ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপে মঙ্গলবার শক্তিশালী ক্রান্তীয় টাইফুন বোপার আঘাতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্ততপক্ষে ৮২ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়াও ভূমিধসে নিখোঁজ রয়েছে অনেকে।
বুধবার দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যানুয়েল রোক্সাস ৮২ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। সেই সঙ্গে অনেকে ভূমিধসের ফলে মাটিচাপা পড়ে নিখোঁজ রয়েছেন বলেও তিনি জানিয়েছেন।
তবে নিহতের সংখ্যা আরো বাড়বে বলে পুলিশসূত্র ও গণমাধ্যমের সংবাদে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এর আগে বোপার আঘাতে ওই অঞ্চলে ৪০ জন মারা গেছে কিংবা নিখোঁজ হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছিল।
গত এক দশকের মধ্যে মিন্দানাওয়ে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী টাইফুন বোপা।
ঘণ্টায় ১২১ মাইল বেগে আঘাত হানা টাইফুন বোপার কারণে গাছ-পালা উপড়ে গেছে, উড়ে গেছে ঘরের চাল। পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহ ও যোগাযোগ ব্যবস্থাও বন্ধ হয়ে গেছে।
দেশটির দাভাও অরিয়েন্টাল প্রদেশের জেলে ল্যান্ডরিং সেবোলাস বলেন, “আমার বাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে।” তিনি বলেন, আমার চোখের সামনে বাড়িটি ঝড়ের প্রচণ্ড বাতাসে উড়ে গিয়ে সমুদ্রে পড়েছে।
কিন্তু স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ঝড়ে উড়ে আসা বিভিন্ন জিনিসপত্র ও গাছ ভেঙে পড়ায় অনেকে আহত হয়েছেন।
মিন্দানাওয়ে অন্ততপক্ষে সোয়া লাখ মানুষের ঘরবাড়ি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ফিলিপাইনে প্রতিবছর গড়ে ২০টি ঝড় আঘাত হেনে থাকে। এতে প্রায়ই হতাহতের ঘটনা ঘটে। ২০১১ সালে দেশটির মিন্দানাও-এ টাইফুন ওয়াসির আঘাতে ১৫শ’ মানুষ নিহত হয়।
টাইফুন বোপার কারণে দেশটির ডজনেরও বেশি বিমানের ফ্লাইট ও মধ্যাঞ্চলীয় ও দক্ষিণাঞ্চলে ফেরি চলাচল স্থগিত করা হয়েছে। অঞ্চলটির স্কুল এবং কিছু বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
মিন্দানাওয়ের উপকূলীয় এলাকার ৮৫ হাজারেরও বেশি অধিবাসীকে বোপা আঘাত হানার আগেই নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
ঘণ্টায় ৩১০ মাইল বেগ সম্পন্ন মেঘযুক্ত টাইফুন বোপা পশ্চিম-উত্তরপশ্চিমের দিকে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার এটি দক্ষিণ চীন সাগরে পৌঁছুবে বলে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানানো হয়।


0 মন্তব্য:
Post a Comment
আপনার মতামত দিন