দুর্নীতি ও জঙ্গিবাদ নির্মূলে বিএনপি সরকারের ‘ব্যর্থতা’ তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, বিরোধী দলীয় নেতা আবারো দেশ শাসনের সুযোগ পেতে পারেন না।
কর্নেল আবু তাহেরের ৭৪তম জন্মবার্ষিকী ও সিপাহীজনতা অভুত্থানের ৩৭তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ‘তাহের মেলায়’ তিনি এ কথা বলেন।
ইনু বলেন, “দুর্নীতি এবং জঙ্গিবাদ নির্মূলে যিনি ব্যর্থ হন, তিনি পুনরায় দেশ শাসনের সুযোগ পেতে পারেন না। আশাকরি দেশবাসী বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গেই বিবেচনা করবেন।”
জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতি দমনে সরকারের কঠোর অবস্থান তুলে ধরেন দেশবাসীকে এর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
টিএসসি সংলগ্ন সড়ক দ্বীপে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে নিজের ছেলেদের পক্ষে কথা বলায় বিরোধী দলীয় নেতার সমালোচনা করে হাসানুল হক ইনু বলেন, “তিনি [খালেদা] শুধু ছেলেদেরই মা হলেন, জনগণের মা হতে পারলেন না। জনগণের নেতা হতে পারলেন না।”
তথ্যমন্ত্রী ইনু বলেন, “তিনি [খালেদা] সেদিন বললেন তার পুত্ররা সৎ জীবন যাপন করে, আর এরপরই দুদক বিদেশ থেকে তাদের পাঁচার করা অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনলো।”
গত ২০ নভেম্বর এক আলোচনা সভায় খালেদা দাবি করেন, তারেক অত্যন্ত সৎভাবে জীবন যাপন করেছে। দুর্নীতির সঙ্গে কখনোই তার কোনো সম্পর্ক ছিল না। তার কোথাও তেমন কোন সম্পদও নেই। খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর পাচার করা অর্থের একটি অংশ ফিরিয়ে আনার দাবিকেও চরিত্রহরণ করার চেষ্টা বলে অভিযোগ তুলেছে দলটি।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, “এ উদাহরন গণতন্ত্রের জন্য মঙ্গলজনক নয়। বিরোধী দলীয় নেতাই যদি দুর্নীতিবাজের পক্ষে সাফাই গান, তাহলে পরিস্থিতি কতটুকু কঠিন হতে পারে বোঝাই যায়।”
‘তাহের মেলা’
এদিকে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সমরনায়ক কর্নেল আবু তাহেরের স্মৃতিকে ধরে রাখতে কর্নেল তাহের সংসদ দ্বিতীয় বারের মতো আয়োজন করে দিনব্যাপী তাহের মেলা।
মেলায় স্থান পেয়েছে কর্নেল আবু তাহেরের ব্যক্তিগত জীবনের আলোকচিত্র, তাহেরের লেখা শেষ চিঠি, তার ব্যবহার করা সরঞ্জাম, তাকে নিয়ে লেখা বিভিন্ন সংবাদপত্রের প্রতিবেদন ও সম্পাদকীয় এবং তার রাজনৈতিক জীবনাদর্শ নিয়ে লেখা বই।
তাহেরের ভাই এবং তাহের স্মৃতি সংসদের সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন বলেন, “কর্নেল তাহেরকে হত্যার পর তৎকালীন শাসক গোষ্ঠী তার চেতনাকেও মুছে ফেলতে চেয়েছিলো। আমাদের উদ্দেশ্য এ মেলার মাধ্যমে কর্নেল তাহেরকে জনগণ ও নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা। আমরা আশা করি নতুন প্রজন্ম এ মেলার মাধ্যমে কর্নেল তাহেরকে আবিস্কার করবে এবং তার জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশে গঠনে অবদান রাখবে।”
মুক্তিযুদ্ধের ১১ নম্বর সেক্টরের সমরনায়ক কর্নেল তাহেরের জন্ম ১৯৩৮ সালের ১৪ নভেম্বর আসামের বদরপুর স্টেশন এলাকায় নানার বাড়িতে। ১৯৭৬ সালের ১৫ জুন তাহেরসহ সিপাহী জনতা অভ্যুত্থানে অংশ নেয়া ৩৩ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ এনে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বিচার শুরু হয়। বিচার শেষে ২১ জুলাই ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে তার ফাঁসি কার্যকর করা হয়।


0 মন্তব্য:
Post a Comment
আপনার মতামত দিন