বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে দেশে তাদের সম্পত্তি জব্দ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এ সংক্রান্ত টাস্কফোর্স।
বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পলতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষে গঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় টাস্কফোর্সের এক বৈঠক শেষে বুধবার আইন মন্ত্রী শফিক আহমেদ সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, “বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার আসামিরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধা দেখাচ্ছে না। বিচার এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে বৈঠকে।”
বিদেশে পালিয়ে থাকা ছয় আসামিকে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশি মিশনগুলোকে আরো তৎপর হতে নির্দেশ দেয়া হবে বলেও মন্ত্রী জানান।
তিনি বলেন, “যেসব দেশে খুনিরা পালিয়ে রয়েছে- ওই সব দেশ থেকে তাদের যেন ভিসা পাসপোর্ট দেয়া না হয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সে বিষয়ে অনুরোধ জানানো হবে।”
১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট সেনাবাহিনীর একদল কর্মকর্তা ও সৈনিকের হাতে সপরিবারে জীবন দিতে হয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের নায়ক ও তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে।
এই হত্যা মামলায় সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে মৃত্যুদ-প্রাপ্ত ১২ জনের মধ্যে পাঁচজনের ফাঁসি ২০১০ সালের জানুয়ারি মাসে কার্যকর করা হয়। এরা হলেন- সৈয়দ ফারুক রহমান, সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান, মুহিউদ্দিন আহমদ (আর্টিলারি), বজলুল হুদা ও একেএম মহিউদ্দিন (ল্যান্সার)।
মৃত্যুদ-প্রাপ্ত বাকি সাতজনের মধ্যে এম রাশেদ চৌধুরী, এস এইচ এম বি নূর চৌধুরী, আব্দুর রশিদ, শরিফুল হক ডালিম, মোসলেমউদ্দিন ও আব্দুল মাজেদ বিদেশে পালিয়ে আছেন। তাদের গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলের পরোয়ানা রয়েছে।
আর দ-িত আব্দুল আজিজ পাশা পলাতক অবস্থায় জিম্বাবুয়েতে মারা গেছেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, নূর চৌধুরী ও রাশেদ চৌধুরীর অবস্থান সম্পর্কে জানা থাকলেও অন্যদের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিভিন্ন সময়ে পাকিস্তান, ভারত, লিবিয়া, কেনিয়ায় তাদের অবস্থানের বিষয়ে জানা গিয়েছিল।
“বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার পলাতক আসামিদের ফিরিয়ে আনতে নিয়োগ করা ল’ ফার্মকে তৎপর হওয়া এবং দ্রুত গতিতে তাদের কাজ শেষ করার নির্দেশ দেয়ারও সিদ্ধান্ত হয়েছে।”
বঙ্গবন্ধুর খুনীদের ফিরিয়ে আনতে সরকার যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার এই দুটি ‘ল’ ফার্মকে নিয়োগ দেয়।
সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর বলেন, “পলাতক খুনীদের সঙ্গে যারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সংযোগ রাখছেন, এমনকি যারা অতীতে তাদের রক্ষা করার প্রচেষ্টা চালিয়েছেন এবং এখনো পলাতকদের পরিচিতি গোপন করার প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত, তাদেরও অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।”
বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের দেশে ফিরিয়ে এনে শাস্তি নিশ্চিত করার দৃঢ় প্রত্যয় জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “অন্য পলাতক আসামিদের মতোই তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্তের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আমরা তাদের সম্পদ ভোগ করতে দিতে পারি না।”
অন্যদের মধ্যে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, স্বরাষ্ট্র সচিব সি কিউ কে মুসতাক আহমেদ, আইন ও বিচার বিভাগের সচিব আবু সালেহ শেখ মোহাম্মদ জহিরুল হক ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি টাস্কফোর্সের সভায় উপস্থিত ছিলেন।


0 মন্তব্য:
Post a Comment
আপনার মতামত দিন