জনসাধারণের ব্যবহূত স্থানে (পাবলিক প্লেসে) প্রকাশ্যে ধূমপানের শাস্তি ৫০ থেকে বাড়িয়ে ১০০ টাকা করা হচ্ছে। তা ছাড়া আইন বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে ‘পাবলিক প্লেসের’ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে ৫০০ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
আজ সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ-সংক্রান্ত ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন ২০১২’-এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, সংশোধিত খসড়ায় ‘পাবলিক প্লেসের’ সংজ্ঞা সম্প্রসারিত করে নতুন করে নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন সংজ্ঞায় ‘পাবলিস প্লেস’ বলতে সম্মিলিতভাবে ব্যবহারযোগ্য বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার স্থান বা ভবনকে বোঝানো হয়েছে।
এর মধ্যে আছে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ, খেলার মাঠ, বিভিন্ন অফিস, বিপণিবিতান, বাজার, জনসমাবেশ, মেলা, বাসস্ট্যান্ড এবং বাসযাত্রীদের দাঁড়ানোর লাইন ও পাবলিক টয়লেট।
এসব স্থানে ধূমপান বা তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারের জন্য শাস্তি দেওয়া যাবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা এ জন্য জরিমানা করতে পারবেন। যেকোনো ভুক্তভোগী নাগরিক এসব অপরাধের জন্য অভিযোগ করতে পারবেন। এ আইন বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে ‘পাবলিক প্লেসের’ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে ৫০০ টাকা জরিমানার বিধান যোগ করা হয়েছে।
তামাক ও তামাকজাতীয় গাছের শিকড়, ডাল বা অন্যান্য অংশকেও সংশোধিত আইনে ‘তামাকজাতীয় দ্রব্য’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। বিড়ি ও সিগারেট ছাড়াও গুল, জর্দা, খৈনি ও তামাকের সাদা পাতাও তামাকজাতীয় দ্রব্য হিসেবে গণ্য হবে।
খসড়ায় তামাকজাত পণ্যের বিজ্ঞাপন প্রচার করলে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান করার কথা বলা আছে। বর্তমানেও এ জাতীয় দ্রব্যের বিজ্ঞাপন দেওয়া ও প্রচার নিষিদ্ধ।
তবে ধূমপান বা তামাকজাতীয় দ্রব্য ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন স্থানে নির্দিষ্ট জায়গা সংরক্ষণের বিধানও আইনে যুক্ত করা হয়েছে বলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান।
প্রধানমন্ত্রীর লিফটে কারিগরি ত্রুটি: সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত লিফটে কারিগরি ত্রুটি দেখা দিয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ মন্ত্রিসভার বৈঠকে যোগ দিতে ওই ভবনের তৃতীয় তলায় যাওয়ার জন্য লিফটে ওঠার পর এ ত্রুটি দেখা দেয়।
একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী লিফটে ওঠার পর লিফটম্যান সুইচে চাপ দেওয়ার পর লিফট চার-পাঁচ ইঞ্চি ওপরে ওঠার পরই থেমে যায়। অপর সুইচে চাপ দেওয়ার পর লিফটি যথারীতি নিচে নামে। লিফটম্যান আবারও সুইচে চাপ দিয়ে চালানোর চেষ্টা করলে আগের মতোই চার-পাঁচ ইঞ্চি ওঠার পর থেমে যায়। পরে লিফট নিচে নামিয়ে পাশের লিফটে করে প্রধানমন্ত্রীকে তৃতীয় তলায় তাঁর কার্যালয়ে নেওয়া হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী ছাড়াও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ছিলেন।

0 মন্তব্য:
Post a Comment
আপনার মতামত দিন