ইসলামের চেতনায় অসাম্প্রদায়িক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বানের মধ্য দিয়ে দেশের সর্ববৃহত্ ঈদগাহ ‘শোলাকিয়ায়’ ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। কোরবানির আনুষ্ঠানিকতা ও ব্যস্ততা সত্ত্বেও দেশ-বিদেশের কয়েক হাজার মুসল্লি এ জামাতে অংশ নেন।
আজ সকাল নয়টায় ঈদের জামাত শুরু হয়। জামাতকে কেন্দ্র করে নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা। মাঠের চারপাশে বসানো হয় নিরাপত্তা-চৌকি। বিপুলসংখ্যক পুলিশ, আর্মড পুলিশ ও র্যাব সদস্যের কঠোর নিরাপত্তা ও নজরদারিতে শান্তিপূর্ণভাবে নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
ঈদের কয়েক দিন আগে থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অনেক মুসল্লি শোলাকিয়ায় অবস্থান নেন। ময়মনসিংহ ও ভৈরব থেকে সকালে দুটি বিশেষ ট্রেন ছাড়াও বাস ও অন্যান্য যানবাহনে করে মুসল্লিরা ঈদের জামাতে শরিক হন।
এ ছাড়া যুক্তরাজ্য, থাইল্যান্ড, নাইজেরিয়া, মিসর, মালয়েশিয়া ও তাঞ্জানিয়া থেকে এসেছেন অনেকে।
কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. সিদ্দিকুর রহমান, পুলিশ সুপার মীর রেজাউল আলম, জেলা পরিষদ প্রশাসক জিল্লুর রহমান, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও পিপি শাহ আজিজুল হক, কিশোরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মাজহারুল ইসলাম ভূঁইয়া, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইয়ামিন খানসহ স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এখানে ঈদের নামাজ আদায় করেন।
শোলাকিয়ায় এবারের ১৮৫তম ঈদুল আজহার জামাতে ইমামতি করেন ইসলামী ফাউন্ডেশনের সাবেক পরিচালক, মাঠের খতিব মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ।
জামাত শুরুর আগে ইমাম নানা সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনাকে ইসলামবিরোধী আখ্যা দিয়ে ইসলামের সুমহান আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে মুসলমানদের অগ্রণী ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। নামাজ শেষে দেশ ও জাতির উন্নতি, সমৃদ্ধি, মুসলিম উম্মার সংহতি ও ঐক্য এবং দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
এ ছাড়া ঈদের জামাত উপলক্ষে ঈদগাহসংলগ্ন মাঠে হস্ত, কারু ও নানা রকম লোকজ শিল্পের মেলা বসে। স্থানে স্থানে নির্মিত হয় তোরণ, রাস্তার দুই পাশে টাঙানো হয় রং-বেরঙের পতাকা ও ব্যানার। জামাতের আগে-পরে শহর হয়ে ওঠে লোকে লোকারণ্য ও উত্সবমুখর।
জনশ্রুতি রয়েছে, ১৮২৮ সালে প্রথম বড় জামাতে এই মাঠে একসঙ্গে এক লাখ ২৫ হাজার মুসল্লি ঈদের নামাজ আদায় করেন। এই সোয়া লাখ থেকে এ মাঠের নাম হয় ‘সোয়ালাখিয়া’, যা উচ্চারণ-বিবর্তনে হয়েছে শোলাকিয়া।


0 মন্তব্য:
Post a Comment
আপনার মতামত দিন