনো বেঞ্চে পাঠাবেন। সেখানেই নিষ্পত্তি হবে।
কিন্তু শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরু হওয়ার পর স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে জানিয়েছেন, মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষা বাতিলের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। এটি একটি প্রস্তাব ছিল। এখন এটি আদালতে বিচারাধীন হওয়ায় এখন এ বিষয়ে আমাদের কিছু করণীয় নেই। তবে আলোচনা চলতে পারে। এ বিষয়ে তিনি আন্দোলনকারীদের আদালতে করা রিট আবেদনটি প্রত্যাহারেরও আহবান জানান।
এদিকে মেডিকেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষাবিদদের নিয়ে একটি কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক ও কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ।
রোববার স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষার দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের আলোচনায় অংশ শেষে সাংবাদিকদের সামনে এ দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, “যিনি রিট আবেদনকারী তিনি যদি আমার কাছে আসেন বা পরামর্ম চায় তাহলে আমি তাকে রিট প্রত্যাহারের করতে বলবো।”
তিনি বলেন, “হাজার হাজার শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ চিন্তা করেই মামলা প্রত্যাহর করা উচিত। আমি মন্ত্রী মহদয়কে বলেছি এ বছর আগের নিয়মেই পরীক্ষা নিতে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের কোনো অভিভাবক নেই। এই কারণেই শিক্ষাবিদ ও চিকিৎসকদের নিয়ে কমিটি গঠন করে তাদের সঙ্গে কথা বলে সমাধান করা দরকার।


0 মন্তব্য:
Post a Comment
আপনার মতামত দিন