যশোরের শার্শা উপজেলার কাশীপুর গ্রামের সাংবাদিক জামাল উদ্দীন খুন হন গত ১৫ জুন রাত ১১টার দিকে। এরপর থানায় মামলা, সঙ্গে স্বাভাবিক নিয়মে তদন্ত। কিন্তু শার্শা থানার এক পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে খুনির ফোনালাপ থেকে স্পষ্ট হয় যে তাঁর পরিকল্পনাতেই খুন হন জামাল।
খুনের পরিকল্পনা ও এটি বাস্তবায়ন করেই ক্ষান্ত হননি এই কর্মকর্তা। এ নিয়ে ‘বাড়াবাড়ি’ না করতে জামালের পরিবারকে চাপও দেন তিনি। খুনের পর প্রধান আসামির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগও ছিল তাঁর। শুধু যোগাযোগ নয়, প্রধান আসামিকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার চেষ্টাও করছেন শার্শা থানার গৌরপাড়া ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান।
নিতান্ত সাধারণ জীবন যাপন করতেন সাংবাদিক জামাল উদ্দীন। কিন্তু তাঁর খুনের ঘটনা খুবই লোমহর্ষক। ১৫ জুন রাত সাড়ে ১০টায় জামালকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় পরিচিত কিছু লোক। বাড়ি থেকে কিছু দূরে কাশীপুর বাজারে নিয়ে গল্প করার ফাঁকে তাঁকে কোমল পানীয় দেওয়া হয়। তাতে মেশানো ছিল চেতনানাশক কিছু। খাওয়ার পর জামাল বেসামাল হয়ে পড়েন। তখনই ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয় তাঁকে।
অত রাতে মফস্বল এলাকার ওই বাজারে লোকজন বেশি ছিল না। কিছু লোক জামালের লাশ উদ্ধার করে রাত ১১টার দিকে। তারা খুনিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশকে অনুরোধ করে। কিন্তু পুলিশ খুনিদের গ্রেপ্তার না করে উল্টো পালিয়ে যেতে সহায়তা করে বলে অভিযোগ রয়েছে।
জামালের ভাই আশরাফুল ইসলাম বললেন, ‘কিলারদের দেইখে লোকজন পুলিশকে বলল, “ভাই, ওই দ্যাখেন, খুনিরা যাইতেছে।” পুলিশ বলল, “তোমাদের কিছু করতি হবি না, আমরা দেখছি।” তারা টাইম দেলে আর খুনিরা চলে গেল। এরপর ক্ষোভে দুই সন্দেহভাজন খুনি তোতা ও বজলুর বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় জনতা।’
খুনের পর মামলার দুই আসামি রাজু মল্লিক ও লতা বেগমকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। তাঁরা দুজনই ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। রাজু স্বীকারোক্তিতে বলেন, খুনের ২০-২৫ দিন আগে তাঁরা গোপন বৈঠক করেন। পরিকল্পনা ছিল জামালের হাত-পা কেটে নেওয়ার ও চোখ তুলে ফেলার। প্রাণে মারার পরিকল্পনা ছিল না।
সরেজমিনে অনুসন্ধান করতে গিয়ে দেখা গেছে, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে আছে চোরাচালান ও মাদক ব্যবসার স্বার্থ। জামাল উদ্দীন ছিলেন যশোর থেকে প্রকাশিত দৈনিক গ্রামের কাগজ পত্রিকার কাশীপুর প্রতিনিধি। তিনি স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী চক্রের কর্মকাণ্ড নিয়ে নিয়মিত লিখতেন। মাদক ব্যবসায়ীরা তাঁকে কয়েকবার হুমকিও দিয়েছিলেন। স্থানীয় পত্রিকায় হুমকির খবর ছাপা হয়েছিল।
কাশীপুর বাজার থেকে হাঁটাপথে একটু গেলেই জামালের বাড়ি। বাড়ি বলতে একটিমাত্র মাটির ঘর। এতে আসবাব বলতে আছে একটি চৌকি। বাড়ির দুই কাঠা জমিই তাঁর সম্বল। স্ত্রী সোনালী বেগম, দুই মেয়ে সুমাইয়া আকতার, সুমনা আকতার এবং ছেলে তন্ময় ইসলামকে নিয়ে জামালের সংসার। সাংবাদিকতার বাইরে বেনাপোলের বাস মালিক সমিতির সময় নিয়ন্ত্রকের কাজ করতেন তিনি। এলাকার মানুষের কাছে ‘ভালো মানুষ’ বলে পরিচিতি ছিল তাঁর।
কাশীপুর গ্রামটি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া। বাজারের দোকানি আরমান আলী জানান, গ্রামের আশপাশে ছয়-সাতটি চোরাচালানের ঘাট আছে। প্রতি মাসে এসব ঘাট থেকে পুলিশ ও বিজিবির আয় লাখ লাখ টাকা। কাশীপুরের বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম বিজিবির পক্ষে এসব ঘাট নিয়ন্ত্রণ করেন। আর পুলিশের পক্ষে নিয়ন্ত্রণ করেন চোরাচালানি খলিলুর রহমান ওরফে তোতা মল্লিক। তাঁর সঙ্গে আছেন দুই ভাই রাজু মল্লিক ও উকিল মল্লিক। গ্রামের বাসিন্দা সবুজ ও জসিম এই দলের সদস্য। কাশীপুর গ্রাম থেকে একটু দূরে শার্শা থানার পুলিশের গৌরপাড়া ফাঁড়ি। এই ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত (ইনচার্জ) এএসআই মাসুদুর রহমান। মাসুদুরের পক্ষে কনস্টেবল শহিদুল ইসলাম ঘাট থেকে টাকা আদায় করেন।
জামাল উদ্দীনের বাবা আবদুল আলিম বললেন, দেড় মাস আগে কাশীপুর ঘাট দিয়ে গ্যাসের সিলিন্ডার (গাড়ির এসিতে ব্যবহারের উপযোগী) পাচারে বাধা দেন জামাল। শরিফুল ও তোতা এটা পাচার করছিলেন। পরে জামাল থানায় খবর দিয়ে এসব ধরিয়ে দেন। এতে ফাঁড়ির ইনচার্জ ও চোরাচালানিরা ক্ষুব্ধ হন। এ ঘটনার পরই জামালকে খুন করার পরিকল্পনা করেন তাঁরা। তিনি অভিযোগ করেন, এএসআই মাসুদুর এর আগে নানা খবর প্রকাশের কারণে জামালকে হুমকি দেন। এএসআই মাসুদুরের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় প্রধান আসামি তোতা তাঁকে বলেন, ‘আমি ডাইরেক্ট বলেছি, দেখ বাবা, তোমরা যে মাসুদ ভাইয়ের নামে লেখালেখি করতেছ, তা মাসুদ ভাই আইনের লোক, কিছু করতে পারবা না।’
অবশ্য জেলা পুলিশের কর্তাব্যক্তিরা মাসুদুরের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ মানতে একেবারেই নারাজ। তাঁদের দাবি, চোরাকারবারিরাই সবকিছু করেছেন।
জানতে চাইলে শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম ফারুক হোসেন পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘পুলিশ কি মার্ডার করে? এর কোনো এভিডেন্স আছে?’ তাঁর দাবি, আগে জামালের বাড়িতে একটি সালিসি বৈঠকে তোতার ভাই উকিল মল্লিককে মারধর করা হয়েছিল। উকিল খুবই ভয়ংকর। জামালের ওপর তাঁর রাগ ছিল। খুন করে উকিল ভারতে পালিয়ে গেলে সেখানকার পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
মাসুদুরের পক্ষে একই কথা বলেছেন জেলার পুলিশ সুপার কামরুল আহসান। তিনি বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে গৌরপাড়া ফাঁড়ির ইনচার্জের অভিযোগ আমরা পেয়েছিলাম। একজন এএসপির নেতৃত্বে এ ঘটনা তদন্ত করে আমরা নিশ্চিত হয়েছি, ঘটনার সঙ্গে মাসুদুরের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।’ এজাহারভুক্ত আসামির সঙ্গে মাসুদুরের টেলিফোনে কথা বলার ব্যাপারে জানতে চাইলে পুলিশ সুপার বলেন, ‘এটা সাজানো হতে পারে।’
র্যাবের ছায়া তদন্ত: পুলিশের পাশাপাশি জামাল খুনের ঘটনার তদন্ত করছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। র্যাবের কর্মকর্তারা এ ঘটনা নিবিড় তদন্ত করে নিশ্চিত হন যে এএসআই মাসুদুরের পরিকল্পনায়ই খুন হন জামাল। শুধু খুনই নয়, ঘটনার পর এএসআই মাসুদুর প্রধান অভিযুক্ত তোতা মল্লিকের সঙ্গে টেলিফোনে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করেছেন। তাঁকে মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। কীভাবে তিনি বেঁচে যেতে পারেন, সে ব্যাপারে পরামর্শ দিয়েছেন। এর প্রমাণ র্যাবের গোয়েন্দাদের হাতে আছে।
র্যাবের গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়, জামালকে খুনের ঘটনায় তোতা মল্লিককে সহায়তা করেন বিজিবির সোর্স শরিফুল, বজলু, জসিম ও দুই ভারতীয়। তাঁদের একজনের নাম নাসির, অন্যজনের নাম জানা যায়নি। নাসিরের বাড়ি সীমান্তের ওপারে ভারতের বয়রা এলাকায়। খুনের আগে এদের জড়ো করতে সহায়তা করেন এএসআই মাসুদুর রহমান। তিনিই প্রধান আসামি তোতাকে খুনের ব্যাপারে প্ররোচিত করেন।
নিহত জামালের স্ত্রী সোনালী বেগম বলেন, ‘দারোগা মাসুদ আর চোরাচালানিরা মিলে আমার স্বামীরে খুন কইরে ফেলাইছে। আমরা গরিব মানুষ বইলে কিছু করতি পারতিছি নে।’
খুনের পরিকল্পনা ও এটি বাস্তবায়ন করেই ক্ষান্ত হননি এই কর্মকর্তা। এ নিয়ে ‘বাড়াবাড়ি’ না করতে জামালের পরিবারকে চাপও দেন তিনি। খুনের পর প্রধান আসামির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগও ছিল তাঁর। শুধু যোগাযোগ নয়, প্রধান আসামিকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার চেষ্টাও করছেন শার্শা থানার গৌরপাড়া ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান।
নিতান্ত সাধারণ জীবন যাপন করতেন সাংবাদিক জামাল উদ্দীন। কিন্তু তাঁর খুনের ঘটনা খুবই লোমহর্ষক। ১৫ জুন রাত সাড়ে ১০টায় জামালকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় পরিচিত কিছু লোক। বাড়ি থেকে কিছু দূরে কাশীপুর বাজারে নিয়ে গল্প করার ফাঁকে তাঁকে কোমল পানীয় দেওয়া হয়। তাতে মেশানো ছিল চেতনানাশক কিছু। খাওয়ার পর জামাল বেসামাল হয়ে পড়েন। তখনই ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয় তাঁকে।
অত রাতে মফস্বল এলাকার ওই বাজারে লোকজন বেশি ছিল না। কিছু লোক জামালের লাশ উদ্ধার করে রাত ১১টার দিকে। তারা খুনিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশকে অনুরোধ করে। কিন্তু পুলিশ খুনিদের গ্রেপ্তার না করে উল্টো পালিয়ে যেতে সহায়তা করে বলে অভিযোগ রয়েছে।
জামালের ভাই আশরাফুল ইসলাম বললেন, ‘কিলারদের দেইখে লোকজন পুলিশকে বলল, “ভাই, ওই দ্যাখেন, খুনিরা যাইতেছে।” পুলিশ বলল, “তোমাদের কিছু করতি হবি না, আমরা দেখছি।” তারা টাইম দেলে আর খুনিরা চলে গেল। এরপর ক্ষোভে দুই সন্দেহভাজন খুনি তোতা ও বজলুর বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় জনতা।’
খুনের পর মামলার দুই আসামি রাজু মল্লিক ও লতা বেগমকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। তাঁরা দুজনই ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। রাজু স্বীকারোক্তিতে বলেন, খুনের ২০-২৫ দিন আগে তাঁরা গোপন বৈঠক করেন। পরিকল্পনা ছিল জামালের হাত-পা কেটে নেওয়ার ও চোখ তুলে ফেলার। প্রাণে মারার পরিকল্পনা ছিল না।
সরেজমিনে অনুসন্ধান করতে গিয়ে দেখা গেছে, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে আছে চোরাচালান ও মাদক ব্যবসার স্বার্থ। জামাল উদ্দীন ছিলেন যশোর থেকে প্রকাশিত দৈনিক গ্রামের কাগজ পত্রিকার কাশীপুর প্রতিনিধি। তিনি স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী চক্রের কর্মকাণ্ড নিয়ে নিয়মিত লিখতেন। মাদক ব্যবসায়ীরা তাঁকে কয়েকবার হুমকিও দিয়েছিলেন। স্থানীয় পত্রিকায় হুমকির খবর ছাপা হয়েছিল।
কাশীপুর বাজার থেকে হাঁটাপথে একটু গেলেই জামালের বাড়ি। বাড়ি বলতে একটিমাত্র মাটির ঘর। এতে আসবাব বলতে আছে একটি চৌকি। বাড়ির দুই কাঠা জমিই তাঁর সম্বল। স্ত্রী সোনালী বেগম, দুই মেয়ে সুমাইয়া আকতার, সুমনা আকতার এবং ছেলে তন্ময় ইসলামকে নিয়ে জামালের সংসার। সাংবাদিকতার বাইরে বেনাপোলের বাস মালিক সমিতির সময় নিয়ন্ত্রকের কাজ করতেন তিনি। এলাকার মানুষের কাছে ‘ভালো মানুষ’ বলে পরিচিতি ছিল তাঁর।
কাশীপুর গ্রামটি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া। বাজারের দোকানি আরমান আলী জানান, গ্রামের আশপাশে ছয়-সাতটি চোরাচালানের ঘাট আছে। প্রতি মাসে এসব ঘাট থেকে পুলিশ ও বিজিবির আয় লাখ লাখ টাকা। কাশীপুরের বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম বিজিবির পক্ষে এসব ঘাট নিয়ন্ত্রণ করেন। আর পুলিশের পক্ষে নিয়ন্ত্রণ করেন চোরাচালানি খলিলুর রহমান ওরফে তোতা মল্লিক। তাঁর সঙ্গে আছেন দুই ভাই রাজু মল্লিক ও উকিল মল্লিক। গ্রামের বাসিন্দা সবুজ ও জসিম এই দলের সদস্য। কাশীপুর গ্রাম থেকে একটু দূরে শার্শা থানার পুলিশের গৌরপাড়া ফাঁড়ি। এই ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত (ইনচার্জ) এএসআই মাসুদুর রহমান। মাসুদুরের পক্ষে কনস্টেবল শহিদুল ইসলাম ঘাট থেকে টাকা আদায় করেন।
জামাল উদ্দীনের বাবা আবদুল আলিম বললেন, দেড় মাস আগে কাশীপুর ঘাট দিয়ে গ্যাসের সিলিন্ডার (গাড়ির এসিতে ব্যবহারের উপযোগী) পাচারে বাধা দেন জামাল। শরিফুল ও তোতা এটা পাচার করছিলেন। পরে জামাল থানায় খবর দিয়ে এসব ধরিয়ে দেন। এতে ফাঁড়ির ইনচার্জ ও চোরাচালানিরা ক্ষুব্ধ হন। এ ঘটনার পরই জামালকে খুন করার পরিকল্পনা করেন তাঁরা। তিনি অভিযোগ করেন, এএসআই মাসুদুর এর আগে নানা খবর প্রকাশের কারণে জামালকে হুমকি দেন। এএসআই মাসুদুরের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় প্রধান আসামি তোতা তাঁকে বলেন, ‘আমি ডাইরেক্ট বলেছি, দেখ বাবা, তোমরা যে মাসুদ ভাইয়ের নামে লেখালেখি করতেছ, তা মাসুদ ভাই আইনের লোক, কিছু করতে পারবা না।’
অবশ্য জেলা পুলিশের কর্তাব্যক্তিরা মাসুদুরের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ মানতে একেবারেই নারাজ। তাঁদের দাবি, চোরাকারবারিরাই সবকিছু করেছেন।
জানতে চাইলে শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম ফারুক হোসেন পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘পুলিশ কি মার্ডার করে? এর কোনো এভিডেন্স আছে?’ তাঁর দাবি, আগে জামালের বাড়িতে একটি সালিসি বৈঠকে তোতার ভাই উকিল মল্লিককে মারধর করা হয়েছিল। উকিল খুবই ভয়ংকর। জামালের ওপর তাঁর রাগ ছিল। খুন করে উকিল ভারতে পালিয়ে গেলে সেখানকার পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
মাসুদুরের পক্ষে একই কথা বলেছেন জেলার পুলিশ সুপার কামরুল আহসান। তিনি বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে গৌরপাড়া ফাঁড়ির ইনচার্জের অভিযোগ আমরা পেয়েছিলাম। একজন এএসপির নেতৃত্বে এ ঘটনা তদন্ত করে আমরা নিশ্চিত হয়েছি, ঘটনার সঙ্গে মাসুদুরের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।’ এজাহারভুক্ত আসামির সঙ্গে মাসুদুরের টেলিফোনে কথা বলার ব্যাপারে জানতে চাইলে পুলিশ সুপার বলেন, ‘এটা সাজানো হতে পারে।’
র্যাবের ছায়া তদন্ত: পুলিশের পাশাপাশি জামাল খুনের ঘটনার তদন্ত করছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। র্যাবের কর্মকর্তারা এ ঘটনা নিবিড় তদন্ত করে নিশ্চিত হন যে এএসআই মাসুদুরের পরিকল্পনায়ই খুন হন জামাল। শুধু খুনই নয়, ঘটনার পর এএসআই মাসুদুর প্রধান অভিযুক্ত তোতা মল্লিকের সঙ্গে টেলিফোনে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করেছেন। তাঁকে মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। কীভাবে তিনি বেঁচে যেতে পারেন, সে ব্যাপারে পরামর্শ দিয়েছেন। এর প্রমাণ র্যাবের গোয়েন্দাদের হাতে আছে।
র্যাবের গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়, জামালকে খুনের ঘটনায় তোতা মল্লিককে সহায়তা করেন বিজিবির সোর্স শরিফুল, বজলু, জসিম ও দুই ভারতীয়। তাঁদের একজনের নাম নাসির, অন্যজনের নাম জানা যায়নি। নাসিরের বাড়ি সীমান্তের ওপারে ভারতের বয়রা এলাকায়। খুনের আগে এদের জড়ো করতে সহায়তা করেন এএসআই মাসুদুর রহমান। তিনিই প্রধান আসামি তোতাকে খুনের ব্যাপারে প্ররোচিত করেন।
নিহত জামালের স্ত্রী সোনালী বেগম বলেন, ‘দারোগা মাসুদ আর চোরাচালানিরা মিলে আমার স্বামীরে খুন কইরে ফেলাইছে। আমরা গরিব মানুষ বইলে কিছু করতি পারতিছি নে।’


0 মন্তব্য:
Post a Comment
আপনার মতামত দিন