গত বছর ব়্যাবের গুলিতে বাম পা হারানো লিমনকে নিয়ে আলোচনার শেষ নেই৷ সম্প্রতি নিজের এলাকায় ফিরে গেলে আবারো হামলার শিকার হন এই তরুণ৷ বাংলা ব্লগোস্ফিয়ারে এই বিষয়টি তুলে ধরেছেন একাধিক ব্লগার৷
গত ২০ আগস্ট ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় লিমন ও তাঁর মায়ের উপর হামলা চালায় ইব্রাহিম নামক এক ব্যক্তি৷ নিরাপত্তার কারণে এখন আর নিজের এলাকায় থাকেন না লিমন৷ তারপরও ঈদ উপলক্ষ্যে সেখানে গিয়েছিলেন তিনি৷ আর তখনই ব়্যাবের সোর্স পরিচয়দানকারী ইব্রাহিমের রোষানলে পড়েন লিমন৷ তাঁর আক্রমণে আহত হন লিমন নিজে এবং তাঁর মা হেনোয়ারা বেগম৷
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম ব্লগে ব্লগার আব্দুল মোমেন এই বিষয়ে লিখেছেন, ‘‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বলতে আমরা প্রধানত বুঝি মানবাধিকার ও নিরাপত্তা৷ কাজেই আমরা এবার লিমন সংক্রান্ত ঘটে যাওয়া এই নতুন ঘটনার প্রেক্ষিতে আরও জোরালো অবস্থান নিয়ে প্রতীক্ষায় থাকলাম৷ আমরা এনিয়ে আমাদের উৎকণ্ঠা ও যন্ত্রণার অবসান চাই৷''
লিমন প্রসঙ্গে মঙ্গলধ্বনি ব্লগে প্রকাশিত সায়েম চৌধুরী'র নিবন্ধের শিরোনাম, ‘পঙ্গু রাষ্ট্রের পঙ্গু শত্রু'৷ তিনি লিখেছেন, ‘‘একজন পঙ্গু নাগরিক যখন রাষ্ট্রের প্রধানতম শত্রু বলে বিবেচিত হয় (অন্তত আচরণে) তখন আমার এই রাষ্ট্র, সরকার, সরকারের সামরিক-আধা সামরিক বাহিনীসহ গোটা রাষ্ট্রকে পঙ্গু বলতে দ্বিধা হয়না৷ লিমন একজন অসহায় নাগরিক, তাকে সাহায্য বা সাহস দেবার কেউ নেই৷ কিন্তু তার চেয়েও বড় অসহায় আমাদের বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটি৷''
Mother of Limon at Razapur Sadar Hospital. She was wounded after the police has beaten her.
নির্যাতনে আহত লিমনের মা
বাংলা ব্লগার আবু সুফিয়ান জানান, গত এক বছরের বেশি সময় ধরেই লিমন ইস্যুতে সক্রিয় রয়েছেন ব্লগাররা৷ নিরাপত্তা বাহিনীর নির্মমতার শিকার এই তরুণের অসহায়ত্বের চিত্র ব্লগে ফুটিয়ে তুলেছেন অনেকে৷ সুফিয়ান বলেন, ‘‘বাংলা ব্লগাররা গত এক বছর ধরেই লিমনের উপর হামলা, নির্যাতন, নিষ্পেষণের প্রতিবাদ করে আসছেন৷ সবশেষ ঈদের দিন লিমনের উপর ব়্যাবের সোর্স যে হামলা চালিয়েছে, তার প্রতিবাদও জানিয়েছেন ব্লগাররা, বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে৷''
ডয়চে ভেলের সেরা ব্লগ অনুসন্ধান প্রতিযোগিতায় ‘জুরি অ্যাওয়ার্ড' জয়ী আবু সুফিয়ান এক্ষেত্রে কয়েকটি উদাহরণও প্রদান করেন৷ তিনি বলেন, ‘‘একটি ব্লগ প্ল্যাটফর্মে লেখা হয়েছে, ‘একজন লিমন আর হাস্যকর দেশ, রাষ্ট্র, সমাজ ও আমজনতা'৷ এটি লিখেছেন মতিউর রহমান নামক একজন ব্লগার৷ আরেকটি ব্লগ প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত একটি নিবন্ধের শিরোনাম, ‘লিমন শুধু একজন নয়'৷ অর্থাৎ বাংলাদেশে অনেক লিমনকেই পঙ্গু হতে হয়েছে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে বা তাদের সোর্সদের অত্যাচারে৷ নুরুজ্জামান লাবু নামক একজন সাংবাদিক এবং ব্লগার লিখেছেন, ‘লিমনের উপর নতুন করে পুলিশের নিষ্ঠুরতা৷' অর্থাৎ বাংলা ভাষার সবগুলো ব্লগেই লিমনের উপর ব়্যাবের সোর্সের নির্যাতনের খবরটি উঠে এসেছে৷''
আবু সুফিয়ান মনে করেন, সামগ্রিকভাবে লিমনের প্রতিপক্ষের ভূমিকায় দেখা যাচ্ছে রাষ্ট্রকে৷ অন্তত গত এক বছরের ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করলে এরকমই মনে হবে৷ তিনি বলেন, ‘‘ঘটনা প্রবাহে মনে হচ্ছে লিমনের প্রতিপক্ষ কোন বাহিনী বা কোন বাহিনীর সোর্স নয়, পুরো রাষ্ট্রটাকেই মনে হচ্ছে যেন, লিমনের প্রতিপক্ষ৷ সরকার বা সরকারের বাহিনী মানে ব়্যাব, তারা মনে হচ্ছে একটা ইগোর কারণে পুরো বিষয়টিকে তাদের আত্মসম্মান হিসেবে নিয়েছেন৷ ফলে লিমনের উপর একটার পর একটা ঘটনা ঘটে যাচ্ছে৷''
প্রসঙ্গত, ঝালকাঠির রাজাপুরের জমাদ্দার হাটে গত বছরের ২৩শে মার্চ রাতে পায়ে গুলিবিদ্ধ হন কলেজ ছাত্র লিমন হোসেন৷ লিমনের পরিবার এবং লিমন নিজে তখন অভিযোগ করেন, ব়্যাব তার পায়ে আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করে৷ ব়্যাব অবশ্য দাবি করে, সন্ত্রাসী মোরশেদ সমাদ্দারকে ধরতে গেলে গোলাগুলির সময় লিমন গুলিবিদ্ধ হয়৷ এই ঘটনা সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ হলে সারা দেশে আলোচনার ঝড় ওঠে৷
গত ২০ আগস্ট ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় লিমন ও তাঁর মায়ের উপর হামলা চালায় ইব্রাহিম নামক এক ব্যক্তি৷ নিরাপত্তার কারণে এখন আর নিজের এলাকায় থাকেন না লিমন৷ তারপরও ঈদ উপলক্ষ্যে সেখানে গিয়েছিলেন তিনি৷ আর তখনই ব়্যাবের সোর্স পরিচয়দানকারী ইব্রাহিমের রোষানলে পড়েন লিমন৷ তাঁর আক্রমণে আহত হন লিমন নিজে এবং তাঁর মা হেনোয়ারা বেগম৷
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম ব্লগে ব্লগার আব্দুল মোমেন এই বিষয়ে লিখেছেন, ‘‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বলতে আমরা প্রধানত বুঝি মানবাধিকার ও নিরাপত্তা৷ কাজেই আমরা এবার লিমন সংক্রান্ত ঘটে যাওয়া এই নতুন ঘটনার প্রেক্ষিতে আরও জোরালো অবস্থান নিয়ে প্রতীক্ষায় থাকলাম৷ আমরা এনিয়ে আমাদের উৎকণ্ঠা ও যন্ত্রণার অবসান চাই৷''
লিমন প্রসঙ্গে মঙ্গলধ্বনি ব্লগে প্রকাশিত সায়েম চৌধুরী'র নিবন্ধের শিরোনাম, ‘পঙ্গু রাষ্ট্রের পঙ্গু শত্রু'৷ তিনি লিখেছেন, ‘‘একজন পঙ্গু নাগরিক যখন রাষ্ট্রের প্রধানতম শত্রু বলে বিবেচিত হয় (অন্তত আচরণে) তখন আমার এই রাষ্ট্র, সরকার, সরকারের সামরিক-আধা সামরিক বাহিনীসহ গোটা রাষ্ট্রকে পঙ্গু বলতে দ্বিধা হয়না৷ লিমন একজন অসহায় নাগরিক, তাকে সাহায্য বা সাহস দেবার কেউ নেই৷ কিন্তু তার চেয়েও বড় অসহায় আমাদের বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটি৷''
Mother of Limon at Razapur Sadar Hospital. She was wounded after the police has beaten her.
নির্যাতনে আহত লিমনের মা
বাংলা ব্লগার আবু সুফিয়ান জানান, গত এক বছরের বেশি সময় ধরেই লিমন ইস্যুতে সক্রিয় রয়েছেন ব্লগাররা৷ নিরাপত্তা বাহিনীর নির্মমতার শিকার এই তরুণের অসহায়ত্বের চিত্র ব্লগে ফুটিয়ে তুলেছেন অনেকে৷ সুফিয়ান বলেন, ‘‘বাংলা ব্লগাররা গত এক বছর ধরেই লিমনের উপর হামলা, নির্যাতন, নিষ্পেষণের প্রতিবাদ করে আসছেন৷ সবশেষ ঈদের দিন লিমনের উপর ব়্যাবের সোর্স যে হামলা চালিয়েছে, তার প্রতিবাদও জানিয়েছেন ব্লগাররা, বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে৷''
ডয়চে ভেলের সেরা ব্লগ অনুসন্ধান প্রতিযোগিতায় ‘জুরি অ্যাওয়ার্ড' জয়ী আবু সুফিয়ান এক্ষেত্রে কয়েকটি উদাহরণও প্রদান করেন৷ তিনি বলেন, ‘‘একটি ব্লগ প্ল্যাটফর্মে লেখা হয়েছে, ‘একজন লিমন আর হাস্যকর দেশ, রাষ্ট্র, সমাজ ও আমজনতা'৷ এটি লিখেছেন মতিউর রহমান নামক একজন ব্লগার৷ আরেকটি ব্লগ প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত একটি নিবন্ধের শিরোনাম, ‘লিমন শুধু একজন নয়'৷ অর্থাৎ বাংলাদেশে অনেক লিমনকেই পঙ্গু হতে হয়েছে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে বা তাদের সোর্সদের অত্যাচারে৷ নুরুজ্জামান লাবু নামক একজন সাংবাদিক এবং ব্লগার লিখেছেন, ‘লিমনের উপর নতুন করে পুলিশের নিষ্ঠুরতা৷' অর্থাৎ বাংলা ভাষার সবগুলো ব্লগেই লিমনের উপর ব়্যাবের সোর্সের নির্যাতনের খবরটি উঠে এসেছে৷''
আবু সুফিয়ান মনে করেন, সামগ্রিকভাবে লিমনের প্রতিপক্ষের ভূমিকায় দেখা যাচ্ছে রাষ্ট্রকে৷ অন্তত গত এক বছরের ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করলে এরকমই মনে হবে৷ তিনি বলেন, ‘‘ঘটনা প্রবাহে মনে হচ্ছে লিমনের প্রতিপক্ষ কোন বাহিনী বা কোন বাহিনীর সোর্স নয়, পুরো রাষ্ট্রটাকেই মনে হচ্ছে যেন, লিমনের প্রতিপক্ষ৷ সরকার বা সরকারের বাহিনী মানে ব়্যাব, তারা মনে হচ্ছে একটা ইগোর কারণে পুরো বিষয়টিকে তাদের আত্মসম্মান হিসেবে নিয়েছেন৷ ফলে লিমনের উপর একটার পর একটা ঘটনা ঘটে যাচ্ছে৷''
প্রসঙ্গত, ঝালকাঠির রাজাপুরের জমাদ্দার হাটে গত বছরের ২৩শে মার্চ রাতে পায়ে গুলিবিদ্ধ হন কলেজ ছাত্র লিমন হোসেন৷ লিমনের পরিবার এবং লিমন নিজে তখন অভিযোগ করেন, ব়্যাব তার পায়ে আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করে৷ ব়্যাব অবশ্য দাবি করে, সন্ত্রাসী মোরশেদ সমাদ্দারকে ধরতে গেলে গোলাগুলির সময় লিমন গুলিবিদ্ধ হয়৷ এই ঘটনা সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ হলে সারা দেশে আলোচনার ঝড় ওঠে৷


0 মন্তব্য:
Post a Comment
আপনার মতামত দিন