
খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ৪৬ ওভার ৫ বলে অলআউট হওয়ার আগে ১৯৯ রান করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। জবাবে ৪০ ওভার ২ বলে ৩ উইকেটে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। অতিথিদের বিপক্ষে এটি বাংলাদেশের পঞ্চম জয়, টানা দ্বিতীয়।
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে তামিম ইকবালের সঙ্গে অভিষিক্ত আনামুল হকের ৮৮ রানের উদ্বোধনী জুটি বাংলাদেশকে সহজ জয়ের ভিত গড়ে দেয়।
নিজের ২৪তম অর্ধশতকে পৌঁছানোর পর ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে সুনীল নারায়ণের বলে কাইরন পোলার্ডের হাতে ক্যাচ দিয়ে তামিম (৫৮) বিদায় নিলে প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। তামিমেম ৫১ বলের ইনিংসটি ৮টি চার ও ২টি ছক্কা সমৃদ্ধ।
তামিমের এটি টানা পঞ্চম অর্ধশতক। এর আগে গত মার্চে এশিয়া কাপে টানা চার ম্যাচে অর্ধশতক হাকিয়েছিলেন তিনি।
দ্বিতীয় উইকেটে নাঈম ইসলামের সঙ্গে ২৪ রানের ছোট্ট এক জুটি গড়ে অধিনায়ক ড্যারেন স্যামির হাতে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন আনামুলও (৪১)। তৃতীয় উইকেটে নাসির হোসেনের (২৮) সঙ্গে নাঈমের ৪৫ রানের আরেকটি কার্যকর জুটি স্বাগতিকদের জয়ের আরো কাছে নিয়ে যায়।
চতুর্থ উইকেটে অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে নাঈমের অবিচ্ছিন্ন ৪৪ রানের জুটি বাংলাদেশের সহজ জয় নিশ্চিত করে। ৭৯ বলে ৬টি চারের সাহায্যে ৫০ রানে অপরাজিত থাকেন এক বছর পর ওয়ানডে খেলতে নামা নাঈম। এটি তার তৃতীয় অর্ধশতক।
৫৮ বল অব্যহৃত রেখে পাওয়া জয়ে মুশফিকেরও ভালো অবদান। রবি রামপলের বল পুল করে সীমানা ছাড়া করে দলকে জয় এনে দেয়া অধিনায়ক অপরাজিত থাকেন ১৬ রানে।
এর আগে ব্যাট করতে নেমে লেন্ডল সিমন্সের সঙ্গে ক্রিস গেইলের ৪৮ রানের উদ্বোধনী ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ভালো সূচনাই এনে দিয়েছিল। অভিষিক্ত পেসার আবুল হাসানের বলে দুবার জীবন পাওয়া সিমন্সকে (১৩) এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে দলকে প্রথম সাফল্য এনে দেন মাশরাফি বিন মুতর্জা।
অভিষিক্ত অফস্পিনার সোহাগ গাজী পরের দুই ওভারে গেইল (৩৫) ও মারলন স্যামুয়েলকে (০) ফিরিয়ে দিলে ৫০ রানের ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলে অতিথিরা।
চতুর্থ উইকেটে পোলার্ডের (১৫) সঙ্গে ৫০ রানের জুটি গড়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করেন ড্যারেন ব্রাভো। আব্দুর রাজ্জাকের খাটো লেন্থের বল পুল করতে গিয়ে মিড উইকেটে মাশরাফির হাতে পোলার্ড ধরা পড়লে স্বাগতিকদের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠা এই জুটি ভাঙ্গে।
পরের ওভারে ডেভন থমাসের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির কারণে ব্রাভো (৩৫) রান আউট হয়ে বিদায় নিলে অস্বস্তিতে পড়ে অতিথিরা (১০২/৫)।
মাহমুদুল্লাহর করা ৩০তম ওভারের প্রথম বলটি লংঅনের ওপর দিয়ে সীমানা ছাড়া করতে গিয়ে স্যামি (১০) নাঈমের হাতে ক্যাচ দিলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপদ আরো বাড়ে। এরপর ৫ রানের মধ্যে আন্দ্রে রাসেল (০) ও থমাসের (১৬) বিদায়ে দিক হারায় অতিথিরা।
নবম উইকেটে রামপলের সঙ্গে সুনীলের ৫৭ রানের কার্যকর জুটি অতিথিদের দুশ রানের কাছাকাছি নিয়ে যায়। রাজ্জাকের বল সুইপ করতে গিয়ে মুশফিকের হাতে রামপল ধরা পড়লে ৬৪ বল স্থায়ী এই জুটি ভাঙ্গে।
সর্বোচ্চ ৩৬ রান করা সুনীলকে নিজের চতুর্থ শিকারে পরিণত করে অতিথিদের দুশ রানের আগেই থামিয়ে দেন ম্যাচ সেরা সোহাগ। ২৯ রানে ৪ উইকেট নিয়ে তিনিই বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল বোলার। রাজ্জাক ৩ উইকেট নেন ৩৯ রানে।
অভিষেকে ফিল্ডিং ছাড়া আর কিছু করার সুযোগ পান নি বাঁহাতি মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান মুমিনুল হক।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ১৯৯ (সিমন্স ১৩, গেইল ৩৫, ব্রাভো ৩৫, স্যামুয়েলস ০, পোলার্ড ১৫, থমাস ১৬, স্যামি ১০, রাসেল ০, সুনীল ৩৬, রামপল ২৫, রোচ ৩*; সোহাগ ৪/২৯, রাজ্জাক ৩/৩৯, মাহমুদুল্লাহ ১/২৯, মাশরাফি ১/৩৯)
বাংলাদেশ: ২০১/৩ (তামিম ৫৮, আনামুল ৪১, নাঈম ৫০*, নাসির ২৮, মুশফিক ১৬*; রাসেল ১/২৮, স্যামি ১/২৯, সুনীল ১/৩৯)
0 মন্তব্য:
Post a Comment
আপনার মতামত দিন