যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেপ্তার বাংলাদেশি তরুণ কাজী মোহাম্মদ রেজওয়ানুল আহসান নাফিসকে সহায়তার বিষয়ে নিউইয়র্কে ফেডারেল ডিফেন্ডার অ্যাটর্নি হেইডি সিজারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের দুই কূটনীতিক। রেজওয়ানুলকে আইনি সহায়তা দিতে হেইডি সিজারকে নিয়োগ দেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত।
নিউইয়র্কে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক ভবন উড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনার অভিযোগে ১৭ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা ব্যুরো (এফবিআই) ও নিউইয়র্ক পুলিশ রেজওয়ানুলকে গ্রেপ্তার করে। তিনি এখন ব্রুকলিন কারাগারে আছেন।
ওয়াশিংটনে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের উপরাষ্ট্রদূত এম এ মুহিত প্রথম আলো ডটকমকে জানান, ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের মিনিস্টার (কনসুলার) শামসুল হক ও নিউইয়র্কে বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত কন্সাল জেনারেল মো. শাহেদুল ইসলাম বাংলাদেশ সময় আজ শুক্রবার ভোরে নিউইয়র্কে ফেডারেল ডিফেন্ডার অ্যাটর্নি হেইডি সিজারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বাংলাদেশ রেজওয়ানুলকে সব ধরনের সহায়তা দিতে চায়। মূলত এসব বিষয় নিয়োই আলোচনা হয়েছে।
রেজওয়ানুল বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে কোনো সহায়তা নিতে চান না—সম্প্রতি মার্কিন কর্তৃপক্ষের এমন বক্তব্যের পরই রেজওয়ানুলের আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলে তাঁকে সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
ভরসা গ্র্যান্ড জুরি: জানা গেছে, ২১ বছর বয়সী রেজওয়ানুলের একমাত্র ভরসা এখন গ্র্যান্ড জুরি। রেজওয়ানুলের বিরুদ্ধে মামলা চলবে কি না, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য অভিযোগপত্র গ্র্যান্ড জুরিতে পাঠানো হয়েছে। গ্র্যান্ড জুরিরা যদি রেজওয়ানুলকে নির্দোষ রায় দেন, তবেই কেবল তিনি মুক্ত হতে পারবেন। দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁর সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। মার্কিন আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী, ২৬ দিনের মধ্যে রেজওয়ানুলের মামলা গ্র্যান্ড জুরির কাছে উঠবে।
সাধারণত বড় ধরনের বা চাঞ্চল্যকর মামলা পাঠানো হয় গ্র্যান্ড জুরিতে। গ্র্যান্ড জুরিরা তদন্ত কর্মকর্তাদের বক্তব্য শুনে এবং প্রমাণ দেখে জানাবেন, মামলা চলবে কি না। সাধারণত ১৬ থেকে ২৩ জন থাকেন গ্র্যান্ড জুরিতে। এর মধ্যে কমপক্ষে ১২ জনের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের প্রয়োজন হয়।

0 মন্তব্য:
Post a Comment
আপনার মতামত দিন