কেরানীগঞ্জের স্কুলছাত্র পরাগ মণ্ডল অপহরণের ‘মূল হোতা’ আমীরকে গ্রেপ্তারের পর মুক্তিপণ নিয়ে দেয়া আগের বক্তব্য থেকে দৃশ্যত সরে এসেছে র্যাব।
মুক্তিপণের বিনিময়ে পরাগকে ছেড়ে দেয়ার দাবি করলেও সংস্থাটি এখন বলছে এ বিষয়ে মামলার তদন্ত সংস্থাই ভালো বলতে পারবে।
মামলাটি তদন্ত করছে কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ দিচ্ছে সরাসরি সহযোগিতা।
মা-বোনকে গুলি করে গত ১১ নভেম্বর কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা থেকে দুর্বৃত্তরা তুলে নিয়ে যায় ব্যবসায়ী বিমল ম-লের ছেলে পরাগকে। অপহরণের তিন দিন বাদে আঁটিবাজার এলাকায় রাস্তার ধার থেকে অচেতন অবস্থায় পরাগকে উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারের পরপরই মুক্তিপণ দিতে হয়নি বলে জানিয়েছিল পুলিশ ও পরাগের বাবা বিমল ম-ল। অবশ্য সে সময় র্যাব বলেছিল, ৫০ লাখ টাকা পেয়ে পরাগকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
খোদ র্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক এম সোহায়েল সে সময় বলেছিলেন, তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই তারা মুক্তিপণের বিনিময়ে পরাগকে উদ্ধারের কথা বলেছে। অপহরণের সঙ্গে জড়িতরা গ্রেপ্তার হওয়ার পর বিষয়টি আরো পরিষ্কার হবে।
শনিবার ভোররাতে গাজীপুর থেকে মূল হোতা আমীরকে গ্রেপ্তারের পর এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে মন্তব্য করতে রাজি হননি সোহায়েল।
পরে সন্ধ্যায় র্যাবের মহাপরিচালক মোখলেছুর রহমানের কাছে মুক্তিপণের বিষয় নিয়ে জানতে চাওয়া হলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “পরাগ অপহরণের পর অপহরণকারীরা ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ নিয়েছিল কি নেয়নি সেটা তারাই ভালো বলতে পারবে, যারা এই মামলার তদন্ত করছে।”
র্যাবের আগের বক্তব্য তুলে ধরলে তিনি বলেন, এগুলো নিয়ে র্যাবের পক্ষ থেকে আর কোনো বক্তব্য নেই।
“এটা এখন মূখ্য বিষয় নয়। আমাদের উদ্দেশ্য ছিল শিশুটিকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা। আসামি গ্রেপ্তার করা। মুক্তিপণের ঘটনাটি পরে আসে।”
র্যাব এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন মোখলেছুর রহমান।
পরাগ অপহরণ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার পরিদর্শক মনিরুল ইসলাম জানান, আমীরকে গ্রেপ্তারের মধ্যে পরাগ অপহরণ মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার শেষ হয়েছে।


0 মন্তব্য:
Post a Comment
আপনার মতামত দিন