
বিএনপি-জামায়াত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ তুলেছেন আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম।
তিনি বলছেন, জামায়াতের এক নেতার মুখ দিয়েই এমন কথা এসেছে।
ঢাকার প্রথম নির্বাচিত মেয়র হানিফের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু একাডেমী আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, “প্রকাশ্যে বিএনপির মঞ্চ থেকে বেগম খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে আপনাদের গোপন পরিকল্পনার কথা জামায়াত নেতার মুখ ফসকে বের হয়ে গেছে- শেখ হাসিনাকে প্রাণ দিতে হবে; এটাই আপনাদের পরিকল্পনা।”
এর আগে বুধবার নয়া পল্টনে ১৮ দলীয় জোটের জনসভায় জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মজিবুর রহমান প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, “তত্ত্বাবধায়ক সরকারের যে সিঁড়ি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছেন, তা সরিয়ে নিলে আপনি নিজেই নামতে পারবেন না। এতে আপনার জীবন অবসান পর্যন্ত হতে পারে।”
এ প্রসঙ্গে কামরুল আরো বলেন, “আজকের দিনে নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে। দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই সরকারকে অকার্যকর করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সব কিছুর পিছনে কারণ একটাই, আপনারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বরদাস্ত করতে পারছেন না।”
জামায়াতের মধ্যে বিএনপি বিলীন হয়ে গেছে বলেও মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগের এই নেতা।
’৭৫-এর পর থেকে শেখ হাসিনাকে হত্যার পরিকল্পনা নিয়েই বিরোধীরা অগ্রসর হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, “এই পরিকল্পনার অংশ হিসাবে ২০০৪ সালে গ্রেনেড হামলা চালিয়ে শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা করেছেন। এখনো এই পরিকল্পনা আপনাদের মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। আমরা জানি, ৭১, ৭৫ এবং ২০০৪ সালের ঘাতকরা একই অপশক্তি।”
নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আগামী ৯ ডিসেম্বর রাজপথ অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট। তবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বরাবরই বলে আসছে- স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের অধীনেই তা সম্ভব।
এরই মধ্যে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত হয়েছে।
কামরুল বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার কোন আজিজ মার্কা, সাদেক আলী মার্কা কোন নির্বাচন কমিশন করে নাই। দীর্ঘদিন পর্যন্ত ক্ষমতাসীন সব সরকারের আমলে একটা মোসাহেব মার্কা নির্বাচন কমিশন করার একটা সংস্কৃতি আমাদের চলে আসছিল। তবে প্রধানমন্ত্রী একটা সুন্দর নির্বাচন কমিশন করেছেন।”
জরুরি অবস্থা আনার পাঁয়তারা করে কোন লাভ হবে না বলেও হুঁশিয়ার করেন আইন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “যে যত কথাই বলেন না কেন, যত জরুরি অবস্থা আনার পাঁয়তারা করেন না কেন, শেখ হাসিনা কোন বাঁকা পথে হাটবেন না। শেখ হাসিনা বাঁকা পথে ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা করবেন না। এই চরিত্র আপনাদের আছে।”
যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মধ্য দিয়ে দেশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিপক্ষের বিভাজন শেষ হবে বলে মনে করেন কামরুল।
0 মন্তব্য:
Post a Comment
আপনার মতামত দিন