
সাভারের রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) থেকে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর পর্যন্ত এলাকায় ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে দুর্ভোগে পড়েছে ঈদে বাড়িমুখি হাজার হাজার যাত্রী। যানজটের কারণে সিডিউল অনুযায়ী বাস না ছাড়ার কারণে রাজধানীর বিভিন্ন বাস কাউন্টারে দেখা গেছে যাত্রীদের ভিড়।
মঙ্গলবার বিকাল থেকে রাস্তায় থেমে থেমে যানজট লেগে আছে।
বুধবার শেষ খবর পাওয়া পর্যন্তও যানজট লেগেই আছে। রাস্তার কোথাও কোথাও পুলিশ দেখা গেলেও যানজট নিরসনে তাদের কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
রাজশাহীগামী একটি বাসের যাত্রী রাসেল মোস্তাফিজ জানান, গতকাল রাত ১১ টার সময় তিনি ঢাকা থেকে রাজশাহীর গাড়িতে ওঠেন। আজ বেলা ১১টার সময় রাজশাহী পৌঁছান। সাধারণত রাজশাহী পৌঁছাতে সাড়ে পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা সময় লাগে।
অন্যদিকে এ মহাসড়কে পযাপ্ত র্যাব ও ট্রাফিক পুলিশ না থাকায় যাত্রীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। মহাসড়কে যানজট থাকার কারণে দুই দিনেও বাড়ি যেতে পারছে না উত্তরাঞ্চলের লাখ লাখ ঘরমুখী মানুষ। প্রতিবছর ঈদের তিন মাস আগে ঢাক-ডোল পিটিয়ে যোগাযোগ মন্ত্রণালয় রাস্তায় নামার কথা বললেও শেষ বেলায় তাদের পাওয়া যায়না। যানজটের কারণে বাসের শিডিউল বিপর্যস্ত। এজন্য ঘরমুখো মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে বাস টার্মিনালে। কিন্তু বাসের কোনো দেখা নেই। সময়মতো কোনো বাসই ছাড়তে পারছে না টার্মিনাল থেকে।
বুধবার সকালে রাজধানীর আসাদগেট জবা পরিবহন ও এসবি কাউন্টারে গিয়ে দেখা যায় শত শত যাত্রী বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছেন। জবা পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজার হালিম জানান, গাবতলী থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত তীব্র যানজট থাকায় বাসগুলো যাত্রীদের নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দিয়ে ফিরতে দেরি হচ্ছে। এ কারণে আমরা সময় মতো যাত্রীদের পৌঁছেদিতে পারছিনা। সরকার এ মহাসড়কটি মেরামত করলে যাত্রীদের ভোগান্তি কমে যাবে।
রাজধানী থেকে কুড়িগ্রামে ঈদের ছুটিতে যাচ্ছেন শহিদুর রহমানের চার সদস্যের পরিবার। তাদের নিয়ে টার্মিনালের এক কোনে বসে কলা ও পাউরটি খাচ্ছেন তিনি।
তিনি বলেন, এসবি পরিবহনে কুড়িগ্রাম যাওয়ার জন্য গত ১৭ অক্টোবর অগ্রিম টিকিট কেটেছি। রাত ১০টায় বাস। রাত ৯টার দিকে কোনো রকম খেয়ে না খেয়ে গাবতলী এসে পৌঁছেছি। এখন সকাল ১১ বাজে। যারা ৯টার টিকিট কেটেছিল, তারাই এখনো যেতে পারেনি। শুনেছি, ঘাটেও অনেক যানজট।
গাবতলী বাস টার্মিনালে দেখা গেল মানুষের হতাশা। সকাল সাড়ে ৭টার বাস ছাড়ছে দেড়টায় আর ১০টার বাস ছাড়ছে ৩টায়। যেসব পরিবহন কোম্পানি অতিরিক্ত ট্রিপের জন্য রিজার্ভ বাস রেখেছিল, তারা সে বাসগুলো দিয়ে কোনো রকম চালিয়ে নিলেও যাদের এ ব্যবস্থা নেই তারা আছে মহাবিপদে। একদিকে যাত্রীদের চাপ অন্যদিকে ব্যবসায়িক ক্ষতি। অনেক কাউন্টার থেকে স্টাফরা যাত্রীদের ভয়ে আশপাশে ঘুরছেন আর বারবার ফোনে বাসের অবস্থান জানছেন।
0 মন্তব্য:
Post a Comment
আপনার মতামত দিন