![]() |
পুলিশ পেটাল ছাত্রদল-কর্মীদের |
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের ওপর ছাত্রলীগের হামলার ঘটনার প্রতিবাদে ছাত্রদলের বের করা মিছিলে লাঠিপেটা করেছে পুলিশ। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়। পুলিশ মিছিল থেকে জনি নামের একজনকে আটক করেছে। তিনি সমাজবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র।
আজ মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে নগরের বিনোদপুর এলাকায় ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল মিছিল বের করলে পুলিশ লাঠিপেটা করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
পুলিশ জানায়, সকালেও ছাত্রদলের কর্মীরা কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করেছেন। এখনো তাঁরা মিছিল নিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারেন, এমন আশঙ্কায় মিছিলে বাধা দেওয়া হয়েছে।
এর আগে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চতুর্থ কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে ক্যাম্পাসে মিছিল করার জন্য গতকাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছ থেকে অনুমতি নেয় ছাত্রদল। সেই অনুযায়ী আজ বেলা ১১টায় সিনেট ভবনের সামনে থেকে তাদের মিছিল বের করার কথা ছিল। ছাত্রদলের মিছিলের খবর পেয়ে ছাত্রলীগের দেড় শতাধিক কর্মী সিনেট ভবন ও প্রধান ফটকে অবস্থান নেন। এ সময় সেখানে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন ছিল। বেলা ১১টার ১০ মিনিটে ছাত্রদলের আরাফাত রেজার নেতৃত্বে প্রায় ১০ জন কর্মী কাজলা গেট দিয়ে সিনেট ভবনের সামনে যান। ছাত্রদলের অন্য কর্মীরা প্রধান ফটক দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকতে চাইলেও ছাত্রলীগের বাধার মুখে তাঁদের ফিরে যেতে হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি আখিরুজ্জামান তাকিম, নোমান, সালাম ও তুহিনের নেতৃত্বে ছাত্রদলের ওই কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় আরাফাত রেজাকে ছুরিকাঘাত করা হয়।
আহত অন্যরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য দেলোয়ার, বাপ্পী, শাহিন। তাঁদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
হামলার ঘটনার পরপরই ছাত্রদলের কর্মীরা বিনোদপুর গেটে পাঁচটি গাড়ি ভাঙচুর করেন।
রাজশাহী নগরের পুলিশের উপকমিশনার ডিসি (উত্তর) শাহ গোলাম মাহমুদ বলেন, ‘কয়েকজন ছাত্রের ওপর হামলা চালানো হলে আমরা তাঁদের উদ্ধার করে ক্যাম্পাস থেকে নিরাপদে সরিয়ে দিয়েছি।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর চৌধুরী মোহাম্মদ জাকারিয়া দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘বর্তমানে ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে।’
বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি আহমদ আলী জানান, ‘প্রতিদিনের মতো আজও আমরা ক্যাম্পাসে ছিলাম। মারামারি হয়েছে বলে শুনেছি।’
ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘ছাত্রলীগের বাধার কারণে আমরা মিছিল করতে পারিনি। পুলিশের সামনে আমাদের মারধর করা হয়েছে। পুলিশ কোনো উদ্যোগ নেয়নি।’
গতকাল সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের বেশ কজন কর্মীকে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা বেধড়ক পিটিয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত নয়জন আহত হয়েছেন। এর প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত সৌজন্য সাক্ষাত্ বর্জন করেন ছাত্রদলের নবগঠিত কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির নেতারা


0 মন্তব্য:
Post a Comment
আপনার মতামত দিন